অনিয়ম আর অবেবস্থাপনায় ভরপুর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক

ইস্কাটন গার্ডেন রোড – এ  অবস্থিত হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক নানা রকম অনিয়ম আর অবেবস্থাপনার মধ্য দিয়ে চলছে। এখানে রক্ত সংরক্ষণ করা জন্য হিমঘর না থাকা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত তাপমাত্রা না থাকা, ফ্রিজে সংরক্ষিত বেশির ভাগ ব্লাড ব্যাগগুলোতে ৪০০-৪৫০ গ্রাম রক্ত সংরক্ষণ করার কথা থাকলেও প্রতিটি ব্লাড ব্যাগে আছে ২৫০-৩৫০ গ্রাম, ব্লাড ক্যালেকশন ট্রে না থাকা, ব্লাড ক্যালেকশনের জন্য কনসালটেন্ট থাকার কথা থাকলেও নিয়মিত উপস্থিত না থাকা, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ল্যাব টেকনিশিয়ান না থাকাসহ আরও অনেক অনিয়ম হাসপাতালটিতে বিদ্যমান। আবার এখানে অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জও নেয়ার অভিযোগও রয়েছে। এখানে আসা রক্ত দাতাদের প্রায় প্রত্যেকেই এমন অভিযোগ করেন। এই হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে রক্ত দিতে এসে শাওন নামের একজন ব্যাক্তি বলেন যে, তাদের এই ব্লাড ব্যাংকে কোনো কিছুরই ঠিক নেই। তারা ক্রসম্যাচ না করেই ব্লাড নিচ্ছে। রক্ত দেয়ার আগে ও পরে কমপক্ষে দুই গ্লাস পানি পান করা উচিত। কিন্তু তারা তা দেয়না। পানি চাইলে তারা বলে যে বাইরে থেকে কিনে খেতে হবে। এ ব্যাপারে রাশেদ খান নামের অপর এক ব্যাক্তি বলেন যে, যেকোনো ব্লাড ব্যাংকে ব্লাড কনসালটেন্ট থাকে। কিন্তু এখানে যিনি ব্লাড নিচ্ছেন তিনি মনে হচ্ছে এখানেরই একজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী।

হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল ব্লাড ব্যাংকে দায়িত্বরত ব্লাড কনসালটেন্ট কোনো রকম ডিগ্রী ছাড়া এবং কোনো নিয়ম-নিতির তোয়াক্কা না করেই দাতার শরীর থেকে রক্ত নিচ্ছেন।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় যে, ব্লাড ব্যাংকটির পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা। এখানে রক্ত দাতার ওজন মাপার জন্য কোনো নিক্তি নেই। ব্লাড পেসার ও ওজন না মেপেই রক্ত নেয়া হচ্ছে। এখানে বেড আছে মাত্র একটি। রক্ত নেয়ার পরে রক্ত দাতার কমপক্ষে ৩০মিনিট বিশ্রাম নেয়া উচিত। কিন্তু বেড সল্পতার কারনে তাদেরকে দুই মিনিটও বিশ্রাম নিতে দেয়া হয়না। আবার এক গ্লাস পানিও এখান থেকে রক্ত দাতাকে পানের জন্য দেয়া হয়না। আবার যিনি ব্লাড কনসালটেন্ট-তার গায়ে কোনো এপ্রন নেই। কোনো রকম ডিগ্রী ছাড়াই তিনি রক্ত সংগ্রহ করছেন। আবার এখানে ব্লাড কালেকশন ট্রে না থাকায় ওই ব্যাক্তি হাত দিয়ে রক্তের ব্যাগ নাড়াচাড়া করছেন এবং রক্তের ওজন না মেপেই তা সংগ্রহ করছেন।

নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন আইন অনুযায়ী ব্লাড ব্যাংকগুলোতে রক্ত পরিসঞ্চালন বিশেষজ্ঞ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক, প্রযুক্তিবিদ, ল্যাব সহকারী ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, রক্ত সংগ্রহ, সংরক্ষণ প্রণালী আধুনিক ও উন্নত থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু এ  ব্লাড ব্যাংকটি এসব নিয়ম তো মানেইনি বরং অনিয়ম করেছে।

এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে হলি ফ্যামিলি ব্লাড ব্যাংকের একজন দায়িত্বরত ডাক্তার বলেন, ব্লাড কনসালটেন্ট যিনি আছেন তিনি একজন অভিজ্ঞ ব্যাক্তি। তাছাড়া আমাদের ব্লাড ব্যাংকটি অনেক পুরাতন তাই অনেক কিছুরই এখানে অভাব আছে। পর্যায়ক্রমে এই ব্লাড ব্যাংকটি আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। আশা করি খুব শীঘ্রই  আমরা সকল সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হব।

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।