অন্যের জন্য প্রশান্ত

প্রশান্ত দাস। পেশায় একজন পান-সুপারির দোকানদার। দুই সন্তান আর স্ত্রী নিয়ে তার সুখের সংসার। মেয়েটি পড়ে ক্লাশ সেভেনে আর ছেলেটি মাত্র ক্লাশ ওয়ানে।প্রশান্ত নিজেও একজন শিক্ষিত সচেতন ব্যক্তি। করেছেন ইন্টারমেডিয়েট পাশ।এরপর বাবার সাথে পরিবারের হাল ধরেন।বন্ধ রাখতে হয় পড়াশুনা। প্রশান্ত তার বাবার পরিবারে পাচঁ বোনের এক ভাই ছিলেন।তার বাবা পানের ব্যবসা করতেন। বোনদের বিয়ে তাদের অনেক টাকা খরচ করতে হয়। আট জনের পরিবারে তার বাবা ছিল একমাত্র উপার্যনক্ষম।তার বাবার একার পক্ষে পরিবারের খরচ মিটানো সম্ভব ছিল না।

তাই তিনি ইন্টারমেডিয়েট পাশ করে বাবার সাথে পানের ব্যবসা শুরু করেন।এরপর একে একে বোনদের বিয়ে দেন। তাদের কিছু পানের বড়(বাগান) ছিল। সেগুলোর পান তুলে সাজিতে করে বাবার সাথে বাজারে বিক্রি করেতেন। এভাবে বাবার সাথে দশ বছর পান বিক্রি করেন। বোনদের বিয়ে দেয়ার পর বিয়ে করেন নিজে। তাই ব্যবসার পরিধিও একটু বড় করেন। বাজারে একটি দোকান ভাড়া নেন। দশ বছর সাজিতে করে পান বিক্রি করেন বাবার সাথে। শিখেন ব্যবসার নানা কৌশল।এখন নিজের পরিবার হয়েছে তাই নিজেই একটি দোকান ভাড়া নিয়েছেন। দোকান ভাড়া বাৎসরিক ৪২০০০/ হাজার টাকা।দোকানে পান, সুপাড়ি, জরদা, কলা, দাঁতের মাজন, গোলাপজল, ম্যাচ ও সিগারেট বিক্রি করেন।পানের বিড়া ৬০-১০০ টাকা। ভলো হলে আরো বেশি। এক বিড়ায় পান থাকে ৭২ টি করে। আর এক সাজিঁতে পান থাকে ৮০-১০০ বিড়া। এভাবে পান ও অন্যান্য জিনিস বিক্রি করে তার দিনে ৩০০-৫০০ টাকা আয় হয়্। দোকানের বয়স প্রায় পনের বছর তাই অনেক কাস্টমারই তার পরিচিত।এভাবেই চলছে প্রশান্ত দাসের পান-সুপারির দোকান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।