অপার আনন্দের গোলাপ স্বর্গ ঘুরে

গ্রামটি গোলাপের স্বর্গ। রোজধানীর এত কাছে গোলাপ স্বর্গে যাওয়ার সুযোগ কে ছাড়ে? অন্তত: আমি ছাড়িনি। ঢাকার অদুরে তুরাগ নদীর তীরে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের একটি গ্রামে এই অবারিত গোলাপের বাগান। গ্রামের নাম সাদুল্যাপুর। সকালে গিয়ে রাতই ফেরা যায়। বারমাস স্বাগত জানাবে লাল টুকটুকে প্রেমের গোলাপ তার রাজ্যে।  গ্রামটি নবাবদের বাইগুন বাড়ি নামে খ্যাত। এখানে নবাবদের একটি জাঁকালো প্রাসাদ ছিল। নবাব আহসানুল্লার সময়ে একটি মসজিদও নির্মাণ করা হয়েছিল। এখন কিছ্ইু নেই। শুধু মাত্র কালের সাক্ষী হয়ে কিছু ধ্বসংসাবশেষ রয়ে গেছে। গ্রামবাসীর নিজস্ব কোন জায়গা-জমি নেই। এমনকি তাদের বসত ভিটার মালিকও তারা নন। নবাবদের এস্টেট থেকে ভাড়া নিয়ে কিংবা ইজারা নিয়ে বসবাস করছে গ্রামের লোকজন।

দিয়াবাড়ি বটতলা ঘাট থেকে সাদুল্লাহপুর ঘাটে যাওয়ার সময়টা সত্যি মুগ্ধ হবার মতো। ঘাঁটে সারিবাঁধা নৌকা। নদীর দুই তীরের মনোরম দৃশ্য নিঃসন্দেহে আপ্লুত করবে নাগরিক জটিলতায় ভরা মনকে আপ্লুত করবে অপার বিমুর্ত আনন্দে।  একটি-দু’টি নয় চোখ যতদূর যায়, শুধু লাল-সাদা গোলাপের সমারোহ! ঘাট থেকেই ভেসে আসবে গোলাপের সুগন্ধ। সুগন্ধ আর চোখ জুড়ানো দৃশ্য নিয়ে সেজে আছে পুরো গ্রাম। সাদুল্লাপুর গ্রাম হলেও পুরোটাই গোলাপের বাগান দিয়ে পরিপূর্ণ। গোলাপের নয়নাভিরাম দৃশ্য ও মনমুগ্ধকর সুবাস গ্রাস করবে যে কোন দর্শনার্থীকে। গ্রামের বুক চিরে চলে গেছে আঁকাবাঁকা সরু পথ। তার দু’পাশে বিস্তীর্ণ গোলাপের বাগান। ফুটে থাকা গোলাপের সৌরভে মাতোয়ারা বাতাস। নানা রঙের গোলাপ ফুলের সঙ্গে আছে জারভারা, গ্লাডিওলাস।

গোলাপে চলে স্থানীয়দের সংসার। কিন্তু গোলাপের মত অতটা সুরভিত নয় তাদের জীবন। তবে চলে যায়। লাভ খুব একটা মন্দ নয়। কষ্ট বাড়ে বৃষ্টিতে। ছোট গাছের চারা নষ্ট হয়ে যায়। গোলাপচাষি জব্বার হোসেনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, প্রতিদিন বিকেল হওয়ার একটু আগে থেকে বাগান থেকে গোলাপ তোলার কাজ শুরু হয়। সাদুল্লাহপুর ও এর আশপাশে রয়েছে তিনটি ফুলের হাট। ফুল তুলে এসব হাটে নিয়ে যাওয়া হয়। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলার বড় বড় ফুল ব্যবসায়ীরা ফুল কিনতে আসেন এসব হাটে। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত চলে ফুল বেচাকেনা। ভোর হওয়ার আগেই গোলাপ গ্রামের ফুল পৌঁছে যায় ঢাকার শাহবাগ, খামারবাড়িসহ বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা ফুল বিক্রির দোকানে। ঢাকার বাইরেও যায় এই গ্রামের ফুল। তিনি বলেন, গ্রামের অধিকাংশ মানুষের সংসার চলে গোলাপ বিক্রি করে। গোলাপ বিক্রি করে লাভও মোটামুটি সন্তোষজন। তবে অতিবৃষ্টিতে আমাদের একটু সমস্যায় পড়তে হয়। ছোট ছোট গাছের চারা নষ্ট হয়ে যায়।

‘ নদীর দুই তীরের মনোরম দৃশ্য নিঃসন্দেহে আপ্লুত করবে নাগরিক জটিলতায় ভরা মনকে আপ্লুত করবে অপার বিমুর্ত আনন্দে। একটি-দু’টি নয় চোখ যতদূর যায়, শুধু লাল-সাদা গোলাপের সমারোহ! ঘাট থেকেই ভেসে আসবে গোলাপের সুগন্ধ। সুগন্ধ আর চোখ জুড়ানো দৃশ্য নিয়ে সেজে আছে পুরো গ্রাম।’

যেভাবে যাবেন গোলাপ গ্রামে

ঢাকার মিরপুরের দিয়াবাড়ি নৌকা ঘাট থেকে কিছুক্ষণ পরপরই সাদুল্লাহপুর নৌকা ঘাটে ইঞ্জিনচালিত নৌকা যায়। যাত্রী প্রতি নেওয়া হয় ২০ টাকা। সাদুল্লাহপুর ঘাটে নেমেই গোলাপ গ্রামের পিচঢালা পথ। আর সেখান থেকে স্থল পথে ঢাকা আসতে চাইলে সাভার হয়ে ঘুরে আসতে হবে। তবে শীতকালে গোলাপ গ্রামে যাওয়াই ভালো। তখন গোলাপের গন্ধে ভরে যায় পুরো গ্রাম। যারা সাঁতার জানেন না তাদের স্থলপথে গোলাপ গ্রামে যাওয়াই ভাল। আর যারা নৌপথে ভ্রমণ করবেন তারা সন্ধ্যা ৭ থেকে ৮টার মধ্যে ফেরার চেষ্টা করবেন। কারন ৮টার পর নৌ চলাচল করে না।

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।