অবহেলিত সমাজের প্রতিচ্ছবি

রবিউল আউয়াল নয় বছরের এক শিশু। তিন ভাইসহ বাবা-মা নিয়ে পাঁচ সদস্যের পরিবারে সে দ্বিতীয় ছেলে। বাবা কাঠমিস্ত্রির কাজ করেন, মা গৃহিণী আর পরিবারের বাড়তি আয়ের জন্য বড় ভাই ঢাকায় কাজ করে পরিবারে মাসে ২০০০ টাকা করে যোগান দেয়। রবিউলের বাবার একটু মানসিক অসুস্থতা ছিল, ছিল একটু পাগলাটে। তাই প্রায়ই মলমালিন্য হত রবিউলের বাবা-মার মধ্যে, যা একদিন বিচ্ছেদে রূপ নেয়। একটি সুখের পরিবার আজ ৪ ভাগে চুরমার। রবিউলের মা চলে গেছে বাবার বাড়িতে হয়তো আর ফিরবে না কখনোই। রবিউল এখনো এই বিচ্ছেদের মর্ম বোঝে না। জিজ্ঞেস করলে বলে মা নানা বাড়িতে থাকে। রবিউল স্কুলে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছিল, কিন্তু কলহের পরিবারে ও আর পড়ার মর্ম বুঝে উঠতে পারেনি। তাই এখনো শিখতে পারেনি জীবনের হাতে খড়ি। হয়তো কেউ কোনদিন রবিউলকে নিয়ে বসেনি পড়ার টেবিলে, হয়তো কেউ শিখায়নি ওকে দুই আর দুইয়ে চার। রবিউল জানে না ওর ভবিষ্যৎ কী। কী হবে ওর জীবনের গতি। ও শুধু তিন বেলা খাবার পেলেই খুশি। তাই সুজোগে পাশের বাড়ির কাকা নিয়ে কাজ দিল হোটেলে , রবিউলের বাবারও সায় ছিল এতে। রবিউলের এখন “কাজের বিনিময় খাদ্য” নিয়ে চলছে জীবন। রবিউল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলার একটি হোটেলে কাজ করে। শিক্ষার এই শ্রেষ্ঠ পিঠস্থানে থেকেও হয়তো রবিউল কখনো কাজের বিনিময় শিক্ষা কিংবা বিনামূল্য শিক্ষা পাবেনা। রবিউলের ছোট ভাইটি এখন বাবার সাথে থাকে সেও একদিন কাজে যাবে এভাবেই। একটি শিক্ষাবিহীন শিশু অবহেলিত সমাজের প্রতিচ্ছবি।

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।