অসচেতনতা না গুরুত্বের অভাবে ট্রেনে কাটা পড়ছে বহু জীবন

”রাস্তায় ঘন্টার পর ঘন্টা মানুষ জ্যামে বসে কাটায়,বাসায় টেলিভিশন দেখে,ফেসবুকে কাটায় কিন্তু রেল যাওয়ার জন্য তারা পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করতে পারে না।”

 

ঝক ঝক ঝক ট্রেন চলেছে

রাত দুপুরে অই।

ট্রেন চলেছে,ট্রেন চলেছে

ট্রেনের বাড়ি কই?

শামসুর রহমানের ট্রেন কবিতাটি ছোট বেলায় মনে ছন্দের দাগ কাটেনি এমন মানুষ খুঁজে  পাওয়া কষ্টের।কিন্তু বাস্তব জীবনে সব সময় এই ঝক ঝক শব্দ মনে ছন্দের দাগ কেটে যায় না।এইত কদিন আগে রেললাইনের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এই ঝক ঝকাঝক শব্দ খুব বিচ্ছিরি ভাবেই দাগ কেটে গেল।রেললাইনের প্রায় ১০গজ রাস্তায় পড়েছিল মানুষটির শরীরের বিভিন্ন অংশ।এক দৃষ্টিতে দেখে বুঝাও মুশকিল ছিল কোনটা  হাত,কোনটা পা বা মাথা।কে জানে কার সন্তান,ভাই বা স্বামী ছিল।ভাবতেও অবাক লাগছিল পরিবার থেকে হারিয়ে যাওয়া মানুষটির এমন পরিণতির সংবাদ কি পাবে তার পরিবার।প্রায় সময়ই আমরা রেল লাইনে মানুষ কাটা পড়ার সংবাদ  সংবাদপত্রে বা লোকমুখেও শুনতে পাই।কখনো তাদের পরিচয় পাওয়া যায় কখনো যায় না।কিন্তু এক বার ও কি ভেবেছি রেল সর্বোচ্চ শব্দ দূষণ কারী যান।যার আওয়াজ দূর দুরান্ত থেকে শুনা যায়।তার পরেও মানুষ কেন এমন দুর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে।তাই কথা বলি সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা গেট ব্যারিয়ার নিয়ন্ত্রকের সাথে।মো আবুল বাসার, তিনি জানান প্রায় তের বছর ধরেই E-20/A নং রেলগেটে কাজ করছেন তিনি।তাবে তার চাকুরী স্থায়ী হয়নি এখনো।তারা তিনজন ৮ঘন্টা করে সিফটিং ডিউটি করছেন।রেল আসার দুই থেকে তিন মিনিট আগেই গেট ব্যারিয়ারের হাতল ঘুরিয়ে রাস্তার দুপাশের যান চলাচল ও মানুষের পারাপার আটকে রাখেন।

তবে রেল আসার পূর্ব মূহূর্তে কোন বিশেষ সিগনাল পান না তিনি।কর্মঘণ্টার আট ঘন্টাই তাকিয়ে থাকতে হয় রেললাইনের দু পাশেই।রেল আসতে দেখে সাথে সাথেই গেট ব্যারিয়ার নামিয়ে ফেলেন।তবে কিছু কিছু অতি ব্যাস্ত যান চালকদের জন্য তাকে পড়তে হয় বিড়ম্বনায়।মাঝে মাঝে তাদের হাতে লাঠি নিয়েও তাদের তাড়াতে হয়।তিনি বলেন-”রাস্তায় ঘন্টার পর ঘন্টা মানুষ জ্যামে বসে কাটায়,বাসায় টেলিভিশন দেখে,ফেসবুকে কাটায় কিন্তু রেল যাওয়ার জন্য তারা পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করতে পারে না।” তিনি আরো বলেন – “বর্তমানে মানুষ রেলে কাটা পড়ার প্রধান কারণ হল কানের হেডফোন বা মোবাইলে কথা বলা।আবার কখনো কখনো নিজেরা আত্মহত্যা ও করে।” কাজ করতে গিয়ে তাদের নানা প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে।যেমন রেল আসার পূর্বে তেমন কোন বিশেষ সিগন্যাল নেই।কোথাও কোথাও বিশেষ আলোর ব্যবস্থাও নেই।নির্দিষ্ঠ রেল গেট বাদে অন্য দিকে আগানোর সুযোগ তাদের নেই।এছাড়া তাদের কোন সৌচাগার ব্যবস্থাও নেই।সে জন্য তাদের আশে পাশের দোকান,মার্কেট বা রাস্তার কিনারাও ব্যবহার করতে হয় যা অত্যান্ত অস্বস্তিকর।এ সময়গুলোতে গেটের আশেপাশের চায়ের দোকান বা মুদি দোকানদার সহযোগিতা করেন।তবে এ সময়টুকু থাকে অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ।যাতায়াত ব্যবস্থা একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে।তাই যে কোন যাতায়াত ব্যবস্থাই নিরাপদ হওয়া উচিৎ। রেল যাতায়াতের মাধ্যমে প্রতিদিন হাজারো মানুষ এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্তে ছুটে বেড়ান।কাজেই কারো এই ছুটে বেড়ানো যেন অন্য কারোর জীবনের জন্য হুমকি না হয়ে ওঠে।তাই সচেতনতার জন্য প্রয়োজন নানা পদক্ষেপ।যেমনটি রেল মাস্টার বলেন,রেল আসার পূর্বে বিশেষ কোন বেলের ব্যবস্থা ও সাথে আলোর ব্যবস্থা করা গেলে মানুষ সহজে বুঝতে পারতো যে সামনে রেল আসছে।তা ছাড়া তার সাথে কথা বলে আরো জানা যায় তারা তিন মাস ধরে কোন বেতন পাচ্ছেন  না।নেই কোন বোনাস।ছুটির ও কোন নিয়মিত সুযোগ নেই।এমন অবস্থায় একজন রেলকর্মীর কাজের মনোযোগ হারানোর সম্ভাবনাও বেশি।তাই এসব সমস্যা সমাধানের যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষনই আমাদের কামনা।সর্বোপরি মানুষের নিজের সচেতনতার বিষয়ে নিজে আগ্রহী না হলেও কোন সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

২৯/১/১৭

সানজিদা পিংকি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।