অসহায় শিশু যখন ব্যবসার মুলধন

কথা বলতে পারেনা। পা দুটো অচল। হাতেও কোন কাজ করতে পারেনা। তার পরিচয় কি? তাও সে জানেনা। শুধু হাসতে পারে। রাজধানীর বঙ্গবাজার রেলওয়ে জামে মসজিদের সামনে বসে থাকা ছবির ছোট্ট এ শিশুটির এ অবস্থা।

রোববার মসজিদটির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে দেখে খুব মায়া লাগলো। পা গুলো কেমন জানি চিকন হয়ে গেছে। পায়ের পাতার অংশ উল্টে আছে বিপরীত দিকে। তার সামনে রাখা একটা বাটি। সেখানে মানুষ দান করছে। আমিও সে বাটিতে কিছু টাকা দিলাম। তারপর কথা বলতে চাইলাম তার সাথে।

জিজ্ঞাস করলাম, কি নাম তোমার? কয়েকবার জিজ্ঞাস করার পর মেয়েটি এদিক সেদিক চেয়ে শুধুই হাসে, কিছুই বলেনা।

তারপর পাশে বসা এক টুপি বিক্রেতা বললো মামা ও কথা বলতে পারেনা।

জিজ্ঞাস করলাম কেন?

জন্ম থেকে এমন। এমনকি দাড়াতেও পারে না। আগে বসতেও পারতো না। এ কয়েকমাস হলো একটু একটু বসতে পারে।

চাচা নাম কি তার?

নাম জানিনা।

কার কাছে থাকে?

এক নারী এসে প্রতিদিন এখানে রেখে যায়।

চিনেন ওই নারীকে?

হুম, ওই নারী অনেক যত্ন করে বাচ্চাটারে। যারফলে দিন দিন সুস্থ হইতেছে সে। আগে আরো অনেক অসুস্থ ছিল।  জানেন, ওই নারী এই মেয়ের কিছু হয়না। রাস্তায় পাইছে। তারপর থেকে ওই নারী তাকে অনেক আদর যত্ন করে লালন করছে। যদিও মেয়েটা এখানে ভিক্ষা করে প্রতিদিন ভালই টাকা পায়।

তারপর কিছুক্ষণ মসজিদের একটু দূরে দাড়িয়ে ছিলাম। কারণ আমার ক্যাম্পাসের বাস ছাড়তে আরো দেরি আছে। তারপর দেখলাম অবাক এক ঘটনা। মেয়েটির সামনের থালায় মানুষ টাকা দিচ্ছেন, আর একজন লোক এসে কিছুক্ষণ পর পর তা নিয়ে যাচ্ছেন। পাশে বসা টুপি বিক্রেতাও দেখছেন, কিন্তু কিছুই বলছেন না।

জানিনা আসলে মেয়েটি কে? কি তার পরিচয়? কে এখানে তাকে রেখে যায়? তবে এটা বুঝতে পারলাম মানুষ মায়া করে ছোট্ট এ শিশুটিকে দান করছে। কিন্তু মানুষের এসব দানের টাকা সঠিক জায়গায় যাচ্ছেনা।হয়তো এই অসহায় অসুস্থ শিশুটিও হয়ে গিয়েছে কারো ব্যবসার পুঁজি । না’ হলে আরেক লোক এসে তার থালায় কিছু টাকা জমলেই নিয়ে যাবে কেন ?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।