আমি বাসায় বসে অযথা লস করবো না

লিখেছেনঃ মোসা: মনজিলা খাতুন , পাটপণ্য প্রস্তুতকারী,
৩নং চন্দনপাট ইউনিয়ন, হরিপুর মাস্টারপাড়া, রংপুর।

আমি আগে পাটের কাজ জানতাম না। ২০১৪ সালে সুইচ এশিয়া জুট ভ্যালুচেইন প্রজেক্ট আসে। সেখান থেকে পাট পণ্য তৈরি করা শিখি। ৬ মাস প্রশিক্ষণ নেই। তখনই বাঁধা সৃষ্টি হয়। আর আমার শ্বশুর আমাকে বাঁধা দেন। আমাকে বলেন, কোথায় যাস? সেখানে গিয়ে কী করবি? কিন্তু আমি বাসায় বসে অযথা লস করবো না। আমি কাজকে ভালোবাসি , সেখান থেকে কিছু উপার্জন করব।
আমি টেবিল মেট, শিকা, মোবাইল ব্যাগ, শপিং ব্যাগ তৈরির করার ট্রেনিং করলাম।
এখন আমি ভালোভাবে পণ্য তৈরি করে বিভিন্ন মার্কেটে বিক্রি করছি। কন্তিু আমার সমস্যা হচ্ছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদরে পক্ষে পণ্য বিক্রি করা সম্ভব না। এজন্য নারীদের জন্য শোরুম দরকার। কেননা আমরা নারীরা পণ্য তৈরি করে ঘরে বসে থাকি। সে কারণে আমরা একটা শোরুম চাই। কারণ, আমরা সেখানে পণ্য তুলতে পারবো। সেখান থেকে আমাদের প্রচার হবে।
কিন্তু আমার ইচ্ছা যে আমি স্থায়ীভাবে একটা কারখানা করতে চাই। সেখানে কিছু মেশিন থাকবে। সেখানে হতদরিদ্র নারীরাও পণ্য তৈরি করে টাকা উপার্জন করতে পারবে। তারাও যেন স্বাবলম্বী হয়। কারণ মহিলাদের সমস্যা এবং অশান্তি কাউকে বলতে পারি না। আমাদের প্রয়োজনের জন্য স্বামীদের উপর নির্ভর করতে হয়। স্বামীরা মারধোর করে। খারাপ কথা বলে। আমরা স্বামীর কাছে হারবো না। অভাবকে পরাজিত করবো। আমি এখানে থেমে থাকতে চাই না। আর এসএমইর কাছে পণ্য বিক্রি করলেও হবে না। বিভিন্ন মেলায় শোরুম বা নির্দিষ্ট মার্কেট থাকলে আমার পণ্য বিক্রি করার জন্য ভালো হবে। আমার বেশি বেশি পণ্য বিক্রি হলে আমার স্থায়ী কারখানাটাকে বড় কারখানায় তৈরি করা সম্ভব হবে।

আমার সমস্যা ও দাবি
১. আমাাদের পাট পণ্য তৈরি করতে হলে একটা কারখানা দরকার।
২. আমাদের এখানে ফেব্রিক্স পাওয়া যায় না। ফেব্রিক্স সরবরাহের ব্যবস্থা চাই। সে কারনে সমস্যা হয়।
৩. মেশিনের কারণে আমরা সেলাই কাজ নিতে পারি না।
৪. আরও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন ডিজাইন জানতে চাই।
৫. ঝুকি মেশিনের দাম ৩০ হাজার টাকা। আমাদের সামর্থ্য নাই সেকারনে আমরা কাজ করতে পারছি না।
৬. পলিথিনের ব্যবহার কমালে আমাদের পাট পণ্যের চাহিদা বাড়ব্ েসেখান থেকে উপার্জন বাড়বে।
৭. পাট দিয়ে যে পণ্য তৈরি করি তার একটা নির্দিষ্ট দাম, ফেব্রিক্স দিয়ে যে পণ্য তৈরি করি তার একটা নির্দিষ্ট দাম দরকার।
৮. পাট পণ্য তৈরিতে সুবিধা দিতে হবে।
৯. ফেব্রিক্সের সুবিধা দিতে হবে, এসএমইর সুবিধা দিতে হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।