আম্মার কাপড় বিক্রি করি

সর্বসাধারণ

নাম তার রহিমুদ্দি । বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ।  ঢাকায় বসবাস । বছর তিনেক ধরে । নির্দিষ্ট কোন পেশা নেই । কখনো নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করেন । কখনো রিকশা চালান । কখনো পাখি বিক্রি করেন। কখনোবা পত্রিকা ফেরি করেন । কিন্তু  যে কাজটি প্রতিদিন করেন বছরের পর বছর সেটি হোল জাতীয় পতাকা বিক্রি । এ কাজটি করেন সকাল আটটা থেকে দশটা । মুলত এ কাজটি করেন নেশা হিসেবে । লাভের জন্য নয় ।

অদ্ভুত তার খেয়াল । থাকেন বাড্ডা এলাকাতেই । ওখানেই তার সাথে পরিচয় । জুন মাসের এক সকালে । রমজান মাস । কালো কাপড় ঘেরা একটা ছোট চায়ের দোকানে তার দেখা পাই । জানতে চাই ,

: জাতীয় পতাকা বারোমাস বিক্রির সাধ জাগল ক্যান ?

তিনি বলেন , ছিলাম মুক্তিযোদ্ধা , এখন পন্থে পন্থে ঘুরি । এইডা মনে করতে পারেন আমার খেয়াল ।”

আমি> বাড়িতে কে কে আছে ?

রহিমুদ্দি >বউ গলায় দড়ি দিছে । বড় পোলার মাথায় ছিট । ঢাকাত থাকি একলা ।

আমি > দেশ কেমন চলছে ?

রহিমুদ্দি >গরীবের দেশের খবর রাখতে নাই ।

আমি> ক্যান ?

রহিমুদ্দি >আমাগো কাজ একদিন । ভোট দেওয়া । হেইসময় হেরা (প্রার্থীরা ) ম্যালা কথা কয় । কিন্তু জিতনের পর আমাগোরেই মারে ।

আমি > কেমনে ?

রহিমুদ্দি > ধরেন বড় দালান বানানোর লাইগা বারবার বস্তিতে আগুন লাগাইয়া দেয় । ফুটপাতেও বসবার দেয় না কিছু নিয়া ।

আমি >তাইলে কইতে চান আপনাগো থার ধারেন না রাজনীতিবিদরা ?

রহিমুদ্দি > ধারেন । ওই একদিন । ভোটের দিন ।

আমি >ভোট তাইলে দ্যান ক্যান ?

রহিমুদ্দি > আমি না দিলেও আমার ভোট অন্য কেউ দিয়া দেয় ।

আমি> দেশকে তো ভালবাসেন ?

রহিমুদ্দি > নাইলে বারো মাস পতাকা বিক্রি করি ?

আমি > এইটা কেন করেন ?

রহিমুদ্দি >আম্মার জায়গা ( মাতৃভুমি অর্থে ) । আম্মার কাপড় (পতাকা ) বিক্রি কইরা  একটু শান্তি পাই ।

সময় কম । যে যার উদ্দেশ্যে পথে নামি ।

রহিমুদ্দি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।