আলোর ঝর্ণাধারায় শারমিন

শারমিন আক্তার পরিবারের বড় সন্তান। পিতা: মনির হোসেন শেখ, গ্রাম ও পোস্ট: বালিয়া, উপজেলা সদর, চাঁদপুর। বাবা-মা ও পাঁচ ভাই-বোন নিয়ে তাদের অভাবের সংসার। তার বাবা মোঃ মনির হোসেন শেখ একজন দরিদ্র কৃষক। সাতজনের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাকে। এমন অবস্থায় এইচএসসি পরীক্ষার পর অভাবের তাড়নায় বন্ধ হয়ে যায় শারমিনের লেখাপড়া। আর পরিবারের জন্য সে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পরিবারে কোন আর্থিক সহায়তাও করতে পারছিল না শারমিন। দুর্বিষহ জীবন কাটাতে হয়েছে তার। এছাড়াও মাথার উপর ছিল বিয়ের খড়গ। কি করবে বুঝতে পারছিল না শারমিন।

কিন্তু এই অন্ধকার থেকে তাকে আলোর পথে নিয়ে আসে এ্যাপ্রেনটিচশীপ প্রোগ্রাম। ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে শারমিন জানতে পারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রোগ্রামের উদ্যোগে চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সেলাইবিষয়ক এ্যাপ্রেনটিসশীপ প্রোগ্রামশুরু হচ্ছে। হাতে-কলমে এ প্রশিক্ষণ শেষে আন্তর্জাতিক মানের সার্টিফিকেট দেয়া হবে এবং মিলবে কাজ করার সুযোগ। এরপরই পরিবারের সাথে আলোচনা করে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। ভর্তি হন নভেম্বর সেশনে। ছয় মাসব্যাপী সালোয়ার-কামিজসহ বিভিন্ন ধরণের পোশাক তৈরি বিষয়ক হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ পান।

প্রশিক্ষণ শেষে এর ভাতা দিয়ে দুটি সেলাই মেশিন কিনে নিয়ে বাড়ির পাশেই টেইলার্সে কাজ শুরু করে শারমিন। এই থেকে শুরু শারমিনের সাফল্যের পথচলা। কত রঙ-বেরঙের নিত্য নতুন ডিজাইনের পোশাক তৈরির কারিগর শারমিন; তার পরিবারের লোকজনের পোশাক তৈরির পাশাপাশি মাসে ৮ হাজার টাকা আয় করছে। এই টাকা দিয়ে ভাই-বোনের পড়ালেখার খরচও চালাতে পারছে। দুঃখ ঘুচে হাসি ফুটেছে তার পরিবারে। আর শারমিন স্বপ্ন দেখছে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করার।

শারমিন আশাবাদী তাকে দেখে গ্রামের আরো অনেকেই ভাগ্য ফেরানোর এই যাত্রায় শামিল হবে। এই প্রশিক্ষণ শুধু তারই নয়, পাল্টে দিবে এলাকা ও সমগ্র বাংলাদেশের চিত্র। গড়ে উঠবে দিন বদলের কারিগর। দিন বদলের এই ডিজিটাল বাংলাদেশে আর কোন শারমিনই পিছিয়ে থাকবেন না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।