উচ্চশিক্ষার প্রতিবন্ধকতা গুলো দূর করার এখনই সময়

এজন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তনের সয়ম এসেছে। মূলত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে নানা অসঙ্গতি রয়েছে। যেমন আবেদন জমা দেওয়ার পরবর্তী ধাপ হচ্ছে ভর্তিপরীক্ষা দেওয়া। যার জন্য শিক্ষার্থীদের আবার সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষা দিতে হয়। আবেদন জমা দেওয়া এবং ভর্তিপরীক্ষার মধ্যে সাধারণত বেশ কিছু দিন সময় থাকে। ফলে এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য একজন শিক্ষার্থীকে কয়েক দিনের ব্যবধানে বেশ কয়েকবার দেশের বিভিন্ন শহরে অবস্থিত একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হয়।

জাতির জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসার ঘটে। নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত করে জাতিকে। আর আমাদের দেশে এই উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় রয়েছে নানা সমস্যা। বিভিন্ন সভা-সেমিনারে উচ্চশিক্ষায় মানসম্মত শিক্ষার কথা বলা হয়। কিন্তু সেটির আগে প্রয়োজন ভর্তি পরীক্ষাকে মানসম্মত করা। পরীক্ষাপদ্ধতি ঠিক না থাকলে উচ্চশিক্ষায় অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী আসতে পারবে না, ঝরে যাবে শুরুতেই।

ইতোমধ্যে অনেকে সমস্যা চিহ্নিত করেছেন, সুতরাং চাইলে উন্নততর পদ্ধতি বের করে সেগুলোর সমাধান করা সম্ভব। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সেটাই করা উচিত। ভর্তিপদ্ধতির গুণগত উন্নয়নের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বাছাই প্রক্রিয়ায় পাঠ্যক্রমের ওপর দক্ষতার বাইরে অন্যান্য গুণাবলী সংযোজন করা প্রয়োজন।

আমাদের দেশে ভর্তি-বিষয়ক দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নিয়ে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। পরীক্ষা এমন হওয়া উচিত যেটা প্রশ্নাতীত। এ বিষয়ে বিশদ আলোচনার জন্য সর্বস্তরের শিক্ষাবিদদের নিয়ে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে যথাযথ গবেষণা বা পরীক্ষামূলক প্রকল্প পরিচালনার পরে একে বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব। এটা অবশ্যই জরুরি। এর ফলে এই সমস্যার সমাধান করে আমাদের শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের কষ্ট লাঘব করতে পারি।

এজন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তনের সয়ম এসেছে। মূলত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে নানা অসঙ্গতি রয়েছে। যেমন আবেদন জমা দেওয়ার পরবর্তী ধাপ হচ্ছে ভর্তিপরীক্ষা দেওয়া। যার জন্য শিক্ষার্থীদের আবার সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষা দিতে হয়। আবেদন জমা দেওয়া এবং ভর্তিপরীক্ষার মধ্যে সাধারণত বেশ কিছু দিন সময় থাকে। ফলে এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য একজন শিক্ষার্থীকে কয়েক দিনের ব্যবধানে বেশ কয়েকবার দেশের বিভিন্ন শহরে অবস্থিত একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হয়।

এভাবে অনেক কম সময়ে দৌড়াদৌড়ি করা একদিকে যেমন শারীরিক হয়রানি, তেমনি প্রচুর অর্থও ব্যয় হয়। এছাড়া অনেক সময় একই দিনে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিপরীক্ষা সংঘটিত হওয়ার কারণে কিছু শিক্ষার্থী তাদের কাঙ্খিত সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য পরীক্ষাই দিতে পারে না। আর নির্ধারিত পরীক্ষার দিনে অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হতে না পারলে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির স্বপ্ন সেখানেই শেষ।

এছাড়াও বর্তমানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগ পরিবর্তন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবর্তন এই দুটো কারণে প্রতিবছর প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েক শ করে আসন খালি থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় পাসের হার দারুণভাবে বেড়েছে, অনেকেই জিপিএ-৫ পেয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবে না। ভর্তি হতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য নিদারুণ দুঃখজনক ব্যাপার। অবশ্য বছরের শুরুর দিকে বিভিন্ন পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের বিশাল অংশ ভর্তি পরীক্ষায় পাস নম্বর তুলতে পারছে না।

একদিকে সর্বোচ্চ ফল করেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পারা, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে নানা বিড়ম্বনা এবং পাশাপাশি আসন শূন্য থাকাসহ সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রক্রিয়াটিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রধানদের এখন উচিত নিজেরা একত্রে বসে একটি সমন্বিত পন্থা বের করা, যাতে শিক্ষার্থীদের ওপর পরীক্ষার ধকলটা কম যায় এবং সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে ভর্তি-প্রক্রিয়ার সব কাজ নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন দ্বারা একটি গবেষক দল গঠন করা যেতে পারে। সেই গবেষণার আলোকে কার্যকর ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সুপারিশ করতে পারে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তা বাস্তবায়ন করতে পারে। আমাদের দেশের বাস্তবতায়  শিক্ষার্থীরা ঠান্ডা মাথায় পরীক্ষা দিতে পারে না, পরীক্ষার আগে নানা জায়গায় দৌড়াদৌড়িসহ নানা দুশ্চিন্তা মাথায় নিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়। এই বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের গভীরভাবে ভাবা দরকার। একই সঙ্গে এ থেকে বেরিয়ে আসতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

১৬/১১/১৭
বেলাল এইচ রাহাত

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।