একজন গাজির কথা

ছেলেটির নাম ইসমাঈল গাজী সৌরভ। বয়স ২৩। পিতার নাম আব্দুস সালাম গাজী এবং মাতার নাম হাসিনা বেগম। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে ইসমাঈল গাজী এ বছর নিজের প্রচেষ্টায় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় গেমসে দৌড় প্রতিযোগিতায় দুইটি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছে। শত কষ্ট ও অভাবের মধ্যেও তার দৌড়ের প্রতি আকর্ষণ ও স্পৃহা কমে যায়নি। সে কারণেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগে ভর্তি হয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ে এথলেট হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছে। কিন্তু অর্থাভাব ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে তাঁর স্বপ্ন ভেঙে যেতে পারে বলেই তার আশঙ্কা।
এ বছর সবকটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ৫০০০ মিটার এবং ১০০০০ মিটারে ব্রোঞ্জ পদক জেতেন গাজী। কিন্তু দুঃখের বিষয় তাঁর একটি ভাল কেডস পর্যন্ত নেই। খালি পায়ে দৌড়ে এসব পদক জিতেন গাজী। তাঁকে তিন মাস প্রশিক্ষণ দেন এস এম সাদাত হোসেন নামের ক্রীড়া সংগঠক। তিনি বলেন, ঐ ছেলেটির মধ্যে উজ্জ্বল প্রতিভা আছে। ওকে প্রশিক্ষণ দিলে আগামীতে স্বর্ণ এনে দিতে পারে। খাওয়া দাওয়া ঠিক মত না করলে কিভাবে শক্তি পাবে।
দুঃখজনক হলেও সত্য ইসমাঈল গাজী ফুটপাথ থেকে কেনা একটি কেডস পায়ে দিয়ে দৌড়ের প্রস্তুতি নেয়। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে গাজী বলেন, ছোটকাল থাইক্যা দৌড়াতে ভাল লাগে। ইচ্ছা আছে দৌড়ায় আমি জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হবো।

ইসমাঈল গাজীর সহপাঠীদের কাছে সে সত্যিকার এক নায়ক যে একসাথে ফুটবল খেলে, দৌড়ায় এবং গল্প করে। পটুয়াখালির সন্তান ইসমাঈল গাজী সৌরভের ইচ্ছা দৌড়ে আন্তর্জাতিকভাবে দেশের পতাকা সবার উপরে রাখা। পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ইসমাঈল গাজী সৌরভের এ স্বপ্ন কি স্বপ্নই থেকে যাবে?

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।