কালা’র অন্ধকার

লোকটির কি নাম সেটি সে বললে কেউ বোঝে না । কন্ঠে রয়েছে জড়তা ।  অস্পষ্টতা। তবে লোকজন তাকে কালা মিয়া ডাকে।

তিনি  প্রতিদিন শুয়ে থাকেন সাভারের সিটিসেন্টার মার্কেটের সামনে।কখনো দাড়িয়ে মানুষের কাছে হাত পাতেন। ক্লান্ত হলে টাকার পাশে মাথা রেখে শুয়ে পড়েন।রোদেরপ্রখরতা কিংবা বৃষ্টি যাই হোক না কেন তিনি একই জায়গায় ভিক্ষা করেন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত।

তার পাশে বসে জিজ্ঞেস করলাম কি নাম? ছেলে মেয়ে আছে কিনা? গ্রামের বাড়ি কোথায়? তিনি ভালো করে কথা বলতে পারেন না।কথা বলার সময় তার মুখ বাকিঁয়ে যায় তাই কথা বোঝা যায় না।এভাবেই তাকে কথা বলতে দেখলে নিজেরই কষ্ট হয়।অনেক্ষন চেষ্টা করার পর যতুটুকু বুঝেছি আর পাশের লোকজনের থেকে শুনেছি তার সারাংশ হলো,  তার বাড়ি মানিকগঞ্জ।চার ছেলে। মেয়ে ছিল বিয়ে দিয়েছে।  ছেলেরা যে যার মত উপার্যন করে আলাদা পরিবার নিয়ে থাকে। আর তিনি এভাবে ভিক্ষা করে স্ত্রীকে নিয়ে মার্কেটের পিছনে ছোট একটু জায়গায় থাকেন।

আজ থেকে প্রায় বিশ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় তার পা-দুটি অকার্যকর হয়ে যায়। টাকার অভাবে ভালো চিকিৎসা করাতে পারেননি। সেই থেকে এভাবেই ভিক্ষা করে জীবন চালা্চ্ছেন।মার্কেটের সামনে তিনি একাই সব সময় থাকেন। মালিক পক্ষ তাকে বিশেষ অনুমতি দিয়েছে এখানে ভিক্ষা করার জন্য।প্রতিদিন তিনি ভিক্ষা করে ৪০০-৭০০ টাকা পান।কোন সময় দিন ভালো ১০০০ টাকাও পেয়ে যান।এভাবেই তিনি গত ১২-১৫ বছর  এখানে মানুষের কৃপায় জীবন নির্বাহ করছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।