গণরুমে মোড়লগিরি

নাজমুল হাসান নামে দুই শিক্ষার্থীকে মারধর করেছে একই হলের এক ছাত্রলীগ কর্মী।

অভিযুক্ত শাহাদাৎ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৪৫ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী। এর আগেও অভিযুক্ত তার বিরুদ্ধে একাধিক সাধারণ শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে।

কিছুদিন আগে সকালে টি-শার্ট পরে ক্লাসে যাওয়ার অপরাধে তাদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মীর মশাররফ হোসেন হলে মিজাউল হাসান কৌশিক ও

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নাজমুল ও কৌশিক ক্লাসে যাওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির কাছে শাহাদতের সঙ্গে দেখা হয়। শাহাদৎ তাদের টি-শার্ট পরতে দেখে ক্ষিপ্ত হন। একপর্যেয়ে শার্ট পরে ক্লাসে যেতে বাধ্য করা হয় তাদের।

ক্লাস শেষে দুপুরে হলে ফেরার পর শাহাদত গণরুমে গিয়ে নাজমুল ও কৌশিককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এক পর্যায়ে শাহাদৎ তাদেরকে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় মারতে থাকে। মারধরের সময় নাজমুলের গায়ে থাকা শার্ট ছিঁড়ে ফেলে।

মারধরের শিকার নাজমুল ও কৌশিক বলেন, শুধু টি-শার্ট পরার অপরাধে আমাদের অকথ্য ভাষায় গালমন্দ ও মারধর করা হয়েছে।

শাহাদাতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি  বলেন, টি-শর্টি পরে ক্লাসে যেতে নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা কথা শোনেনি। এ জন্য গণরুমে গিয়ে ভুল করেই তাদের কয়েকটা চড়-থাপ্পড় মেরেছি।

এদিকে, জাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থের ব্যাপারে আমরা সর্বদা সতর্ক অবস্থানে আছি। কিন্তু ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে যদি কেউ অপরাধ ও অনৈতিক কাজের সাথে যুক্ত হয় তবে অবশ্যই তাকে শাস্তি ভোগ করতে হবে।

জাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সুফিয়ান চঞ্চল বলেন, ছাত্রলীগের কর্মীরা গণরুমে যাবে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের কোন অসুবিধা হচ্ছে কি না? কারো কোন সমস্যা থাকলে তা সমাধানের চেষ্টা করবে। কিন্তু গণরুমে গিয়ে মারধর করাকে কোনভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

এর আগেও মীর মশাররফ হোসেন হলের গণরুমে ৪৬তম আবর্তনের এক শিক্ষার্থীকে মেরে কানের পর্দা ফাটিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে সিনিয়র শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।