ঘুষ আর জীবনের সহবস্থান

হুমায়ন। রিক্সাচালান বরিশালের জিয়া সড়ক এলাকায়।বয়স হবে ত্রিশের কাছাকাছি। বিয়ে করেছেন আট বছর হলো। দুই সন্তান আর স্ত্রীকে নিয়ে তার সংসার।রিক্সা চালান পাঁচ বছর হলো। অটোরিক্সা চালান দেড় বছর। প্যাডেলের রিক্সা ছেড়েছেন চালাতে খূব কষ্ট হয় তাই। গত বছর ত্রিশ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে সাথে নিজের জমানো টাকা দিয়ে কিনেছেন আটোরিক্সা। সারাদিন ঠিকমত চালালে ভাড়া ভালোই পান। দিনশেষে ৪০০-৬০০ টাকা থাকে। ঋণের টাকার কিস্তি দেন প্রতি সপ্তাহে। বাকি টাকা দিয়ে বাসা ভাড়া ও সংসারের খরচ। সবকিছু চলে ভালোই। কিন্তু বিপত্তি বাঁধায় মাঝে মাঝে পুলিশ।ব্যাটারি চালিত আটোরিক্সা চালানোর অনুমতি নেই। তাই পুলিশে ধরলেই ৫০০ টাকা জরিমানা। একদিনে দুইবার ধরলে দুইবারই ৫০০ করে দিতে হয়।তিনি বলেন , “মামা প্যাডেলের রিক্সা চালানো আনেক কষ্ট। তারপর ভাড়া কম পাই।সংসার তো চালান লাগবো। তাই ঋণ করে হলেও আটো নিছি। কিন্তু স্টেশনে চালাতে পারিনা। আশেপাশর অলিতে গলিতে চালাই। আগে ভাড়া পেতাম না। এখন বাসা-বাড়ি বেশি তাই কিছু ভাড়া পাই।কিন্তু পুলিশে দেখলেই ৫০০ টাকা। না দিলে ৫০ টাকা জরিমানা করে সাতদিন রিক্সা আটকাইয়া রাখে।জানি এইটা চালানো অবৈধ । কিন্তু  না চালাইলে খামু কি। তাই ৫০০ টকা ঘুষই দেই।”

সরকার ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা নিষিদ্ধ করেছে । কারন এগুলো আনেক বিদ্যুৎ খরচ করে তাই।কিন্তু রিক্সাচালকদেরও উপায় নেই।প্যাডেলের রিক্সা চালানো অনেক কষ্ট এবং ভাড়াও কম।তাই সংসার বাঁচাতে তারা আটোরিক্সা চালা্য়। এদিকে পুলিশও থাকে সুযোগে। দেখলেই ৫০০ ঘুষ, না হলে এক সপ্তাহ রিক্সা বন্ধ।

এভাবেই চলে ঘুষ আর জীবনের সহবস্থান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।