চর বাড়ছে, মৃত্যুর দিকে যাচ্ছে পদ্মা নদী

এখন পদ্মা নদীকে নদী বলা যায় না। কারণ সব খালের মত হয়ে যাচ্ছে। কোন শ্রোত নাই, ক্যানেল খুঁজে পাওয়া যায় না। লঞ্চ, ফেরি চলতে গিয়ে আটকে যায়। চারদিকে শুধু চর উঠতেছে। বালু আর বালু। এমন ভাবে চলতে থাকলে আরো কয়েক বছর পর এ নদীতে পানিই থাকবেনা। এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মাওয়া ঘাটের পদ্মা নদীতে ফেরি চালক মো. নুর ইসলাম গাজি।

এখন পদ্মা নদীকে নদী বলা যায় না। কারণ সব খালের মত হয়ে যাচ্ছে। কোন শ্রোত নাই, ক্যানেল খুঁজে পাওয়া যায় না। লঞ্চ, ফেরি চলতে গিয়ে আটকে যায়। চারদিকে শুধু চর উঠতেছে। বালু আর বালু। এমন ভাবে চলতে থাকলে আরো কয়েক বছর পর এ নদীতে পানিই থাকবেনা। এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মাওয়া ঘাটের পদ্মা নদীতে ফেরি চালক মো. নুর ইসলাম গাজি।

গত ১৩ অক্টোবর রাত ১২টার ফেরীতে করে মাওয়া ঘাট পার হওয়ার সময় কথা হয় ফেরীর চালক মো. নুর ইসলাম গাজি, আবুল কাশেম ও মো. হাবিবুর রহমানের সাথে। তাদের সবার বাড়ি বরিশাল। বহুবছর যাবত তারা এ ফেরি চালান। তাই নদীতেই তাদের বাস। আর নদী সম্পর্কে হয়েছে তাদের নানা অভিজ্ঞতা। আর সে অভিজ্ঞতা গুলো ‘দেশগড়ি’র সাথে ভাগাভাগি করেছেন তারা।

তাদের কাছে জানতে চাইলাম, নদীর বর্তমান এ অবস্থার জন্য কারণ কি?

তারা বলেন, ভারত ফারাক্কা বাঁধ দেওয়ার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আগে ৮০-৯০ ফুটের মত পানি ছিল, এখন নেই।’

নদীর উপর সেতু তৈরী নদীর উপর কোন প্রভাব ফেলে কি না?

তারা বলেন, এই যে দেখেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে এখানে চরের সংখা বেড়ে গেছে। এখন ক্যানেল খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। কারণ সেতু তৈরীর ফলে শ্রোত বাধাগ্রস্থ হচ্ছে, তাই বালুটা জমা হয়ে যাওয়ার কারণে নদী মরে যাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। মাঝে মাঝে ফেরী চলে না। পানির অভাবে আটকে যায়।’

এসময় তাদের ব্যাক্তি জীবনের অসুবিধার কথা জানতে চাইলে তারা জানান, এই যে রাইতভর ঝড়-তুফান, বৃষ্টিতে কষ্ট করতেছি। ঝড় তুফান হলে মানুষ দৌড়ায় পালায়। ভাল জায়গায় আশ্রয় নেয়। কিন্তু আমাদের নদীর মধ্যে থেকেই বাচাঁর জন্য যুদ্ধ করতে হয়।’

তারা  জানান, তাদের কোন সাপ্তাহিক ছুটি নাই। সপ্তাহে সাতদিন ১২ ঘন্টা করে কাজ করতে হয়। কিন্তু একই বেতনের চাকরি, অন্য যারা করে তারা মাসে ৮দিন ছুটি ভোগ করতে পারে। আর দৈনিক ৮ঘন্টা করে কাজ করতে হয় তাদের। কিন্তু আমাদের এ ছুটিটাও নাই। কাজও করতে হয় ১২ ঘন্টা। কোন টাইম নাই। অথচ আমরা একই সরকারের চাকরি করি, একই ডিপার্টমেন্টে চাকরি করি। কিন্তু তারা ছুটি ভোগ করে, আমরা করতে পারিনা।

এদিকে সরকারের কাছে আমরা ৩০ বছর যাবৎ দাবি করে আসছি আমাদের কর্মঘন্টা ৮ ঘন্টা করা হোক। কিন্তু কেউ আমাদের কথা শুনে না। শুক্র-শনিবার ছুটি না দিলেও সে দিনগুলো অবার টাইমের আওতাভূক্ত করে টাকাটা দিয়ে দিলে ভাল হয়। তাহলে আমাদের কষ্টটার যথাযথ মুল্যায়ন হতো।

জানতে চাইলাম ডিউটির সময়টা কিভাবে বন্টন করা হয়?

জানালেন, দিনে ছয় ঘন্টা আর রাতে ছয় ঘন্ট মোট ১২ ঘন্টা করে কাজ করতে হয়। রাত ১২ টা থেকে সকাল  ৬টা এক শিফট, সন্ধা ৬টা থেকে রাত ১২ টা আরেক শিফট।

সেতু নির্মাণ হয়ে গেলে ফেরী আর লাগবে কিনা?

এমন প্রশ্নে তারা বলেন, সেতু হলে এখানে আর লাগবে না, তবে অন্যান্য জায়গা লাগবে। যেমন চাঁদপুর, চরখালি ইত্যাদি।

এ পেশার কোন জিনিসটা আপনাদের ভাল লাগে?

তারা জানালেন,  যাত্রী জনগনের সেবা দিতে পারলেই তাদের ভাল লাগে।

এ সময় নুর ইসলাম, বাদশা ও হাবিবুর রহমান আরো বলেন, তাদের কাজের অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি করার জন্য একেক জায়গায় তাদেরকে দুই বছর করে রাখা হয়। পরে অন্য কোন জায়গার ফেরীতে তাদেরকে স্থানান্তর করে দেওয়া হয়। তাই তাদের কোন নির্দিষ্ট স্থান নেই। ম্যানেজমেন্ট যেখানে পাঠায় সেখানেই তাদের কাজ করতে হয়।

আমরা সকলেই জানি পরিবেশ রক্ষায় নদীর গুরুত্ব অনেক। কিন্তু একের পর এক হারিয়ে যাচ্ছে নদীগুলো। ফারাক্কা বাঁধের কারণে দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিম অঞ্চলে এখন পনি সংকট চরমে। বিস্তীর্ণ জনপদ এখন পানির জন্য হাহাকার করছে। তাই আর মরতে দেওয়া যাবে না কোন নদীকে। নিতে হবে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা। তাই সকলের দাবি পদ্মা নদী রক্ষায় সরকারকে এখনই যথাযথ প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

এডিট-মুন্না

 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।