চেতনায় ধর্ষক ও নারী

কর্মস্হলে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমনকি বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যালয়েও নারীরা মাঝে মাঝে তাদের সহকর্মীদের দ্বারা এভাবেই বিরক্ত হয় যার বিরুদ্ধে বলার কোন সঠিক প্রসঙ্গ পাওয়া যায়না।আবার অনেকেই, যাদেরকে নারী মনে মনে মেনে নিচ্ছেন না তারাও আত্মীয়তা বা বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে আন্তরিকতার ছলে নারীর গায়ে হাত দিয়ে কথা বলে।
ধর্ষণ বা ধর্ষক শব্দদুটি সম্পর্কে বর্তমান সমাজে আমরা সবাই জানি।যে ধর্ষণ করে সেই ধর্ষক তবে ধর্ষকের আরেকটি ধারণা হলো “চেতনায় ধর্ষক”।বর্তমান সমাজে নারীদের নিরাপদ চলাফেরার ক্ষেত্রে এই চেতনায় ধর্ষকরাই সবচেয়ে বড় অস্বস্তি।তারা নারীদেরকে মানসিকভাবে বিরক্ত করে থাকে যা তাদের প্রাত্যহিক জীবন যাপনে অত্যধিক প্রভাব ফেলে।এ ধরনের ঘটনার কারণে অপমান বোধ থেকে তারা নিজেদের সংকুচিত করে রাখে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এসব ধর্ষক আমাদের আশেপাশে ভদ্রসমাজে ভদ্র পোষাকে ভদ্র চেহারায় আশ্রয় নেয়।যেমন বাসে বা ব্যস্ত রাস্তায় যখন মহিলারা হাত গুটিয়ে চলাফেরা করে তখন তারা হাত দুটো একটু বেশীই মেলে চলে,এতে করে মহিলারা যতোই নিরাপদে চলার চেষ্টা করুক না কেন,পুরুষের নেতিবাচক স্পর্শ থেকে তার রেহাই নেই।
এসব আচরণের প্রতিবাদ করার কোন প্রয়োজনীয় যুক্তি পাওয়া যায়না তবে বিষয়টি একজন নারীর মনে কু প্রভান ফেলে,সমাজ তথা পুরুষ জাতীর প্রতি তার অশ্রদ্ধা তৈরী হয় এবং তারা সার্বক্ষণিক এক মানসিক দুর্বলতায় ভোগে।
আবার কর্মস্হলে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমনকি বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যালয়েও নারীরা মাঝে মাঝে তাদের সহকর্মীদের দ্বারা এভাবেই বিরক্ত হয় যার বিরুদ্ধে বলার কোন সঠিক প্রসঙ্গ পাওয়া যায়না।আবার অনেকেই, যাদেরকে নারী মনে মনে মেনে নিচ্ছেন না তারাও আত্মীয়তা বা বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে আন্তরিকতার ছলে নারীর গায়ে হাত দিয়ে কথা বলে।
বিষয়টি মেনে নেয়া কষ্টসাধ্য আবার প্রকাশ করাও সম্ভব নয় কারণ প্রকাশ করে তার সত্যতা প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব নয়।আবার প্রকাশ করলে অনেক ক্ষেত্রে নারীকেই সমালোচিতো বা হাসির পাত্র  হতে হয়।অথবা বিষয়টি এতটাই সচরাচর যে এটাকে গুরুত্ব দিলে বর্তমান সমাজসাপেক্ষে নারীদের ঘরের বাইরে বের হওয়াই হয়ে উঠবেনা।
তবে এটি নারী মনে চরম বিপরীত প্রভাব ফেলে যা তার স্বাভাবিক কর্মকান্ডকে ব্যাহত করে।
নারী হতাশ হয়ে ওঠেন সমাজ এবং সামাজিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আর এ ধারণা থেকে সমাজে তাদের যতটুকু দেওয়ার ছিল তার সর্বোচ্চ তারা দিতে পারেননা।নিজের ব্যক্তিত্ব রক্ষার জন্য নিজেকেই ঘরমুখো হতে হয়।
এসব পুরুষ একজন ধর্ষকের তুলনায় কোনঅংশে কম নয়।তারা শাব্দিক অর্থে ধর্ষক না হলেও তারা চেতনায় ধর্ষক।আর এ সমস্যাটিই বর্তমান সমাজে নারীর সর্বোচ্চ সমস্যায় পরিণত হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশকে উন্নত করার ক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা প্রয়োজন আর তাই এ সমস্যার সমাধান একান্ত জরুরী,যা সর্বস্তরে আলোচনার মাধ্যমে এবং বিষয়টিকে গুরুত্বপ্রদানের মাধ্যমে সমাধান হতে পারে।
বিষয়টিকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমে আলাপচারিতায় বিষয়টি ছড়িয়ে পড়বে এবং সবার দৃষ্টি আকর্ষণ হবে যাতে করে এসব “চেতনায় ধর্ষক” এধরণের আচরণ থেকে বিরত থাকবে।
 ১৬/১১/১৭
মিল্কি রেজা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।