চোরের উৎপাতে দিশেহারা রাবি শিক্ষার্থীরা

চুরি-জোচ্চুরির ঘটনা ছাড়াও ঘটছে হত্যাকান্ড। গত বছরের অক্টোবরে নবাব আব্দুল লতিফ হলে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী লিপু খুন হন। কাদের হাতে লিপু খুন হলেন তা তিন মাসেও জানা যায়নি। সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে এক ধরনের শঙ্কা, উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

গল্পে মশগুল প্রহরীর ভ্রুক্ষেপ নেই চোর কোনদিকে আসে আর কোন দিকে থেকে বেড়োয়। যার কারনে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল গেটের দর্শণার্থীদের নিবন্ধনের টেবিল সব সময় ফাঁকাই পড়ে থাকে। মাঝেমধ্য হলের সামনে রিকশা থামিয়ে চালক ঢুকে পড়েন, এছাড়াও হকাররা ঢুকছেন অবাধে। কে কখন ঢুকছে, কোথায় যাচ্ছে তার ওপর নেই সামান্য নিয়ন্ত্রণ। হলগেটের প্রহরায় পুলিশ থাকলেও তাদের হয় ফোনে নয়তো নিজেদের মধ্যে আলাপচারিতায় ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। এমনটাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হল গুলোর নিরাপত্তার বাস্তব চিত্র। উচ্চ শিক্ষা লাভের আশার মেধাবী শিক্ষার্থীরা এখানে পাড়ি জমায়। থাকার সুবিধার্থে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের আবাসিকতা প্রদান করে। কিন্তু এ আবাসিকতায় যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়। তাহলে কতইনা দু:খ আর ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, বহিরাগতদের অনুপ্রবেশের এমন চিত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হল গেটেই বিদ্যমান। আর এই সুযোগে ঘটছে চুরিসহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনা। গত কয়েক মাসে বিভিন্ন হল থেকে ১০টি ল্যাপটপ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে হলের ভেতরে শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনা নিরাপত্তার বিষয়কে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলে ও মেয়েদের জন্য মোট আবাসিক হল রয়েছে ১৭টি। এসব হলে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর আবাসিকতা রয়েছে। অথচ এতো বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর নিরাপত্তায় নেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।

আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে হলে প্রায়শই তাদের মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া যাচ্ছে।

শুধু ল্যাপটপ চুরির পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত কয়েক মাসে মাদার বখশ হলে ৩টি, শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ২টি, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে ২টি, শহীদ শামসুজ্জোহা হলে ১টি, মতিহার হলে ১টি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে ১টি ল্যাপটপ চুরি হয়। এর সাথে সাইকেল ও মোবাইল, শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বাসের ফ্যান চুরির ঘটনা তো রয়েছেই।

নিরাপত্তাহীনতার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সাইদুল আমিন সোহেল বলেন ‘আবাসিক হল হলো আমাদের কাছে বাড়ির মতো, এখানে যদি নিরাপত্তা না থাকে তাহলে আমরা কোথায় যাবো? ‘ক্যাম্পাসে অবস্থানকালে মূল্যবান জিনিসপত্র এমনকি নিজের জীবন নিয়েও ভয়ে থাকি। তাছাড়া হলের ভেতরে ছাত্র খুন হচ্ছে। এসব পত্র-পত্রিকায় বা টিভিতে দেখে পরিবারও খুব উদ্বেগের মধ্যে থাকে। এমনকি তারা হল ছেড়ে মেসে পর্যন্ত চলে যেতে বলে।

এদিকে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোর আবাসিক শিক্ষার্থীরাও। রহমতুন্নেসা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আফরিন বলেন, ‘হলের সামনে অনেক সময় বখাটে ছেলেদের আড্ডা দিতে দেখা যায়। এছাড়া হলের অভ্যন্তরেও বিভিন্ন সময় নানা ঘটনা ঘটে যেগুলো আমরা পরিবারকে সব সময় অবহিত করিনা। কারণ, তারা দুশ্চিন্তা করবে।’

এছাড়া চুরি-জোচ্চুরির ঘটনা ছাড়াও ঘটছে হত্যাকান্ড। গত বছরের অক্টোবরে নবাব আব্দুল লতিফ হলে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী লিপু খুন হন। কাদের হাতে লিপু খুন হলেন তা তিন মাসেও জানা যায়নি। সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে এক ধরনের শঙ্কা, উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

তাই এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারের প্রদক্ষেপ অতিব জরুরী বলে দাবী অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের।

১৯/১১/১৭
আবু সাঈদ সজল,রাবি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।