জঙ্গিবাদ মোকাবেলা না করতে পারলে দেশকে চরম মূল্য দিতে হবে

বাংলাদেশে সংঘটিত এ ধরনের জঙ্গি হামলা নিয়ে এখন দেশে-বিদেশে চলছে নানা বিশ্লেষণ। বিগত কয়েকটি ঘটনা একত্র করলে দেখা যায়, আক্রমণকারীদের টার্গেট হয় বিদেশী, না হয় ভিন্ন ধর্মাবলম্বী। এ প্রবণতা আমরা লক্ষ্য করে আসছি অনেকদিন থেকেই। এখন এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, দেশ সত্যি সত্যি এমন এক জায়গায় চলে গেছে, যা আমরা কখনো কল্পনাই করতে পারিনি। বিশেষ করে বিদেশী ও ভিন্ন ধর্মের মানুষ হত্যার বিষয়টি চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

গত দুই বছরে আমরা বিভীষিকাময় জঙ্গি হামলার নিষ্ঠুর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছি। অদম্য প্রতিরোধে চলে আসছে জঙ্গিদের টার্গেট কিলিং মিশন। তারই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১ জুলাই রাতে ঢাকার অভিজাত ও অপেক্ষাকৃত নিরাপদ এলাকা হিসেবে পরিচিত গুলশানের কূটনীতিক পাড়ার এক রেস্তোরাঁয় সশস্ত্র হামলার ঘটনার ঘটে। যা নৃশংস পৈশাচিকতার ভয়ঙ্কর প্রদর্শনী। যেখানে দুইজন পুলিশ কর্মকর্তা, ১৭জন বিদেশীসহ অন্তত ২২জনকে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় পুরো বিশ্ব হতভম্ব ও শোকাহত। বাংলাদেশে সংঘটিত এ ধরনের জঙ্গি হামলা নিয়ে এখন দেশে-বিদেশে চলছে নানা বিশ্লেষণ। বিগত কয়েকটি ঘটনা একত্র করলে দেখা যায়, আক্রমণকারীদের টার্গেট হয় বিদেশী, না হয় ভিন্ন ধর্মাবলম্বী। এ প্রবণতা আমরা লক্ষ্য করে আসছি অনেকদিন থেকেই। এখন এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, দেশ সত্যি সত্যি এমন এক জায়গায় চলে গেছে, যা আমরা কখনো কল্পনাই করতে পারিনি। বিশেষ করে বিদেশী ও ভিন্ন ধর্মের মানুষ হত্যার বিষয়টি চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

এক কথায় দেশে অপরাধের নানা ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। জঙ্গি তৎপরতা, গুপ্তহত্যা এবং কথিত বন্দুক যুদ্ধের ঘটনায় শুধু দেশবাসী নয় এ দেশে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদেরও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এছাড়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা চলেছে অহরহ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্হাগুলোও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্হিতি নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোরতা সত্ত্বেও একের পর এক রক্তাক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশবাসীর জীবনেও নেমে এসেছে এক চরম হতাশা।

এ সব ঘটনার আগেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এ ধরনের হামলা সম্পর্কে সতর্কবার্তা দিয়ে আসছিলেন। সে সময় গুলশান এলাকায় একজন ইতালীয় নাগরিক খুন হন। এরপর জাপানি নাগরিক ছাড়াও একে একে হত্যার শিকার হন ব্লগার, প্রকাশক, শিক্ষক, ধর্মীয় ও গোষ্ঠীগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা।

আমরা জানি, বাংলাদেশ নিরাপদ মনে করেই বিদেশীরা এখানে ব্যবসা বাণিজ্য করতে আসে। কিন্তু এখন তারা লাশ হয়ে ঘরে ফিরে যাচ্ছে। এই লজ্জা, এই ঘৃণা আমাদের চরম পীড়া দেয়। যে জাপান আমাদেরকে বিভিন্ন সময় সহযোগিতা করে আসছে আজ সেই দেশের নাগরিককে আমরা হত্যা করছি! যে ইউরোপ আমাদের দেশীয় উন্নয়নে সহযোগী, তাদের নাগরিককেও আমরা একের পর এক হত্যা করে চলেছি! যখন এই বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রচার করা হয়, তখন বিষন্ন মনে বলতে ইচ্ছা করে দেশ তুমি কার?  এই বিদেশী হত্যার বিভীষিকাময় ঘটনার প্রভাব ও পরিণতি সুদূরপ্রসারী। এটা বাড়তি শঙ্কা ও উদ্বেগ জাগায়। এ হামলায় নিজেদের চরম নৃশংসতা প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে ভীতির পরিবেশ সৃষ্টির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেছে জঙ্গিরা। যাদের সঙ্গে বহির্বিশ্বের প্রভাবশালী কোনো গোষ্ঠীর যোগাযোগ রয়েছে। যারা এই দেশকে নিয়ন্ত্রনে নিয়ে তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায়।

বাংলাদেশ অতিথিপরায়ন দেশ।  এখানে কোনো অতিথি হত্যার সুযোগ নেই। কিন্তু তারপরেও আমরা অতিথিদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছি। আমাদের মনে রাখা দরকার, যে দেশে বিদেশি হত্যা হয়, সে দেশ কখনো সফল হতে পারে না। কারা এই অতিথিদের হামলা চালিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করছে।  কি তাদের পরিচয়? কোন পরিবারের সন্তান তারা? কোন শিক্ষায় শিক্ষিত? কে দিচ্ছে এদের কুশিক্ষা? এরা কোথায় পড়ালেখা করে? বিভিন্ন প্রশ্ন এখন জনমনে ছড়িয়ে পড়েছে।

আমরা দেখেছি এ ধরনের জঙ্গি হামলায় যে পরিবারের সদস্যরা নিহত হয়েছেন, তাদের স্বজনরা এখনো শোকে মুহ্যমান। তাদের ওপর এই আকস্মিক আঘাত বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো। যারা আমাদের সহযোগিতা করার জন্য এসেছিলেন সেই বিদেশী স্বজনহারা বেদনার্ত মানুষদের সান্তনা দেওয়ার কোনো ভাষা আমাদের নেই। এ জন্য আমরা ব্যথিত, লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।

১৬/১১/১৭
বেলাল এইচ রাহাত

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।