জাবিতে বাহারি রঙে মন রাঙালো প্রজাপতি মেলা

মাহবুব আলম

‘এমন যদি হত, ইচ্ছে হলেই আমি হতাম প্রজাপতির মত’ প্রজাপতি নিয়ে শিশুমনের এমন রঙিন কল্পনা সব বয়সের মানুষের কাছে। কারণ প্রজাপতির পাখায় যেন রংধনুর সব রং উঁকি দেয়। সে পাখার উড়োউড়ি, ঘুরোঘুরির সৌন্দর্য্য যে কারো মনকে উদ্বেলিত করে তুলে। তাইতো বলা হয় প্রজাপতি বিধাতার এক অপরূপ সৃষ্টি। আর এসব রং-বেরংয়ের প্রজাপতি নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল প্রজাপতি মেলা-২০১৭। জালের ভিতর হরেক রকমের প্রজাপতির তিড়িংবিড়িং ওড়োওড়ি দেখতে ভিড় জমেছে হাজারো প্রজাপতি প্রেমীর। হেমন্তের এ নাতিশীতোষ্ণ দিনে তাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে সবুজের এ রাজধানী।


ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে মায়ের সাথে মেলায় ঘুুরতে এসেছে ৩য় শ্রেণীর তিন ছাত্রী । তাদের কাছে মেলা সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘জালের ভিতর হরেক রকমের প্রজাপতি দেখেছি। তারা এক গাছ থেকে অন্য গাছে উড়ে বেড়াচ্ছে। তাদের এ ওড়োওড়ি দেখে সত্যিই অনেক ভাল লাগছে, অনেক সুন্দর প্রজাপতিগুলো, কোনটি হলুদ, কোনটি নীল, কোনটি সাদা। এসব দৃশ্য দেখে মনটা প্রফুল্ল হয়ে উঠছে। কাছে থেকে দেখে খুব ভাল লাগছে।’ কেজি তে পড়া ছোট্ট মেয়ে জুইফা ইসলাম শ্রেয়া, লাল প্রজাপতির রঙে সেজে মেলায় প্রজাপতি দেখতে এসেছে সে। তার কাছে অভিব্যাক্তি শুনতে চাইলে সে বলে, ‘বাবার সাথে ঢাকা থেকে এসেছি। দেখে খুব ভাল লাগছে। প্রজাপতি গুলো অনেক সুন্দর। আমি আবার আসবো।’

প্রজাপতির প্রতি মানুষের ভালবাসা রয়েছে প্রচুর, কিন্তু প্রজাপতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়নি। তাইতো আশঙ্কা জনক হারে এ দেশ থেকে প্রজাপতির সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। প্রজাপতি গবেষকদের তথ্য অনুসারে, দেশে ৩৫০ প্রজাতির প্রজাপতি সনাক্ত করা সম্ভব হলেও বর্তমানে তার সংখ্যা কমে এসেছে। তাই মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে প্রতিবারের ন্যায় এবারও ‘উড়লে আকাশে প্রজাপতি, প্রকৃতি পায় নতুন গতি’ এ স্লোগানে বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রজাপতি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের আয়োজনে এ মেলায় ৬০ থেকে ৬৫ প্রজাতির প্রজাপতি প্রদর্শীত হয়েছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামের ভিতর এবং বাইরে অসংখ্য প্রজাপতির আলোকচিত্র প্রদর্শনী করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে জহির রায়হান অডিটোরিয়ামের সামনে মেলার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম। এ সময় তিনি বলেন,  ‘প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় প্রজাপতির অবদান অনেক। তাই মানুষের মাঝে সচেতনা বৃদ্ধি এবং প্রজাপতি সংরক্ষণের লক্ষে এ জাতীয় মেলা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজন করতে পেরে খুবই আনন্দিত।’

উদ্বোধন শেষে একটি র‌্যালী বের করা হয়। র‌্যালীটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রজাপতিরও যে প্রয়োজন রয়েছে তা মানুষকে জানানোই মেলার মূল লক্ষ বলে জানিয়েছেন মেলার আহ্বায়ক ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মনোয়ার হোসেন।

তিনি আরো বলেন, ‘দেশে প্রায় ৩৫০ প্রজাতির প্রজাপতি রয়েছে। অবকাঠামো বেড়ে যাওয়া, গাছ কাটা, লতাপাতা কমে যাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন তথা অতিবৃষ্টি, অতিরিক্ত গরম প্রভৃতি কারণে প্রজাপতির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তাই এ প্রজাপতি সংরক্ষণে মানুষের মাঝে সহমর্মিতা ও সচেতনা বৃদ্ধি প্রয়োজন। তাই এ প্রজাপতি সংরক্ষণে মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরীর লক্ষে এ মেলার আয়োজন।’

দিনব্যাপী এ মেলায় ছিল শিশু-কিশোরদের জন্য প্রজাপতি বিষয়ক ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা, প্রজাপতির হাট দর্শন, প্রজাপতির আদলে ঘুড়ি উড্ডয়ন, বারোয়ারি বিতর্ক, প্রজাপতি চেনা প্রতিযোগিতা ও প্রজাপতি বিষয়ক ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী করা হয়েছে। এছাড়া এবারের মেলা থেকে বিশ্বব্যাপী প্রজাপতির উপর গবেষণায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য জাপানের গ্র্যাজুয়েট ইউনিভার্সিটি ফর এডভান্সড স্টাডিস বিভাগের অধ্যাপক ড. কেনটারো আরিকাওয়া’কে ‘বাটারফ্লাই এওয়ার্ড-১৭’ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও ‘ইয়াং বাটারফ্লাই ইনথুসিয়অস্ট এ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে জাবির লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আফলাতুন কাইসার।

মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মঞ্জুরুল হক, আই ইউ সি এন এর কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

মাহবুব আলম

০৯/১১/১৭

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।