টাকার অভাবে আমিনুলের ভর্তি অনিশ্চিত

ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের কান্দানিয়া গ্রামের ওয়াজ উদ্দিন মিয়া ও আমিনা খাতুনের একমাত্র ছেলে আমিনুল। বাবা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে গেলে ১ বছরের আমিনুলকে রেখে অন্যত্র চলে যান মা। যার ফলে চাচার পরিবারেই বেড়ে উঠেছে আমিনুল। নবম শ্রেণিতে অধ্যয়ণরত অবস্থায় ২০১৩ সালে বাবার মৃত্যু তাকে পুরোপুরি একা করে দেয়। দরিদ্র চাচার পক্ষে নিজের পরিবার দেখাশোনাই যখন সামাল দেয়া যাচ্ছে না, তখন বন্ধ হওয়ার পথে আমিনুলের লেখাপড়া। কিন্তু দমে যায় নি সে। অদম্য ইচ্ছাশক্তির কারণে সমাজের বিত্তবান দের সহযোগিতায় এগিয়ে যেতে থাকে শিক্ষাজীবন। ওর মেধা নজর কেড়েছিল শিক্ষকদেরও। এজন্যই বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পেয়েছে সে।

শাহাবুদ্দীন ডিগ্রী কলেজের মেধাবী ছাত্র আমিনুল ইসলাম মাখন। এ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ‘সমাজ কল্যাণ’ বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু টাকার অভাবে আমিনুলের ভর্তি এখন প্রায় অনিশ্চিত। টাকার জন্য বিভিন্ন সময় তাকে বিভিন্ন জনের সাথে কথা বলতে দেখা গেছে ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের কান্দানিয়া গ্রামের ওয়াজ উদ্দিন মিয়া ও আমিনা খাতুনের একমাত্র ছেলে আমিনুল। বাবা  মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে গেলে ১ বছরের আমিনুলকে রেখে অন্যত্র চলে যান মা। যার ফলে চাচার পরিবারেই বেড়ে উঠেছে আমিনুল। নবম শ্রেণিতে অধ্যয়ণরত অবস্থায় ২০১৩ সালে বাবার মৃত্যু তাকে পুরোপুরি একা করে দেয়। দরিদ্র চাচার পক্ষে নিজের পরিবার দেখাশোনাই যখন সামাল দেয়া যাচ্ছে না, তখন বন্ধ হওয়ার পথে আমিনুলের লেখাপড়া। কিন্তু দমে যায় নি সে। অদম্য ইচ্ছাশক্তির কারণে সমাজের বিত্তবান দের সহযোগিতায় এগিয়ে যেতে থাকে শিক্ষাজীবন।  ওর মেধা নজর কেড়েছিল শিক্ষকদেরও। এজন্যই বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পেয়েছে সে।

আমিনুলের বিষয়ে কথা হয়েছিল শাহাবুদ্দীন ডিগ্রী কলেজের পরিসংখ্যান বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল বাছিরের সাথে। তিনি বলেন, “গ্রাম্য একটা প্রবাদ আছে ‘দরিদ্রদের মেধাবী হতে নেই। কেননা তারা লেখাপড়ার খরচ যোগাতে পারবে না।’ প্রবাদটি আমিনুলের ক্ষেত্রে পুরোপুরি সত্য। আমাদের দায়িত্ব অবহেলার কারণে যেন একটি মেধাবী মুখ অকালে ঝরে না যায়, এবিষয়ে সকলকে মনোযোগ দিতে হবে।”

২০১৫ সালে কান্দানিয়া উচ্চ বিদ্যলয় থেকে এস.এস.সিতে জিপিএ ৫.০০ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে আমিনুল। কিন্তু টাকার অভাবে শহরের কোন কলেজে ভর্তি হতে পারেনি সে। স্থানীয় শাহাবুদ্দীন ডিগ্রী কলেজে মানবিক বিভাগে ভর্তি হয়। ২০১৭ সালের এইচ.এস.সি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৫৮ পেয়ে মানবিক বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ হয়েছে।

গত  ২২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৬৬৩ তম স্থান অধিকার করেছে আমিলুল। ৩০ অক্টোবর ভাইবায় অংশগ্রহণ করে সমাজ কল্যাণ বিষয় পেয়েছে। ২৬ নভেম্বর থেকে শুরু হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রম। কিন্তু চোখের সামনে অন্ধকার দেখছে আমিনুল। আদৌ কি তার স্বপ্ন পূরণ হবে! প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কি সে আপন করে পাবে?

আমিনুলের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে [email protected] বা www.facebook.com/deshgori.page এ মেইল অথবা ইনবক্স করুন।

প্রেরক : জিল্লুর রহমান, ১ম বর্ষ, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।