জিঞ্জিরা মেইড

কাউসার পারভেজের বেলায় প্রায়ই এই রকম ঘটনা ঘটে। ঠিক যখন হাতে টাকা থাকে না তখনই এই ধরনের ঘটনা গুলি ঘটতেই থাকে। কোন কিছু না হলে, হয় পায়ের জুতা ছিড়েযাবে না হয় সেভিং জেল, পেস্ট বা রেজার শেষ হয়ে যাবে। বাধ্য হয়ে তাকে লোন করতেই হয়।

 

কাউসার পারভেজের মেজাজটা টং হয়ে আছে। সারা রাত মোবাইলে চার্জ দিয়ে সকালে উঠে দ্যেখে মোবাইলে কোন চার্জই হয়নি। চার্জারটা পুরাপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এদিকে হাতে কোন টাকা নাই যে নতুন চার্জার কিনবে। আবার না কিনলেও না, কারন চার্জ দিতে না পারলে মোবাইল অচল।

কাউসার পারভেজের বেলায় প্রায়ই এই রকম ঘটনা ঘটে। ঠিক যখন হাতে টাকা থাকে না তখনই এই ধরনের ঘটনা গুলি ঘটতেই থাকে। কোন কিছু না হলে, হয় পায়ের জুতা ছিড়েযাবে না হয় সেভিং জেল, পেস্ট বা রেজার শেষ হয়ে যাবে। বাধ্য হয়ে তাকে লোন করতেই হয়।

কাউসার পারভেজ প্রতি মাসেই মনে মনে ভাবে এই মাসে যতই কষ্ট হোক এক টাকাও লোন করবে না, কিন্তু এই ধরনের ঘটনায় লোন না করেও কোন উপায় থাকে না।

কাউসার পারভেজ মিরপুরে থাকে। এখানে সে একটা ফার্নিচারের দোকানে চাকরি করে। বেতন খুবই অল্প। কোন রকম নিজে চলার টাকাটা রেখে বকি টাকা গুলি তাকে গ্রামের বাড়ি খুলনার বটিয়াঘাটায় পাঠিয়ে দিতে হয়। ওখানে তার স্ত্রী ছাড়াও দুইটা ছেলে মেয়ে আছে। সবাই তার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে, সে টাকা দিতে না পারলে সংসার অচল।

কাউসার পারভেজ এক রুমমেটের থেকে চারশ টাকা লোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়। এখন সকাল দশটা বাজে। এগারোটা থেকে তার কাজ, হাতে আছে এক ঘন্টা। এর মধ্যে চল্লিশ মিনিট লাগবে কাজের এলাকায় বাসে করে যেতে। তাকে বিশ মিনিটের মধ্যে চার্জার কিনে কাজে যেতে হবে।

বাস থেকে নেমে তাড়াতাড়ি একটা মোবাইলের শোরুমে ঢুকে কাউসার পারভেজের টং মেজাজটা আরো টং হয়ে যায়। হাতে নাই সময় এর মধ্যে লম্বা লাইন। তার আগে আরো চার জন। মানে আধা ঘন্টা। আমাদের দেশ হলে লাইন মাইন তো দুরের কথা হামকি ধামকি মারলেই হলো। এখানে কোন উপায় নাই, রীতিমত টোকেন নাম্বার নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে জিনিস কিনতে হয়। কোন উপায় না পেয়ে কাউসার পারভেজ এই দোকান থেকে বের হয়ে আরেকটা দোকানে যায়, এখানেও একই অবস্থা। ঘুরতে ঘুরতে চার পাঁচটা দোকান ঘুরে এক দোকানে ফাঁকা পায় কিন্তু সে চার্জার কিনতে পারে না। কারন নগদ টাকায় কেনা যাবে না তাকে ক্রেডিট কার্ডে কিনতে হবে। কাউসার পারভেজের ব্যাংকে কোন টাকা নাই, তার টং মেজাজটা এখন তিরিক্ষে। সে সাতচল্লিশ মিনিট লেট করে কাজে ঢুকে।

-কি ব্যাপার কাউসার ভাই, এতো লেট কেন?

-করিম ভাই, আমার একটা কাজ করে দিবেন? আপনার তো দুইটার পর ছুটি।

-কি কাজ বলেন?

-ঐ সামনের মোবাইলের শোরুম থেকে আমাকে একটা আই ফোনের চার্জার কিনে দিবেন? আমি আপনাকে নগদ টাকা দিয়ে দিচ্ছি, আপনি আপনার ক্রেডিট কার্ডে কিনে দিবেন। অরিজিনাল টা ক্রেডিট কার্ড ছাড়া কেনা যায় নাকি। আমার ব্যাংক একাউন্টে কোন টাকা নাই।

-এটা কোন ব্যাপার হলো কাউসার ভাই। দেন টাকা দেন।

-থ্যাংকিউ ভাই। নগত টাকায় যেগুলি পাওয়া যায়, সেগুলি দুই নাম্বার নকল। আপনি অরিজিনাল চার্জারটা নিবেন।

-ঠিক আছে কাউসার ভাই, আপনি কোন চিন্তা করেন না।

কাউসার পারভেজের তিরিক্ষি মেজাজটা একটু শীতল হলেও মেজাজ খারাপটা এখনো যায়নি। যতক্ষন না চার্জার হাতে পাচ্ছে ততক্ষন তার মেজাজ ভালো হবে না।

করিম ভাই ছুটির পর টাকা নিয়ে গিয়ে কাউসার পারভেজকে নতুন চার্জার কিনে দিয়েই চলে যায়। কাউসার পারভেজ চার্জারের প্যাকেট আর ম্যামো দেখেই তার তিরিক্ষি মেজাজটা এখন চরমে। করিম ভাই নগদ টাকায় দুই নাম্বার জিনিস কিনে আনে।

চরমের গরম মেজাজ নিয়েই সে কাজ করে, এরই মধ্যে দুই একজন কাস্টমারের সাথেও খারাপ ব্যাবহার করে। কোন অবস্থাতেই কাউসার পারভেজ এই দুই নাম্বার চার্জার ব্যাবহার করবে না। তার ধারনা আই ফোনের বাইরে কোন জিনিস ব্যাবহার করলে তার দামি মোবাইলটার বারোটা বেজে যাবে।

কাউসার পারভেজের সামান্য চার্জার নিয়ে মেজাজ খারাপ হওয়ার অন্যতম কারন তার স্ত্রী রেহানা। রেহানার সাথে কাউসারের বিয়ে হয় একুশ বছর আগে। কাল তাদের বিবাহ বার্ষিকী। কাউসার পারভেজ মনে মনে ঠিক করেছিলো, কাল সে সারারাত রেহানার সাথে কথা বলে কাটাবে।কাজ শেষে কাউসার পরভেজ মোবাইলের কাস্টমার কেয়ার সার্ভিসে যায় । একজন মোবাইল দেখে বলে ” এটি স্যামসং লেখা সেলফোন হলেও নকল । জিঞ্জিরা মেইড । এটির চার্জার তাদের কাছে নেই ।”

এতটুকু বলে উপদেশ দেয় লোকটি “ভাই ভাল মোবাইল কিনলে অরিজিন্যাল শো-রুম থেকে কিনবেন ।”

কাউসার পারভেজের মোবাইল এখন পুরাপুরি বন্ধ। সে পরশুদিনের আগে আর কিছুই করতে পারবে না, কারন কাল শুক্রবার হওয়াতে সব কিছু বন্ধ।

বার বার রেহানার কথা মনে করে কাউসার পারভেজের মেজাজটা তিরিক্ষেই থেকে যায়…..।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।