জুলেখার যত ভয়

নীলফামারীর ডিমলার রায়পুর গ্রামের জুলেখা ( ছদ্মনাম )আব্দুল গফুরের( ছদ্মনাম) মেয়ে। জুলেখা বলতে আব্দুল গফুর অজ্ঞান। জুলেখা যা বলে যা চায় আব্দুল গফুর তাই করে। টাকা পয়সা না থাকলে, ধার কর্জ করে হলেও, পরী’র সব চাহিদা সে পূরণ করে।

জুলেখা মাত্র ক্লাস এইটে পড়ে । ২০১৭ সালে ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হওয়ার তিনদিন আগে জুলেখা বাড়ি ফিরে বলে সে আর পরীক্ষা দিবে না । গফুর সাহেব অবাক হন । মেয়ে তার মেধাবী । কেন পরীক্ষা দেবে না বললে কিছুই বলে ন । রাতে জুলেখার ভীষণ জ্বর আছে ।

গফুর সাহেবের স্ত্রী মাথায় জলপট্রি দেন । অষুধ দেন । পরদিন ভোরে জ্বর কমলে গফুর সাহেব বলেন , “ মা জুলেখা পরীক্ষাটা দিয়ে দে । অার মাত্র তিনদিন । নাহলে তোর একবছর লস হবে ।

জুলেখা বলে , আব্বু আমার ভয় করে ।

কিসের ভয় ?

জানি না ।

এটা কেমন কথা ?

তোকে তো অজানা ভয়ে পাবার কথা না । বিজ্ঞানের অনেক কিছু আমি শিখিয়েছি ।

আব্বুকে মানুষকে ভয় করে ।

গফুর সাহেব মনে করেন এই ছোটমেয়েটির মাঝেও দার্শনিকতা পেয়ে বসেছে । বলেন , চল তোকে আমি পরীক্ষাহলে নিয়ে যাব । আসব ।

জুলেখা রাজী হয় । তিনদিনই পরীক্ষার হলে যাওয়ার পথে গফুর সাহেব দেখেন তিন চারটি ছেলে আলোছায়া স্টুডিওর সামনে দাড়িয়ে জুলেখার দৃষ্টি আকষর্ণের চেষ্টা করে ।  যাহোক পরীক্ষা শেষ হয় ।

এর কিছুদন পরইগফুর সাহেব বাজার থেকে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরে জুলেখাকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে বলেন , তুই একি করলি মা । আমার সব মানইজ্জ্বত ধূলোয় মিশিয়ে দিলি । বাজারে সবাই রিমনের সাথে তোর আপত্তিকর ছবি দেখছে মোবাইলে ইন্টারনেটে । একি করলি মা ?

জুলেখা তখন বলে , আব্বু আমি তোমাকে বলতে চেয়েছিলাম । মানুষকে ভয় করে এজন্য বলেছিলাম । যেদিন বলেছিলাম সেদিন রিমন আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল । আমি রাজি না হওয়ায় দেখে নিবে বলেছিল । তাই আর বাসার বাইরে বের হতে চাইনি । কিন্তু ফাইনাল পরীক্ষার শেষের দিন রিমন ও তার দুই সহযোগী আমাকে স্কুলের মাঠে একা পেয়ে জোর করে কিছু আপত্তিকর ছবি তোলে এবং রিমন হুমকি দেয় তার সাথে প্রেম না করলে ওসব জড়িয়ে ধরা ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিবে ।

গফুর সাহেব ওইদিনই স্থানীয় চেয়ারম্যানকে জানান ও থানায় সাইবার আইনে মামলা করেন । পরদিনই রিমন ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করে পুলিশ । রায়পুর থানার ওসি মকবুল হোসেন ঘটনার সত্যতা উদ্ধার করে বলেন , ঘটনা সত্য । পুলিশ ওই ভিডিওটি জব্দ করেছে ।

কিন্তু এরপর থেকেই জুলেখা প্যারানয়েডে রোগে আক্রান্ত হয় । শুধু ভয় তার কেউ তাকে মেরে ফেলবে । ধর্ষণ করবে । সে ঘর থেকে আর বের হয় না । এদিকে গফুর সাহেব বাড়ির বাইরে বেরুলে বুঝতে পারেন তাকে দেখে ওই ভিডিও বিষয়ে তার মেয়েকেই দায়ি করে লোকজন । ইশারায় টিটকারি মারে ।

তিনি সব হজম করেন । তবু বাসায় ফিরে জুলেখাকে যখন আরও বিমর্ষ দেখেন তখন আর বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করে না ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।