দায়মুল কবিরাজের কথা : হারিয়ে যাচ্ছে ভেষজ গাছগাছড়া

গাংনী উপজেলার গাঁড়াডোব গ্রামের ইসলামপুর পাড়ায় বাস দায়মুল কবিরাজের। নামে কবিরাজ হলেও আসলে তিনি কবিরাজি করেন না। তার কাছে আমাদের গ্রামগঞ্জে পাওয়া ভেষজ গুণ সম্পন্ন গাছের বই আছে। আর সেই বই দেখে ভেষজ গাছ চিনে তা সংগ্রহ করে সেগুলোকে রোদে শুকিয়ে তিনি বিভিন্ন আয়ুর্বেদ কোম্পানির কাছে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে সংসার চালান। যখন আমি তার বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম তখন তার ঘরের পিছনে এবং উঠোনে অনেক পূনর্ণভা গাছ দেখলাম। কিছু সদ্য তুলে এনে রাখা হয়েছে। আর কিছু গাছ কেটে টুকরো করে শুকোতে দেওয়া হয়েছে। এর  সাথে আছে কালোমেঘ, তুলসি, বাসক সহ আরো অনেক ভেষজ গাছ। আমি আশাবাদী হয়ে উঠেছিলাম এটা ভেবে যে হয়ত এই সব ভেষজের চাষ হচ্ছে। কিন্তু জানা গেল এগুলো তিনি লেবার দিয়ে নানা গ্রামের ঝোড় জংগল থেকে সংগ্রহ করেন। আমি জানতে চাওয়ার আগেই তিনি বললেন, একদিন এভাবেই সব শেষ হয়ে যাবে। আমি বললাম, তাহলে এগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা করছেন না কেন? তার সোজা উত্তর কিভাবে করবো? আমার কি জমি জায়গা আছে? আমি বলি, তাহলে রাস্তার ধারে এগুলো করুন না? মনে হলো তার এই কথাটা পছন্দ হলো। কিছু ভেষজ গাছ রাস্তার ধারে করা যেতেই পারে। সেক্ষেত্রে কারো অনুমতি লাগলে নেওয়া যাবে। আবার যেতে হবে দায়মুল কবিরাজের বাড়ি। এই মূল্যবান সম্পদকে ধ্বংস হতে দেওয়া যাবে না কিছুতেই!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।