দেশের প্রথম পরিসংখ্যান উৎসব পালিত হল জাবিতে

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।উৎসব নিয়ে ক্লাবের হেড আব ডিরেক্টরস ও পরিসংখ্যান বিভাগের চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্র কারিমুজ্জামান সানি বলেন, উৎসবে সকাল নয়টা থেকে একটা পর্যন্ত উদ্বোধন, র‌্যালি, ও স্টাটিসটিক্যাল পোস্টার প্রেজেন্টেশন হয়। এবং বিরতি দিয়ে দুপুর থেকে প্রবলেম সলভিং কম্পিটিশন ও দেশ সেরা পরিসংখ্যানবিদদের আলোচনা শেষে সন্ধ্যা ছয়টায় সমাপ্ত হয়।

আদীব মুমিন আরিফ।
ব্যাক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে জাতীয় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বা নীতি গ্রহণ পরিসংখ্যান ছাড়া কল্পনা করা যায় না। পরিসংখ্যান মানুষের জীবনকে সহজ করে। যেকোন বিষয়ে দ্রত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে সাহায্য করে। দেশের প্রথম পরিসংখ্যান উৎসবে পরিসংখ্যানের গুরুত্ব নিয়ে বলছিলেন দেশ সেরা পরিসংখ্যানবিদরা।
২০১০ থেকে প্রতিবছর ২০ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পরিসংখ্যান দিবস।  তারই ধারাবাহিকতায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টাটিসটিকস লিড ক্লাবের আয়োজনে ২৭ অক্টোবর দেশের প্রথম পরিসংখ্যান উৎসব-২০১৭ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ও সুভিনিয়্যর এর মোড়ক উন্মোচন করেন। অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, পরিসংখ্যান বিষয়ের বিচরণ সর্বত্র। তাই দেশের প্রথম এ বিষয়ে উৎসবের আয়োজন করায় ক্লাবটিকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।উৎসব নিয়ে ক্লাবের হেড আব ডিরেক্টরস ও পরিসংখ্যান বিভাগের চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্র কারিমুজ্জামান সানি বলেন, উৎসবে সকাল নয়টা থেকে একটা পর্যন্ত উদ্বোধন, র‌্যালি, ও স্টাটিসটিক্যাল পোস্টার প্রেজেন্টেশন হয়। এবং বিরতি দিয়ে দুপুর থেকে প্রবলেম সলভিং কম্পিটিশন ও দেশ সেরা পরিসংখ্যানবিদদের আলোচনা শেষে সন্ধ্যা ছয়টায় সমাপ্ত হয়।
উৎসবে স্টাটিসটিক্যাল পোস্টার প্রেজেন্টেশন প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০ টি দল অংশগ্রহন গ্রহন করে। চ্যাম্পিয়ন হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের টিম “থ্রি ডাইমেনশন”।  চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য ছিলেন পরিসংখ্যান বিভাগের স্নাতক চূড়ান্ত বর্ষের উম্মে হানী, সাঈদা নুরী জান্নাত ও ইসরাত জাহান। তাদের উপস্থাপিত পোস্টার নিয়ে উম্মে হানী বলেন, বিভিন্ন সময়ে সিগনাল প্রসেসিং এ পরিসংখ্যান এর ব্যবহার তুলে ধরি।
প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার্স আপ হয় বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং দ্বিতীয় রানার্স আপ মাওলানা ভাসানী  বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া আন্ত:বিশ্বিদ্যালয় পোস্টার প্রেজেন্টেশনে চ্যাম্পিয়ন  বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ।তাদের দলের সদস্যরা হলেন ফারিহা আফনান শাহেদ, সামিরা তাসনিম মিম ও উলফাত-আরা-বৃস্টি। তারা স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাদের উপস্থাপিত পোস্টারটি ছিল পরিসংখ্যান ও অর্থনীতির তত্ত্বকে যুগপৎ ব্যবহারে কিভাবে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়।

দিনের অন্য একটি প্রতিযোগিতা স্টাটিসটিক্যাল প্রবলেম সলভিং এ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২৫ টি দল অংশগ্রহণ করে। এখানে চ্যাম্পিয়ন হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দল “ডিগনিটাস”। দলের সদস্যরা হলেন পরিসংখ্যান বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী সাবিনা ইয়াসমিন শীলা, সাবিনা ইয়াসমিন ও স্নাতক চূড়ান্ত বর্ষের ইমরান হুসের সুমন।এছাড়া প্রথম রানার্স আপও হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দল এ্যাট্রিবিউটস এবং দ্বিতীয় রানার্স আপ হয় মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
অনুষ্ঠানে ‘মিট দ্যা রিয়েল হিরোস’ নামক অনুপ্রেরণামূলক পর্বে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সবুর খান। গবেষণা ক্ষেত্রের আইকন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ -আল-মামুন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মো: আমির হোসেন, গাণিতিক ও পদার্থ বিষয়ক অনুষদের ডীন অজিত কুমার মজুমদার ও এবং পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যান ও লিড ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সৈয়দা শাহানারা হক সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক এবং পরিসংখ্যান বিভাগের সাবেক ছাত্রছাত্রীবৃন্দ।
উৎসবের উদ্যোক্তা ও ক্লাবের উপদেষ্টা পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, পরিসংখ্যানের চর্চা এবং ছাত্র-ছাত্রীদের জ্ঞানকে নতুন এক মাত্রায় পৌছে দেওয়া এবং সাথে সাথে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পর্বে টিকে থাকার লক্ষ্যে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ক্লাবটি প্রতিষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে স্টাটিসটিকস লিড ক্লাব জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগে যাত্রা শুরু করে।
উৎসব নিয়ে পরিসংখ্যান বিভাগের সভাপতি ও ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সৈয়দা শাহানারা হক বলেন, এরকম একটি সুন্দর উৎসব আয়োজনের জন্য ক্লাবের সকল সদস্য ও বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। ক্লাবটি ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষামূলক দক্ষতা বৃদ্ধিতে একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যা আগামীতে উদ্ভাবনী জ্ঞান ও দক্ষ নেতৃত্ব গঠনে ভুমিকা রাখবে বলে আমি আশা করি।

২৪/১১/১৭

আদীব মুমিন আরিফ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।