নিজ বাড়ীর আঙ্গিনায় চিড়িয়াখানা

এক সময়ের দুর্ধর্ষ শিকারী সিতেশ রঞ্জন দেব সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন মিনি এ চিড়িয়াখানাটি।তার মিনি চিড়িয়াখানায় রয়েছে দূর্লভ ও বিলুপ্তপ্রায় কিছু প্রাণী।

শ্রীমঙ্গল ঘুরে এসে,
পুরো নাম সীতেশ রঞ্জন দেব। সত্তর ছুঁই ছুঁই করছে। তিনি শিকারী সীতেশ বাবু নামে সর্বাধিক পরিচিত। বিভিন্ন সময় সরকারি টোকেন নিয়ে সিলেটের বনে জঙ্গলে শিকার করতেন। ধীরে ধীরে তিনি সবার কাছে প্রাণী সংরক্ষণবিদ হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। শিকার করতে করতে একসময় তিনি নিজেই চিড়িয়াখানা নির্মাণ করেন।
শ্রীমঙ্গলে তাঁর মিশন রোডস’ বাসভবনে ১৯৭২ সালে শুরু করেন চিড়িয়াখানাটি। বর্তমানে হাইল হাওরঘেঁষা নিজের জমিতে স্থানান্তর করেছেন এটি।
সিতেশ দেবের চিড়িয়াখানা-এক নামে পরিচিত। এক সময়ের দুর্ধর্ষ শিকারী সিতেশ রঞ্জন দেব সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন মিনি এ চিড়িয়াখানাটি।তার মিনি চিড়িয়াখানায় রয়েছে দূর্লভ ও বিলুপ্তপ্রায় কিছু প্রাণী।
বর্তমানে ভাল্লুক, পাহাড়ি ময়না, গন্ধগকোল, হরিয়াল, লক্ষণ টিয়া, ধনেশ, গুইসাপ, উরুক্কু কাঠবিড়ালি, বিরল প্রজাতির সাদা আলবিনো বাঘ, মেছো বাঘ, গোল্ডেন টারটইল বা সোনালী কচ্ছপ, সোনালী বাঘ, লজ্জাবতী বানর, সাইবেরিয়ান লেজ্জা লামবার্ড, ঘুঘু, বানর, বন্যমথুরা, বন্যমোরগ, সরালী, কালেম, ময়না, বন্যমাছ, অজগর সাপ, মেলর্ড, তিতির, মায়া হরিণ, সজারু, ইন্ডিয়ান সোনালী বানর, বন্যখরগোস, সাদা খরগোস প্রভৃতি প্রাণী রয়েছে তাঁর চিড়িয়াখানায়।
সিতেশ বাবুর পুত্র সঞ্জিত জানালেন “ সম্পূর্ণই নিজস্ব অর্থায়নে তাদের এই চিরিয়াখানা চালানো হয় মাসিক ব্যয় প্রায় ১০-১৫ হাজার টাকা। কোন রকম সরকারি সাহায্য পান না তারা’’।
সিতেশ বাবু বলেন “ বেশ কয়েকবার সরকারি সাহায্য আসার কথা থাকলেও রাজনৈতিক কারণে তিনি সেই সাহায্য পান নি’’।
বিলুপ্ত প্রানী গুলোর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য আছে। সোনালী কচ্ছপের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে-এরা গাছে বসবাস করে। ভূলেও কখনো পানিতে নামে না। সব সময় শুকনো খাবার খায়। লজ্জাবতী বানর দিনের বেলা মাথা নিচু করে, চোখ বন্ধ করে বসে থাকে। দিনে কোন খাবার খায় না। রাতের আধাঁরে স্বাভাবিক চলাফেরা করে এবং খাবার গ্রহন করে। এটি একটি বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী।

চিড়িয়াখানার অন্যতম আকর্ষন সোনালী বাঘ। বিলুপ্ত প্রজাতির এই প্রাণীদের আবাস মূলত গভীর জঙ্গলে। আকারে ছোট এ বাঘ অত্যন্ত হিংস্র। সাদা বাঘ দেশের আর কোন চিড়িয়াখানায় নেই। তাই এটিকে দূর্লভ প্রাণী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আপনি সিতেশ বাবুর চিড়িয়াখানায় গিয়ে এসব প্রাণী দেখে আসতে পারেন। আপনার অভিজ্ঞতার ভান্ডার সমৃদ্ধ করতে প্রাণীগুলোর বৈশিষ্ট্য জেনে নিতে পারেন সদা হাস্যোজ্জল সিতেশ রঞ্জন দেবের কাছ থেকে।

অনিক জাবের

০৯/১১/১৭

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।