বহু কাজের কাজী, একজন রিক্সাচালক

লোকটির নাম আনোয়ার। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে রিক্সা চালান। প্রায় সতের বছর যাবৎ তিনি এই ক্যাম্পাসের বাসিন্দা্। তিনি শুধু রিক্সাই চালান না। এছাড়া তিনি একজন দক্ষ কৃষক ও নির্মাণ শ্রমিক। তার গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রাম।সেখানে তার পরিবার বসবাস করে। আনোয়ার মিয়া মাঝে মাঝে বিভিন্ন ব্রিজ ও নদীর বাধের কাজ করেন।তেমনি তিনি কাজ করেছিলেন কর্ণফুলি ব্রিজের নির্মাণ কাজে। সেখানে তিনি দুবছর কাজ করে চার লক্ষ টাকা জমা করেন।এরপর সেই টাকা দিয়ে চার বিঘা জমি পাঁচ বছরের জন্য আত্তান নেন।অর্থাৎ জমির মালিককে তিনি চার লক্ষ টাকা দিয়েছেন বিনিময়ে তিনি পাঁচ বছর এই জমি চাষ করে ফসল নিবেন।পাঁচ বছর পর তিনি টাকা ফিরত নিবেন এবং জমি ফিরিয়ে দিবেন।আনোয়ার মিয়া তিনি নিজের জমিতে নিজেই চাষ করেন।

প্রতিবছর তিনি জমি থেকে প্রায় ১২০-১৪০ মন ধান পান।এছাড়া বাড়িতে গরু ছাগলও পালেন।যখনই তিনি কৃষি কাজে একটু ১৫-২০ দিনের জন্য বিরতি পান চলে আসেন ঢাকায় রিক্সা চালাতে এভাবে ১৫ বা ২০ দিন রিক্সা চালিয়ে ৮-১০ হাজার টাকা হলে আবার বাড়ি যান। মাঝে মাঝে সুযোগ পেলে তিনি নির্মাণ শ্রমিকের কাজও করেন।বিভিন্ন কন্ট্রাকদারদের সাথে তার যোগাযোগ আছে তারা কাজ পেলে তাকে খবর দেন।তখন তিনি রিক্সা চালানো বাদ দিয়ে নির্মাণ কাজে চলে যান। মামা রিক্সা চালাতে অনেক কষ্ট। সারাদিন কষ্ট করে চালালে ৫০ টাকা রিক্সার মালিককে ভাড়া দিয়ে নিজে খেয়ে মাত্র ৫০০-৭০০ টাকা থাকে।আর একদিন বাধেঁ কাজ করলে ৮০০-১০০০ টাকা দেয় কষ্টও কম।এভাবে নিজের কষ্টের কথা বলেন আনোয়ার মিয়া্। আনোয়ার মিয়ার আতালে ছয়টি গরু ছিল তার চারটি বিক্রি করে এবার দুই মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করেন।চার মেয়ে আর এক ছেলে ও স্বামী-স্ত্রীসহ পরিবারে সদস্য মোট সাতজন। তিন মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। এবারের বন্যায় তার তিন বিঘা জমির প্রায় ৮০ মন ধান নষ্ট হয়ে যায়।তারপরও তিনি টিকে আছের রিক্সা চালিয়ে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।