বানভাসিদের পাশে ইফসা ও এক্সপ্লোরারস

আদীব মুমিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

উত্তরাঞ্চলের বন্যা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাড়িয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি সংগঠন। ইয়ুথ ফোর সোসিয়াল এইড (ইফসা) ও জেইউ এক্সপ্লোরারস। তাদের নিয়ে আজকের আয়োজন।

আমরা প্রতিবছর বিভিন্ন দুর্যগের সময়ে নানা ধরনের সাহায্যমূলক সামাজিক কাজ করে থাকি। তাই এবারও বন্যা হওয়ার পর আমাদের ফেইসবুক পেইজে অনেক অনুরোধ আসে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাড়ানোর জন্য।অনুরোধ পেয়ে আমরা ইফসার সকল সদস্যরা বসে সিদ্ধান্ত নিই কিভাবে কি করা যায়।পনের তারিখ রাতে আমরা একটা ফেইজবুক ইভেন্ট খুলি।সেপ্টেম্বরের ষোল তারিখ আমরা প্রথম টাকা কালেকশন শুরু করি। বললেন ইফসার সাধারন সম্পাদক ও দর্শন বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র ফয়সাল মাহমুদ শান্ত।ইফসার সাথে জেইউ এক্সপ্লোরারস এর যোগাযোগ হয় দর্শন বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্রী আসিফা সুলতানার মাধ্যমে।এরপর দুটি সংগঠনের প্রায় ৪০ সদস্য একসাথে কাজ শুরু করে। ইফসার সভাপতি সুরাইয়া খানম মুক্তি, মার্কেটিং বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্রী বলেন, আমরা দুটি মাধ্যমে টাকা তুলি প্রথমে বিভিন্ন জায়গায় সরাসরি মানুষের কাছে চাঁদা নিয়ে আর অন্যটি নিজেদের পরিচিত আত্মীয় বা শিক্ষকদের কাছ থেকে।মাঠে আমরা মোট চারদিন টাকা কালেকশন করি।প্রথমদিন ষোল তারিখ বুধবার ক্যাম্পাসে, ১৮ তারিখ ক্যাম্পাস, স্মৃতিসৌধ, সাভার মিনি-চিড়িয়াখানা।২০ তারিখ  তেজঁগাও গীর্জায় এবং ২২ তারিখ মঙ্গলবার সাভার সিটিসেন্টার ও নিউমার্কেট।অন্যান্য দিনগুলোতে আমরা শিক্ষকদের থেকে ব্যক্তিগত পরিচিতজনদের থেকে টাকা তুলি। শুক্রবার আমরা দুই-তিন জন সদস্যের একটি গ্রুপ করে প্রায় দশটি গ্রুপ ক্যাম্পাসে, স্মৃতিসৌধে, অরণ্যালয় মিনি চিড়িয়াখানাসহ বিভিন্ন জায়গায় চাঁদা তুলি।আমি ছিলাম শহীদমিনার, অডিটোরিয়াম ও জিমনেসিয়ামের দায়িত্বে, বললেন সঞ্চিতা শিকদার । তার সাথে আরো ছিল  রেজা ও আসাদ আমরা বিকাল তিনটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত টাকা তুলি।

মাহির শাহরিয়ার প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র ও জেইু্-এক্সপ্লোরারস এর সদস্য বলেন, শুক্রবার আমার দায়িত্ব ছিল জুমার নামাজের পর জাবির মেন্ট্রাল মসজিদে এবং বিকেলে সাভার স্মৃতিসৌধে। আমার সাথে আরো ছিল প্রথম বর্ষের বাবু, প্রভা ও পাখি। বিকাল চারটা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমরা স্মৃতিসৌধে টাকা তুলি।টাকা তুলে আসার সময় গেটের দাড়োয়ানরা একটু ঝামেলা করে পরে আমাদের শিক্ষক ফোন করলে ঠিক হয়ে যায়। এছাড়া শুক্রবার ডেইরি গেইটে টাকা তুলেন জোবায়েদ অনিক, নুসরাত ও পৃথা।ট্রান্সপোটে তুলেন মুজামুল তানভী, মুমতাহিনা ও রিচার্ড।অরণ্যালয় বা মিনি-চিড়িয়াখানায় আশ্রাফুল ইসলাম , রবিউল ও রিফাত। শুক্রবার তাদের সবচেয়ে বেশি কালেকশন হয়। প্রায় ৫২ হাজার টাকা তুলে। টাকা তুলার জন্য প্রত্যেক দলের কাছে একটি করে অফসেট কাগজের খালি বাক্স দেয়া হয়।রবিবার আমরা টাকা তুলতে বের হই ঢাকার তেজগাও এর একটি গীর্জায়।আমার সাথে ছিল ৩য় বর্ষের মুন্নি, রিফাত ও ২য় বর্বেষর সাদিক। সেখানে আমরা গাড়ো সমিতির সাহয্যে টাকা তুলি। গীর্জায় প্রায় ১৫ হাজার টাকার মত কালেকশন করি।বললেন সুরাইয়া খানম মুক্তি।বিভিন্ন জায়গায় টাকা তোলার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি এবং সাভার থানার অবগতির দায়িত্বে থাকি আমি। এছাড়া দুটি সংগঠনের সদস্যদের মাঝে যোগায়োগ এবং সমন্বয় করে কাজ করার জন্য আমার সাথে প্রত্নতত্ত্বের চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্র ও জেইউ-এক্সপ্লোরারস এর সাধারন সম্পাদক মেহেদী হাসান সৈকত ভাই অনেক সাহায্য করে।দুটি সংগঠনের সমন্বয় নিয়ে বললেন ফয়সাল মাহমুদ শান্ত।

সোমবার তাদের মাঠ পর্যায়ে ছিল শেষ কালেকশন।এদিন তারা সাভারের বড় দুটি মার্কেট সিটিসেন্টার ও নিউমার্কেট এর সামনে টাকা তুলে।চারটি গ্রুপে প্রায় পনেরজন টাকা কালেকশন করে।সিটিসেন্টারের সামনে ছিল সুরাইয়া মুক্তি, সঞ্চিতা শিকদার, মমতাজুল আরিফ, মাহিদুল ইসলাম, সাদিক, নুসরাত, জোবায়েদ অনিক ও ফয়সাল শান্ত।সঞ্চিতা বলেন, আমরা বাক্স নিয়ে মার্কেটের সামনে দাড়িঁয়ে ছিলাম । সবাই ২, ৫, ১০ ,২০ যে যা পারতো আমাদের দিত। অনেকে বলতো টাকা ঠিকমত পৌছাবেতো তখন আমরা তাকে নিশ্চিত করতাম।বিশেষ করে কর্মজীবি লোকেরা দান করতো। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২ ব্যাচের এক ভাই আমাকে দেখে জিজ্ঞাস করলো আমরা জাহাঙ্গীরনগর থেকে আসছি কিনা । তখন ভাই আমাদের খূব উৎসাহ দিল। সুরাইয় মুক্তি বলেন মানুষ খুব আশ্বাস চাচ্ছিল সে যে টাকাটা দিচ্ছে তা সঠিকভাভে পৌছাবে কিনা। নিউমার্কেটের সামনে ছিল মাইদুল মিঠুন, আশ্রাফুল ইসলাম, মুমতাহিনা, রিচার্ড, মুজামুল তানভী, ও মাহির শাহরিয়ার। মাইদুল মিঠুন বলেন আমরা নিউমার্কেটের সামনে বাক্স হাতে দাড়িঁয়ে ছিলাম তখন স্কুলের চারটি শিক্ষার্থী আসলো আমাদের দেখে বললো ভাই আপনারা জাবি থেকে আসছেন দেখলেতো মনে হয়না।এরপর আমাদের সাথে কথা বললে তারা বিষয়টি বুঝতে পারে। আবার আর এক কাকা এস বলে এরকম কত টাকা তুলে, সবাই টাকা মেরে দেয় । তখন আমরা তাদের বিস্তারিত বলে আশ্বস্ত করি। এভাবে তারা বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় আট হাজার টাকা তুলতে পারে।

আর বাকি ২৫ হাজার টাকা তারা বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষক ব্যক্তিগত পরিচিতজনদের থেকে তুলে।এর মধ্যে চূড়ান্ত বর্ষের দর্শন বিভাগের ছাত্রী নাজনিন করিম ও মার্কেটিং বিভাগের তাসমিয়া তাবাস্সুম ব্যক্কিগতভাবে কিছূ টাকা তুলে দেন।তারা দুজনই ইফসার সাবেক সহ-সভপতি।সংগঠনটির সার্বিক কাজে আর্থিক ও পরামর্শ দিয়ে দিকনির্দেশনা দেন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক নুরুল কবীর ও জেনেটিক ইঞ্জিনারিং বিভাগের সহকারি অধ্যঅপক ড. শরিফ হোসেন।

২৩ তারিখ পর্যন্ত তাদের টাকা কালেকশন শেষ হয়।২৪ তারিখ তার রাত এগারটায় রংপুরের বদরগঞ্জ থানার লোহানিপাড়া ইউনিয়নের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।ত্রাণ বিতরণের জন্য তারা মোট বারজন পনেরশো টাকা করে টোটাল ১৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি মাইক্রো ভাড়া করে।এরা হলেন ফয়সাল শান্ত, মমতাজুল আরিফ, রবিউল নোমান, আশিক আল অনিক, এম তারেক, মাইদুল মিঠূন আবু নাহিয়ান, মেহেদী হাসান, রিফাত, সালেহীন ও মাহির শাহরিয়ার। ২৫ তারিখ সকাল দশটায় তারা বদরনগঞ্জ পৌছায়।বিকাল তিনটার মধ্যে মোট তিনশত বিশটি প্যাকেট করে তার ত্রাণ বিতরণ শুরু করে।প্রতিচি প্যাকেটে ছিল পাঁচ কেজি চাল, দুই কেজি ডা্ল, দেই কেজি আলু ও কিছু ঔষধপত্র। বদরগঞ্জ থানা চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বি সুইট ও লোহানিপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দুলু শাহার সাহায্যে তারা কাঁচা বাড়ি উচ্চবিদ্যালয়ে ত্রাণ কার্যক্রম সম্পন্ন করে।বদরগঞ্জ থানায় বাড়ি ছিল মিহির শাহরিয়ারের। তিনি চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে ত্রাণের ব্যবস্থা করেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।