‘বিনামূল্যের ফরম কিনতে হলো টাকা দিয়ে’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের ৪১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মওদুদ আহমেদ সুজন। গত ৩ সেপ্টেম্বর রোববার বেনাপোলের  সীমান্ত দিয়ে ভারত যাওয়ার সময় যেসব ভোগান্তির শিকার হয়েছেন ‘দেশগড়ির’ সাথে আলাপকালে তা তিনি এভাবেই বর্ননা করেছেন ——

 

রোববার তখন সকাল প্রায় নয়টা। বেনাপোল ইমিগ্রেশন ভবনের সামনে দাঁড়াতে না দাঁড়াতেই বহির্গমন ফরম নিয়ে একজন হাজির। যে ফরমটা বিনামূল্যে পাবার কথা সে ফরমটা হাতে পেতে এবং পূরণ করতে একজন মধ্যস্বত্ত্বভোগীকে ১০ টাকা দিতে হলো।

 

এরপর একটু সামনে যেতেই কাউন্টারে নব নির্মিত টার্মিনাল ফি বাবদ ৪০ টাকা দাবি করলো। দিলাম ৪০ টাকা সেখানে। ইতোমধ্যে দুইজন মধ্যস্বত্ত্বভোগী ২০০ টাকার বিনিময়ে সবকাজ করে দেবেন বলে প্রস্তাব দিতে থাকলো! কিন্তু আমি তাদের সে প্রস্তাবে রাজি না হয়ে সামনের দিকে যেতে থাকলাম।

তারপর স্ক্যানার দরজা দিয়ে যাবার সময় পেলাম ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা। সবাইকে স্ক্যান দিয়ে যেতে হয়না। ‘বিশেষ কিছু মুখদের’ দেখলাম যারা স্ক্যানারকে পাশ কাটিয়ে ভিতরে প্রবেশ করছে। সবখানেই বিশাল লাইন;এলোমেলো অবস্থা কিন্তু সেই স্ক্যান বিহীন প্রবেশ করা বিশেষ কিছু লোকদের কোন জামেলাই পোহাতে হচ্ছে না । তারা অনায়াসে সব পার হয়ে ভিতরে প্রবেশ করলো।

ভেতরে ঢুকে অবাক হবার মাত্রাটা আরও বেড়ে গেল। নিজ দেশের সরকারকে ৫০০ টাকা ভ্রমণকর দিতে হবে! দিলাম; সেখানকার ক্যাশম্যান ‘খুশি হয়ে ২০ টাকা চাইলেন! খুশি নই মোটেও; তাই দিলাম না।

এরপর আবার লাইন।আবার মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের অব্যাহত প্রস্তাব, ১০০ টাকার বিনিময়ে বাকিটা পার করে দিবে। ছবি তুলতে চাইলাম, দিবে না! তারপরও কিছু ছবি তুললাম।

 

তখন রাজু নামের এক মধ্যস্বত্ত্বভোগীকে হাতেনাতে ধরে জহুরুল হক নামের এক আনসার কমান্ডারকে ধরিয়ে দিলাম। দু’ একটা ঝাড়ি দিয়েই কেটে পড়তে চাচ্ছেন! এমন সময় আমি তাকে জিজ্ঞাস করলাম, আপনি ব্যবস্থা নিলেন না কেন ?

জবাবে ওই আনসার বললেন, এরা লোকাল। এরপর আমতা আমতা জবাব দিয়ে কেটে পড়লেন!

 

বাংলাদেশ অংশে সবশেষে মুখোমুখি বিজিবি কর্মকর্তার।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনি জানালেন, প্রতিদিন ১০-১২ লাখ টাকা মধ্যস্বত্তভোগীদের পকেটে যায়,এর ভাগ সব ম্তরের কর্মকর্তারা পান।ওই অংশে বিজিবির কোন নিয়ন্ত্রণ না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।