বিমানবন্দর রেলষ্টেশনে মহিলা টয়লেটে পুরুষ

প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ ব্যাবস্থা থাকার দাবী করলেন স্টেশন মাস্টার

যাত্রী সাধারনের ভোগান্তিতে পরিপূর্ণ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রেলস্টেশন। সুস্থদের সাথে প্রতিবন্ধিরা প্রায়শই হেরে যাচ্ছে ট্রেনে উঠার অসম প্রতিযোগিতায়। মহিলা টয়লেটে প্রতিনিয়তই যাচ্ছে পুরুষরা, ইজারাদার যার কারন হিসেবে দেখাচ্ছে পর্যাপ্ত মহিলার অভাব। পাশাপাশি সার্ভিস চার্জও নেয়া হচ্ছে সরকার নির্ধারিত হারের প্রায় দ্বিগুণ। ওদিকে বর্জ্য ব্যাবস্থাপনার দশাও করুন। বসার জায়গা থেকে প্রায়শই আসন হাওয়া হয়ে যাচ্ছে। নব্য নিয়োগপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার জনাব মরন চন্দ্র দাস জানালেন নিজের সীমাবদ্ধতার কথা।

কিসুদিন আগেই নতুন নিয়োগ হয় বর্তমান স্টেশন মাস্টারের। অতঃপর বেশ কিছু পরিবর্তনের সূচনা হয়। তথাপি, এখন পর্যন্ত অনেক মৌলিক সমস্যাই পরিবর্তনের ছোঁয়া বঞ্ছিত আছে। অতিরিক্ত পুরুষ কাস্টমার এবং মহিলা কাস্টমারের অভাবে, এখন মহিলাদের জন্য আলাদা কোন পাবলিক টয়লেট নেই রেলস্টেশনের মতো এতো বড় পাবলিক প্লেসে। অজুহাত হিসেবে, টাকা নেয়ার জন্য টয়লেটের সামনে বসে থাকা ইজারাদার কর্তৃপক্ষ জানায়, “মাইয়া মাইনশের চেয়ে বেশি বেডা মানুষ আহে। হারাদিনে মাইয়া মানুষ আহে ৫-৭টা আর বেডারা লাইন ধইরা তাহে। এল্লিগা হেগরে বেডিগো টয়লেটত ফাডাই”। পাব্লিক টয়লেটের এই অব্যাবস্থাপনার ব্যাপারে জানতে চাইলে নব্য নিয়োগ প্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার জানান, “এ ব্যাপারে আমার জানা ছিল না। এখন আপনাদের মাধ্যমে জানলাম, ব্যাবস্থা নিবো।”

পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত ২-৫ টাকার পরিবর্তে তারা যাত্রী-সাধারনের থেকে ৫-১০ টাকা আদায় করছে। এরই সাথে ঢেকে দেয়া হয়েছে টয়লেটের সামনের দেয়ালে সরকারি চার্জ লেখা জায়গাটুকও। কারন হিসেবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইজারাদার পক্ষের একজন জানালেন,”ভাই, টেন্ডার নিতেই লাখ টাকার মতো বাড়তি গেছে। অই্ডা উডান লাগব না?”

এদিকে প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ ব্যাবস্থা থাকার দাবী করলেন স্টেশন মাস্টার। অথচ এই প্রতিবেদকের সামনেই স্টেশনে নিজের পঙ্গু সন্তানকে নিয়ে কস্ট করছিলেন এক মা। তার অভিযোগ, “পঙ্গু চেয়ার নিলে অগরে তেহা দিতে অয়”। তার স্বজনরা বলছিলেন,”পঙ্গুদের জন্য প্রতিটা ট্রেনে একটা আলাদা দরজা থাকলেই আমাদের আর এতো কষ্ট হত না।”

বর্জ্য ব্যাবস্থাপনার অবস্থা আরও করুন। প্লাটফর্মের পাশেই ফেলা হচ্ছে সব ময়লা আবর্জনা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্টেশন মাস্টার বলেন, “দেখেন আমি একজন স্টেশন মাস্টার। রেলগাড়ির খোজখবর রাখাই আমার মূল দায়িত্ব। এসব ব্যাপারে মন্ত্রনালয়ে কথা বলেন। আর এর জন্য প্রয়োজনীয় জনবলও নেই।”

এভাবেই নিজের সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে মন্ত্রনালয়ের উপর দায় চাপিয়ে দিলেন তিনি।

জনমনে প্রশ্ন, এভাবে দায়সারা বক্তব্যের যুগ কবে শেষ হবে?

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।