“বেকার না থেকে কাজ করলে টাকা-পয়সা আসে”

“পড়ালেখা ভালো লাগে নাই, তাই কাজ করতেছি। কাজ করলে কিছু টাকা পয়সা আসে। বেকার বসে থেকে কি লাভ।”

এভাবে কথাগুলো বলছিলেন শাহিন। শাহিনের বাড়ি বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে। ক্লাশ সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত শাহিন পড়াশুনা করছে। অন্য ছেলেদেরমত তার পড়াশুনা করতে ভালো লাগতো না। তাই পড়ালেখা বাদ দিয়ে কাজে গিয়েছেন। ২০০৮ সালে পড়াশুনার পাট চুকিয়েছেন। এরপর চলে যান ঢাকায়। একটি কসমেটিক্স এর দোকানে কাজ শুরু করেন। দোকানটি ছিল নিজের আত্মীয়দের। সেখানে কাজ করেন প্রায় আট বছর। ব্যবসার টুকিটাকি শিখেন সেখান থেকে। কিছু টাকা পয়সাও জমিয়েছেন, নিজে ব্যবসা করার জন্য। শাহিন গত বছর চলে আসেন নিজের গ্রামের বাড়ি।  বাড়ি এসে বেকার থাকেননি এক দিনও । শুরু করেছেন ফুসকা ও চঠপটির দোকান।  নিজের কিছু টাকা ছিল আর পরিবার থেকে নিয়েছেন কিছু্। চটপটির দোকানের জন্য প্রথমে গাড়ি কিনেছেন  ১৫ হাজার টাকায়। অন্যান্য মালামাল কিনেছেন ৫০০০ টাকার। কাস্টমারদের বসার জন্য পনেরটি চেয়ার কিনেছেন ৬০০০ টাকায়।  প্রতি ২০-২৫ দিন পর মশলা কিনেন তিন থেকে চার হাজার টাকার। এগুলো দিয়ে ফুসকা ও চটপটি তৈরি করে বিক্রি করেন মাস ব্যাপি। চালান উঠে মাস শেষে যা থাকে যোগ হয় লাভের খাতায়। প্রতি মাসে ১০-১৩ হাজার টাকা তার লাভ থাকে। প্রতিদিন বিকাল চারটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত বাজারের মুসলিম মডেল হাইস্কুলের সামনে চটপটির গাড়ি নিয়ে বিক্রি করেন। প্রতি প্লেট ফুসকা বিশ টাকা, চটপটির পেলেট ২০ থেকে ৩০ টাকা্। মাঝে মাঝে নুডুলস ও বিক্রি করেন। এভাবে বেকার না থেকে নিজের পায়ে নিজেই দাড়িয়েছেন শাহিন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।