বোনের হুইলচেয়ারে জড়ানো শৈশব

সাভারে মনসুর প্লাজার নিচ থেকে ছবিটা নেওয়া হয়েছে। মেয়েটির নাম তাসলিমা হুইলচেয়ারে বসে থাকা এক প্রতিবন্ধী কিশোরী আর পাশে দাড়ানো দুইটি এই কিশোরীর ভাইবোন। যারা তার হুইল চেয়ার টানে। শারীরিক প্রতিবন্ধী এই কিশোরীর নাম তাসলিমা।

কিশোরীর গরীব দিনমজুর বাবা দারিদ্র্যের চাপে শারীরিক ভাবে সুস্থ দুই সন্তানকে দিয়ে প্রতিবিন্ধী তাসলিমার জন্য ভিক্ষোয় নিয়োজিত করেছে। ফলে এই দুই শিশুর জীবন থেকে হারাতে বসেছে স্বাভাবিক শৈশব। বাস্তবতা বড় কঠিন। ওদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে খুব বেশি আগ্রহ দেখায়না। তাদের নাম কিংবা কোথায় থাকে বা বাবার নাম বলে সময় নষ্ট করতে রাজী নয় তারা। যতক্ষণ কথা বলবে ততক্ষণে আরো কয়েকজনের কাছে যেতে পারবে বোনকে নিয়ে।  এই শিশু বয়সেই অনেক রুক্ষ হয়ে উঠেছে শিশু দুটোর কণ্ঠস্বর।

‘এত কথা কয়া কি হইব। ট্যাকা দিবেন?’

কিছু টাকা দেই। এবার কিছুটা নরম স্বরে বলে শিশু দুটি।

‘আরেকদিন আইয়েন তখন অনেক কথা কমু। আইজকা বোনের ওষুধের জন্য ম্যালা টাকা লাগব ‘

আজ তাসলিমা সুস্থ থাকলে হয়তো কোন বাসায় কাজ করে সে পরিবারে জোগান দিতে পারতো। শিশু দুটিও তাদের শৈশবের স্বাদ নিতে পারত অবলীলায়। রাষ্ট্র তার নাগরিকদের জন্য মৌলিক চাহিদাগুলো সরবরাহ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু তা বাস্তবায়িত্ব হচ্ছে কোথায়? শুধু রাষ্ট্র বা সরকারকে দোষ দিয়েও বা কি লাভ? আমরা যারা স্বচ্ছ্বল নাগরিক বা সামর্থ্যবান তারা কতটা মানবিক বা নাগরিক দায়িত্ব পালন করছি। এই শিশু দুটির স্বাভাবিক শৈশব ফিরিয়ে দিতে কি কিছুই করার নেই আমাদের? হাত হাত রেখে আমরা কি তাসলিমা আর তার ভাইবোনদের জন্য সামাজিক সহায়তি বন্ধনী গড়ে তুলতে পারিনা? আজ তাসলিমা যদি সামাজিক সাহায্য সহযোগিতা পেত তাহলে হয়তো তার ভাইবোন দুটি ভিক্ষা না করে স্কুলে যেতে পারতো।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।