‘ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ করুণ, কর্ম করে জীবন গড়ুন’

ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে না নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তিকে ঘৃনা করুন। কর্ম করে দেশ ও জাতির কল্যাণে এগিয়ে আসুন। ভিক্ষাবৃত্তি মুক্ত সমাজ গড়ুন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি যুদ্ধ। একটি সিটের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছে ১৫০ জন শিক্ষার্থী। তাই নিজের একটি সিট নিশ্চিত করতে নিরালস চেষ্টা করেছে যাচ্ছে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি আল্লাহর কাছে দোয়া আর দান-খয়রাত এসবতো আছেই। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জাবি ক্যাম্পাসে দেখা মিলছে নতুন নতুন ভিক্ষুকদের। যাদের কারো হাত নেই, কারো পা নেই, আবার কারো চোখে আলো নেই। তাদের দেখলে যে কারো সহানুভূতি হবে। দান করতে কেউ কার্পন্য করবে না। এ ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে তাদের মুখের বাণি হলো দান করলে আল্লাহ চান্স দিয়ে দিবেন। শিক্ষার্থীরা তাই যে যত পারছে মন খুলে দান করছে।

তেমনই এক ভিক্ষুক শহিদুল ইসলাম। যার এক পা নেই। তার বাড়ি ক্যাম্পাসের পাশে নবীনগরে। সেখানে তিনি তার দুই ছেলে আর স্ত্রীর সঙ্গে থাকেন। তার পরিবারের এক ছেলে অটো রিকসা চালায় অন্যজন খেতে-খামারে কাজ করে। আর দুই মেয়ে ছিল তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। রবিবার (১৫ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলার পাশে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা টাকা ভাজ করার সময় তার সাথে কথা হয়। এসময় তিনি তার পরিবারের এ অবস্থা তুলে ধরেন।

তার কাছে জানতে চাইলাম, আপনারতো পা নেই; এখানে আপনাকে কে দিয়ে গেছে?
ভিক্ষুক: ড্রাইবার দিয়ে গেছে?

কখন দিয়ে গেছে?
ভিক্ষুক: সকালে দিয়ে গেছে, আবার পরীক্ষা শেষে নিয়ে যাবে?

আপনাকেতো আগে কখন ক্যাম্পাসে দেখি নাই..
ভিক্ষুক: আগে আসবো কি করতে? এখন আসলে কিছু টাকা পাওয়া যায়, তাই এখন আসিছি। গত ২২ বছর ভর্তি পরীক্ষার সময় আমি নিয়মিত এখানে আসি।

কত টাকা ইনকাম হয় দৈনিক?
ভিক্ষুক: এই দুই হাজার টাকার মত।

তো আপনার দুই ছেলে কাজ করে ওরা আপনাকে টাকা দেয়না?
ভিক্ষুক: ওরা টাকা দেওয়াতো দূরে থাক, আমার কাছ থেকে উল্টা নেয়।

বিয়ে করছে ছেলেরা?
ভিক্ষুক: না।

তাহলে টাকা দিয়ে কি করে?
ভিক্ষুক: জানিনা।
আপনার পা কি জন্ম থেকেই এ অবস্থা?
ভিক্ষুক: না ভাল ছিল। কিন্তু এক বার এক রোগ হয় আমার। কিছু খাইতে পারতাম না পায়ের যন্ত্রনায়। সারাদিন ছিল্লাছিল্লি করতাম। শরীল শুকাইতে শুকাইতে কাটের মত হয়ে যায়। তারপর ডাক্তার বলেছিল পা কেটে পেললে ভাল হয়ে যাবে, তাই পা কেটে ফেলি। তারপর থেকে এখন আর ব্যাথা নাই। এ দেখেন এখন শরিল স্বাস্থ্য ভাল।

ভিক্ষা না করলে হয়না? সংসার কি চলবে না?
চুপ করে আছেন, কিছুই বললেন না।

শহীদুলের পরিবারের যে অবস্থা তাতে তার দুই ছেলে রোজগার করে। তাদের আয় দিয়েই সংসার ভাল মত চলার কথা। কিন্তু তারপরও তিনি ভিক্ষা করেন। এটা কেন  সে প্রশ্নের উত্তর নেই। ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে না নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তিকে ঘৃনা করুন। কর্ম করে দেশ ও জাতির কল্যাণে এগিয়ে আসুন। ভিক্ষাবৃত্তি মুক্ত সমাজ গড়ুন।

১৯/১১/১৭
মাহবুব আলম, জাবি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।