ভেজালের দেশে বিশুদ্ধ খাবার বিক্রি হয় ফুটপথে

এই প্রবীণ ব্যাক্তির নাম, শেখ মোহর আলী। বয়স ৭৫ থেকে আশির মাঝামাঝি হবে। মোহর আলীর ভাষায় তাঁর সব পণ্যই খাঁটি। কোনো ভেজালের সাথে আপস নাই তাঁর। দেশজুড়ে যখন ভেজাল খাবারের রমরমা ব্যবসা তখন তিনি উপার্জনের ব্যবস্থা করে নিয়েছেন খাঁটি প্রাকৃতিক খাবার বিক্রির মাধ্যম। মেশিনারি কোনো পণ্য তিনি বিক্রি করেন না।

 

ফুটপথে বসে আছেন চুল দাড়ি পাকা এক প্রবীণ ব্যক্তি। সামনের ঝুড়িতে সরিষার তেল, তিলের তেল, কলোজিরার তেল, মধু, তিল, ইউসুফ গুলের ভূষি, কালোজিরা, জিরা, রাধূনী, ডাল, মোটা চাল, আরো নাম না জানা অনেক কিছু। রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে বিক্রি করেন এগুলো।

আজ বসেছেন রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার গ্রীনরোড স্টাফ কোয়ার্টারের গেটে অস্থায়ী বাজারে। শুক্রবার বসবেন ধানমন্ডি ছয় নাম্বার মসজিদের সামনে। অন্যদিন অন্য কোথাও..

এই প্রবীণ ব্যাক্তির নাম, শেখ মোহর আলী। বয়স ৭৫ থেকে আশির মাঝামাঝি হবে। মোহর আলীর ভাষায় তাঁর সব পণ্যই খাঁটি। কোনো ভেজালের সাথে আপস নাই তাঁর।

দেশজুড়ে যখন ভেজাল খাবারের রমরমা ব্যবসা তখন তিনি উপার্জনের ব্যবস্থা করে নিয়েছেন খাঁটি প্রাকৃতিক খাবার বিক্রির মাধ্যম। মেশিনারি কোনো পণ্য তিনি বিক্রি করেন না।

জানতে চাইলাম, বিক্রি হয় কেমন?

বললেন, ’ঢাকার মানুষের তো ভেজাল খায়া খায়া অভ্যাস হয়ে গিচে। ভালো জিনিসে চোখ যায় না, যারা ভালো জিনিস চেনে তাঁরা আসে। ’

জানতে পারলাম, মাসের শেষের দিকে দিনে দুই থেকে তিন হাজার টাকা বিক্রি করেন। আর মাসের ৫ তারিখের পর দিন সাত থেকে দশ হাজার টাকা বিক্রি করেন। (বলে রাখা ভালো বিক্রির পরিমাণ আমার ধারণার অনেকে উপরে)

মাসের শেষের দিকে বিক্রি আর প্রথম দিকে বিক্রির পরিমাণের ব্যবধাণের কারণটাও খুব সহজ অংকে জানালো মোহর আলী। বললেন, ’মাসের শেষের দিকে পকেটে টাকা থাকে না, মাসের প্রথম দিকে বেতন পাইলেই বিক্রি বেড়ে যায়।’

তাঁর পণ্যের দামটা কিছুটা বেশি মনে হলো, মধু বিক্রি করছে লিটার ৬০০ টাকায়, ১০০ গ্রাম কালিজিরা তেল ৩০০ টাকা, শরিষার তেল এক লিটার ২২০ টাকা, এছাড়া অন্যান্য পণ্যের দামটাও বাজার মূল্যের চেয়ে কিছুটা বেশি। তবে বিক্রির পরিমাণের কথা শুনে মনে হলো, শহরের মানুষও টাকার চেয়ে বিষ মুক্ত খাবারের কদর কম জানে না।

জানতে চাইলাম দিন লাভ কত থাকে? বললেন ৫ থেকে ৭০০ টাকা থাকে, মাঝে মাঝে বেশিও থাকে।

বিশুদ্ধ খাদ্য বিক্রেতা এই মোহর আলী থাকেন শ্যামলী পঙ্গু হাসপাতালের সামনে। প্রতি দিন রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ফুটপথে বসান তাঁর বিষ মুক্ত খাবারের ঝুড়ি। বিক্রির টাকায় ভালোই চলে যাচ্ছে সংসার। মানের দিক থেকেও ভালো আছেন এই ভেবে মানুষকে তিনি খাবারের বদলে বিষ খাওয়াচ্ছেন না।

ভদ্রলোকের সাথে কথা বলে ফিরতে ফিরতে মনে হলো, বড় মূলধন ক্রমশ আগ্রাসী হয়ে উঠছে। এ সকল খুচরা পণ্য ইন্ডাস্ট্রির হাতে পড়ে মানও হারাচ্ছে। এবং এটাও নিশ্চিৎ এই সকল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বা পেশাজীবিরাও হারাবে পেশা। মোহর আলীর সাথে কথা বলে এটাও বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়, এই যে বিষমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য পণ্য বিক্রি শুধু পেশাই নয় একই সাথে মানব সেবা হিসেবেও তিনি দেখে থাকেন কাজটা।

 

মোঃ সরোয়ার সরদার

০৯/১১/১৭

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।