মানুষের পাশে দাড়ানোই তাদের কাজ

চাঁদপুর হাসান আলী স্কুলের অষ্টম শ্রেনীর ছাত্র সজীব ও রায়হান। পাশাপাশি তারা স্কুলের রোবার স্কাউটের সদস্য। এ রোবার স্কাউট থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা এখন পড়াশুনার পাশাপাশি কিছু সময় মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করেছেন।

এইতো সেদিন ইদ উপলক্ষে চাঁদপুর জেলার নৌ ঘাঁট দিয়ে বাড়ি যাওয়ার পথে চোখে পড়লো, গায়ে আকাশী রংয়ের শার্ট, গলায় ট্রাই মুখে বাশিঁ আর নীল রংয়ের প্যান্ট পড়া কয়েকজন স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীকে। লঞ্চ থেকে নামা মানুষদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করছে। এ যেমন মানুষদের সঠিক পথ দেখিয়ে দেওয়া, কোথাও জ্যাম বাঁধলে সে জ্যাম দূর করা।

এছাড়াও মানুষ যাতে পকেটমার, মলম পার্টি ইত্যাদি থেকে নির্বিঘ্ন বাড়ি পৌঁছতে পারে সে জন্য কাজ করে যাচ্ছে এসব শিক্ষার্থীরা। তাদের দুজনের সাথে কথা বলে এমনটাই জানা গেল।

তারা আরও জানান, তারা দুজনই নয়। তাদের মত এ জেলার বিভিন্ন স্কুল কলেজের অসংখ্য শিক্ষার্থী এ মানবতার সেবায় লিপ্ত। রাস্তার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ট্রাফিক পুলিশকে সহযোগিতা করে জ্যাম দূর করার জন্য এসব রোবার স্কাউটের সদস্যরা নিরালস কাজ করে যাচ্ছেন।

তাদের এসব কথার প্রমাণ ও মিলেছে চাঁদপুর শহরে এসে। দেখা গেল শহরের কালিবাড়ী স্টেশন, বাস স্টেশন, স্টেডিয়াম রোড ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এসব রোবার স্কাউটের সদস্যরা রিকসা, অটো রিকসা, সিএনজির জ্যাম দূর করণে বেশ দক্ষতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন।

সজীব ও রায়হানের কাছে জানতে চাইলাম কেমন লাগে এ কাজ করে?

হেসে তাদের উত্তর, ভালই লাগে। তবে মাঝে মাঝে অনেকে রিকসাওলারা খারাপ ব্যাবহার করে।

কোন সম্মানি আপনাদেরকে দেয়?

হুম দেয়।

তা পেয়ে আপনারা খুশি?

জ্বী মোটামুটি খুশি।

পড়াশুনার পাশাপাশি এ কাজ পড়াশুনায় বেগাত ঘটায় না?

প্রতিদিনতো এ কাজ করি না। যেদিন করি, সেদিন সমস্যা হয়। সেটা অন্যদিন ভাল করে পড়ে পুষিয়ে নিই।

পড়াশুনা শেষে কি হতে চান?

আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীতে কাজ করার ইচ্ছা আছে।

এসব রোবার স্কাউটের সদস্যদের আরো প্রশিক্ষিত করে দেশের প্রতিটি জেলা শহর ও থানা শহরে এভাবে কাজে লাগাতে পারলে ট্রাফিক পুলিশের উপর থেকে চাপ কমতো। মানুষেরও ভোগান্তি কিছুটা হলেও লাগব হতো।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।