মা মিটিং: স্কুল ও বাড়ির সাথে সমন্বয়ের প্রচেষ্টা

আমি কাজ করি বাংলাদেশের একটা প্রত্যন্ত গ্রামের একটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এখানে মানুষের জীবনের মূল যে চাহিদাগুলো, তার মধ্যে অন্নবস্ত্রের সংস্থান করতেই তাদের অধিকাংশের প্রাণপাত হচ্ছে। তাই এই সব পরিবারের শিশুশিক্ষা একটা জটিল বিষয়। শিশুকে স্কুলে দিতে হলে পরিবার থেকে তার একটা পূর্বপ্রস্তুতি প্রয়োজন থাকে। কিন্তু এখানে ঘটে ঠিক তার উলটো বিষয়। শিশু স্কুলে এসেই যাবতীয় জীবনাচরণ শেখে। সাথে শেখে লেখাপড়া। কিন্তু স্কুল আর বাড়ির সাথে সাধারণত কোন সমন্বয় থাকে না। বাবামায়েরা জানেনও না স্কুলে আসলে কী হয়, কী শেখানো হয়। একটাই কথা, স্কুল মানেই লেখাপড়া করা আর সেটা করাবে ঐ স্কুলের শিক্ষকেই। এখানে তাদের কোন ভূমিকা আছে সে সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই নেই। ফলে যা হয়, অধিকাংশ শিশুকেই একা শিক্ষকের পক্ষে প্রান্তিক যোগ্যতাসমূহ অর্জন করানো সম্ভব হয় না। কারণ পরিবার থেকে এই শিশুদের পড়াশোনার বিষয়ে কোনরকম খোঁজখবর রাখা হয় না। নিয়মিত স্কুলেও আসে না। এভাবে অনেক শিশু একদিন ঝরেও পড়ে। এই সব নিরক্ষর অভিভাবকের ধারণা, তারা তো লেখাপড়া জানে না, তবে তারা কীভাবে তাদের শিশুদের পড়াশুনা করাবে? কথা তো সত্য। কিন্তু বিষয়টা অত সহজে ছেড়ে দিতে ইচ্ছে হলো না আমার। তাই প্রাকপ্রাথমিক শ্রেণির শিশুদের নিরক্ষর মায়েরা সকল গৃহকাজের মাঝে কীভাবে তাদের শিশুদের পড়াশোনায় ভূমিকা রাখতে পারে সে বিষয়ে গত মাসের মা মিটিং এ বলেছিলাম। এ মাসে যখন গত মাসের মা মিটিং এর আলোচ্য বিষয় নিয়ে কথা তুললাম। জানতে চাইলাম কোন কোন মা তার শিশুটির সাথে নির্দেশিত পদ্ধতি মেনে গণিতের ধারণা দিয়েছেন তখন ভিডিও ধারণকৃত এই দুজন মা তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন। আমি সত্যি দুর্দান্ত আশাবাদী হয়ে উঠলাম! যদি প্রতি মাসে এই ধারা অব্যাহত থাকে তবে আমার নিরক্ষর মায়েরাও একদিন আদর্শ মা হয়ে উঠবেন তাতে কোন সন্দেহ নেই!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।