মেয়েটি টিউশনিতে যাওয়ার পথে যেভাবে রেপ হতে যাচ্ছিল

দৈনন্দিন জীবনে মেয়েরা কী নিরাপদ ?

২৩ আগষ্ট সন্ধ্যায় আমি একটুর জন্য গ্যাংরেপড হওয়া থেকে বেঁচে গেছি।এর জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই বনানী থানার পুলিশদের।উনারা এসে আমাকে না বাঁচালে আমাকে কমপক্ষে ৫০ জন মিলে রেপ করতো।যদিও তারা রেপ এর কাছাকাছি মজাই পেয়েছে।

ঘটনাটা একটু বিস্তারিত বলি।আমি প্রতিদিন মিরপুর ১০ থেকে বনানীতে টিউশনি করতে যাই।ট্রাস্ট এর আর্মি ওয়েলফেয়ার বাসে করে কাকলীতে নামি, কিন্তু বেশির ভাগ দিনই কাকলী পর্যন্ত বাস যায় না, তার আগে সৈনিকক্লাব এ নামিয়ে দেয়।কাকলীতে গেলে নাকি বাসটা কে মহাখালী ফ্লাইওভার হয়ে ঘুরে আসতে আসতে অনেক সময় লেগে যায়।যাই হোক, গতকাল সন্ধ্যাতে ও আমাকে সৈনিক ক্লাব এ নামায়ে দিলো।আমি রাগে গজগজ করতে করতে রাস্তা পার হচ্ছিলাম।তাখনই  একটা লোক এসে পিছন থেকে আমার পাছায় খুব জোড়ে থাপ্পর দিয়ে জোড়ে হাঁটা শুরু করলো।আমি সাথে সাথে  লোকটার পিছনে দৌড়ানো আরম্ভ করলাম। সে যখন দেখলো আমি তার পিছনে দৌড়াচ্ছি সে দৌড়ায়ে রাস্তা পাড় হয়ে সৈনিক ক্লাব ওভারব্রিজ এর কাছে চলে গেলো। আমি তখন তার পিছনে পাগলের মতন দৌড়াচ্ছি। এই দৌড়াদৌড়িতে রাস্তার মানুষ মনে করছে ঐ লোক মনে হয় আমার মোবাইল নিয়ে দৌড় দিছে।ওভারব্রিজ এর উপরে তারা ৬-৮ জন মিলে লোকটা কে ধরলো ।আমিতো ততক্ষণে ওভারব্রিজ পর্যন্ত চলে গেছি, আর চিৎকার করছি, ওরে ধরে রাখেন, আমি আসতেছি।৮-১০জন মিলে দুই পাশ ছিনতাইকারী সন্দেহে থেকে ধরেছিলো, তারপর আমি যখন ওইলোকের সামনে গিয়ে বললাম যে, সে আমার গায়ে হাত দিয়েছে, তখন তারা বললো, “ওহ, গায়ে হাত দিছে? মোবাইল নেয় নাই? আমরা তো ভাবছি মোবাইল টান দিছে তাই ধরছি।”যেন গায়ে হাত দেওয়া কোন ও ঘটনাই না, একটা মেয়ে রাস্তায় বের হলে একটু আধটু গায়ে হাত দেওয়া ই যায়।

আমি তখনই বুঝতে পারছিলাম এরা এই লোককে ছেড়ে দিবে, আমি কিছুই করতে পারবো না। আমার  Pepper Spray আমার হাতেই ছিলো, আমি লোকটার চোখে মরিচের গুড়া স্প্রে করে দিলাম।যেহেতু আশেপাশে মানুষ ছিলো, তাদের গায়ে ও কিছুটা স্প্রে লাগ ছিলো।

এতক্ষণ আমি ছিলাম ভিকটিম,  ওই লোক ছিলো ছিনতাইকারী।এইবার ওই  লোক হয়ে গেলো ভিকটিম, আর আমি হয়ে গেলাম মলম পার্টি!  এই বার তারা বুঝলো যে আমি মলম পার্টি হই, আর যাই হই আমাকে ইচ্ছা মতন রেপ করা যাবে, আমার টাকা-পয়সা,  মোবাইল সব কেড়ে নেওয়া যাবে।২০-৩০ জন আমাকে চার পাশ থেকে ঘিরে ধরলো, আমাকে বেশ্যা, খানকি, প্রস্টিটিউট বলে গালি দিলো, আমার ব্যাগ টান দেওয়ার চেষ্টা করলো, আমার ওড়না ধরে টান দিলো, আমাকে বেশ কয়েক টা থাপ্পড় দিলো, আমার বুকে, গায়ে, পাছায় ইচ্ছা মতন হাতড়ালো, চুলের মুঠি ধরে এক দোকানের শাটারের সাথে মাথা ঠুকে দিলো, লাথি দিয়ে রাস্তায় ফেলে দিলো, রাস্তায় ফেলে আরো ২-৩ টা লাথি দিলো, তারপর বললো, “তুই আজকে শেষ, আজকে তোকে ইচ্ছা মতন চু—, তারপর তোর গলা টিপে মেরে তোরে ড্রেইনে ফেলে দিবো।”, এর মধ্যে তো মারধর আর বুকে-গায়ে-পাছায় হাতানো চলছেই।পুরা ঘটনাটা তারা আবার অনেকে মোবাইলে ভিডিও –ও করছিলো।

তখনই বনানী থানার থেকে পুলিশ এসে সবাইকে লাঠী চার্জ করে আমাকে সেই রেপিস্টদের ভিতর থেকে উদ্ধার করলো, টানতে টানতে পুলিশের জীপে নিয়ে গেলো, ধাক্কা দিয়ে জীপের ভিতরে ফেলে দিলো, এর জন্য পুলিশদের প্রতি আমার বিন্দুমাত্র অভিযোগ ও নাই, তারা মলম পার্টির গ্যাংদের কে এভাবেই ধরে। এমন কী তারা পুলিশের জীপে উঠানোর পর আমাকে হ্যান্ডকাফ ও পরায় নাই, গায়ে ও হাত দেয় নাই, পানি খেতে চাইছি, পানি ও খেতে দিছে।

তারপর বনানী থানায় নিয়ে গিয়ে আমাকে প্রথমে ওসির সামনে নিয়ে গেলো, ওসি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “এই ব্যবসা কত দিন ধরে করিস?” আমি বললাম, “আমি কোন মলম পার্টিনা, আমি এখানে পড়াতে আসি, আমাকে শুধু একটা ফোন করতে দেন আমার বাসায়, ওরা এসে সব বুঝায়ে দিবে।”

তারপরে তারা আমার সমস্ত জিনিশ পত্র, ব্যাগ মোবাইল, এমন কী পানির বোতল কেড়ে নিয়ে আমাকে লক-আপে ঢুকালো, এরকম মূহূর্তে যে কোন নাগরিকই নিজেকে অপরাধী নন প্রমাণের জন্য একটা টেলিফোন কল করার অধিকার রাখেন, কিন্তু আমাকে একটা ফোন ও কেউ করতে দেয় নাই।আমার “আম্মা, আম্মা” বলে কান্নাকাটিতে এক কনস্টেবল খুব দয়াপরবশ হয়ে আমার বোনের ফোন নাম্বার নিয়ে ছিলো, উনিই পরে আমার দিপ্তী আপুকে কল দেয়, আপু আম্মুকে কল দেয়, আম্মু তখন আমার খালা-খালুকে নিয়ে বনানী থানায় রওনা দিছে।এর মধ্যে তদন্ত অফিসার আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ এর জন্য ডাকলো, যেহেতু তারা আমার ব্যাগ চেক করে সন্দেহজনক কিছু পায় নাই, সেহেতু তাদের মনে হইছে আমি মলম পার্টি নাও হতে পারি।আমাকে জিজ্ঞেস করলো, বাসা কই, বনানীতে কেন আসছি, কোন বাসায় পড়াই, তারপর আমার ছাত্র মায়ের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হলো যে আমি আসলেই টিউশনি করতেই যাচ্ছিলাম, এর মধ্যে আম্মু আসলো, আমার বান্ধবীর বড় বোনের হাসব্যান্ড ইত্তেফাক পত্রিকার ফিচার এডিটার বনানী থানায় ফোন দিলেন, আমার বান্ধবী আর বান্ধবীর হাসব্যান্ড আসলো, তারপর সবার সাক্ষী রেখে আমার কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে আমাকে জামিন দেওয়া হলো।সবশেষ করে রাত ২ টার সময় আমি বাসায় পৌছালাম।

আমি জানি এখন আপনাদের একেক জনের মনে একেক ধরণের প্রশ্ন আসবে।প্রতিনিয়ত ঘটা অসংখ্য ঈভটিজিং এবং ধর্ষণ এর বিবরণ দেখে আমি নিজ থেকেই এই প্রশ্নগুলো আন্দাজ করতে পারি।এবং উত্তর সাথে করেই দিয়ে দিচ্ছি।

১) আমার বাইরে যাওয়ার দরকার কী ছিলো?

: আমাকে বাইরে যেতে হয় কারণ আমার বাবার টাকা নাই।ইনফ্যাক্ট আমার বাপই নাই।সে ১৪ বছর আগে এক মধ্যরাতে স্ট্রোক করে মারা গেছে, এবং সে যেহেতু ঘুষখোর সরকারী চাকরি করতো না, ধান্দাবাজি করতো না, সৎভাবে ব্যবসা করতো, ফুটবল আর হকি খেলা নিয়ে পড়ে থাকতো   সেহেতু সে খুব বেশি টাকা-পয়সা আমার জন্য রেখে যেতে পারে নাই।এই নিয়ে আমার মনে আমার বাপের প্রতি বিন্দুমাত্র রাগ নাই, কারণ আমি নিজের পরিশ্রমে, নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই।আর যেহেতু আমি অংক করা, পাঠ্যবই পড়া এবং হাজার হাজার গল্পের বই পড়া ছাড়া আর কিছু পারিনা, সুতরাং আমাকে টিউশনি আর আউটসোর্সিং করেই নিজের খরচ চালাতে হয়।এখন আমি বাইরে না গেলে আমার এই টাকা কী আপনি দিবেন?

২) আমার কী পোশাক পড়া ছিলো?

: আমার পোশাকের যে বিবরণ আমি দিবো, তা অনেকের কাছে খুব বাজে পোশাক আবার কাছে খুবই সাধারণ পোশাক।আমি একটা হাফস্লিভেল সাদা টপস, একটা মোটা লেগিংস আর একটা ওড়না পরা ছিলাম।চাইলে প্রত্যেকটার ছবি আলাদা করে আপলোড করতে পারি।

কিন্তু আমাকে এই প্রশ্ন করার আগে আপনি আমাকে উত্তর দেন, তনু কেন সালোয়ার-কামিজ আর হিজাব পরে ও রেপড হইলো? ৫ বছরের পূজার পোষাকের কী দোষ ছিলো? স্কুলের মেয়েরা ইউনিফর্ম পড়ে ও ইভটিজিং এর শিকার হয় কেন? আমার মা বোরখা পরে বাইরে বের হলে ও কেন তাঁর ছেলের বয়সী ‘পুরুষ’ আমার মায়ের বুকে হাত দেয়?

৩) এত রাতে (সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা) পড়াতে যাওয়ার কী দরকার?

: সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় পড়াতে যাওয়ার কারণ হলো, আমার ছাত্রের স্কুল ছুটি হয় দুপুর ৩:২০ এ, ঢাকা শহরের জ্যামের কল্যাণে সে বাসায় পৌছায় সাড়ে ৪ টায়।তারপর গোসল-খাওয়া-ঘুম শেষ করতে তাকে কমপক্ষে ২ ঘন্টা সময় না দিলে তার পড়ায় মন দিতে পাড়ার ক’থানা।এদিকে, আমার বহুদিনের কমপ্লেইন যেটা ছিলো, কচুক্ষেত দিয়ে ক্যান্টনমেন্ট এ প্রবেশ এর সময় এবং আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট এর বাসের সেচ্ছাচারিতায় আমার ৩০ মিনিটের রাস্তা যেতে লাগে দেড় ঘন্টা।সুতরাং, আমি সন্ধ্যা ৬ টায় রওনা দিলে সাড়ে ৭ টাতেই পৌছানোর কথা।

এবার আপনি আমার প্রশ্নের উত্তর দেন, ঢাকা শহরে কী দিনের বেলায় রাস্তা ঘাটে মেয়েদের ইভটিজিং এর শিকার হতে হয়না? বাসে্র ভীড়ে মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়া হয়না? দিনের বেলার কোন রেপ হয় না? পরিমল জয়ধর ভিকারুন্নেসার যে ছাত্রীকে রেপ করছিলো, তা-কি রাত্রে বেলা করছিলো? গায়ে হাত দিছে, সহ্য করলেই হতো, পিছন পিছন দৌড়ানোর কী দরকার ছিলো? : যদি বলেন যে গায়ে হাত দিছিলো চুপচাপ মাথা নিচু করে চলে আসলেন না কেন? তাহলে আমি খুব মনেপ্রাণে দোয়া করবো আপনার যেন ভবিষ্যতে একটা কন্যাসন্তান অথবা নাতনী হয়। সে কাজে যাওয়ার সময় যখন কোন এক পটেনশিয়াল রেপিস্ট তার কানে কানে বলবে, “তোকে চু*তে পারলে খুব মজা লাগতো”, অথবা তার ওড়না ধরে টান দিবে, অথবা তার বুকে হাত দিবে, অথবা তার পাছায় বাড়ি দিবে, এবং আপনার মেয়ে যখন কাঁদো কাঁদো মুখে বাসায় ফিরবে কিন্তু লজ্জায় বলতে ও পারবেনা, বাথরুমে গিয়ে ঝরনার নিচে দাঁড়ায়ে ফুঁপাতে ফুঁপাতে সারা গায়ে সাবান ঘষবে, তারপরে ও যখন তার মনে হবে যে সে এখন ও অপবিত্র এবং সে নিজেকে ঘিন্না করা শুরু করবে, এক সময় মেয়ে হয়ে জন্মানোর জন্য নিজেকে, নিজের ভাগ্যকে অভিশাপ দিবে, প্রতিনিয়ত হয় নোংরাদৃষ্টি, না হয় নোংরা মন্তব্য, না হয় অপরিচিত হাতের নোংরা থাবা সহ্য করতে করতে যখন এই পৃথিবীতে মেয়ে হয়ে জন্মানোটাই ভুল এই ভেবে ডিপ্রেশনে চলে যাবে, এবং এক পর্যায়ে ফ্যানের সাথে শাড়ি পেঁচিয়ে ঝুলে পড়বে, তখন আপনি বুঝবেন গতকাল কেন আমি চুপচাপ মাথা নিচু করে চলে আসি নাই।আমি কাল কে ইভ-টিজিং এর শিকার হইছি এটা ঠিক, কিন্তু আমি মাথা নিচু করে চলে আসি নাই, আমি ওই ঈভটিজারের পিছন পিছনে দৌড়াইছি, তার চোখে মরিচের গুড়া স্প্রে করে তাকে হাসপাতালে পাঠাইছি, কাকলী এলাকার পটেনসিয়াল রেপিস্টরা আমাকে ইচ্ছা মতন মোলেস্ট করছে, মারছে, গালি দিছে এটা কি ঠিক? কিন্তু ওই লোক এরপর আর কোন মেয়ের গায়ে হাত দেওয়ার আগে ২ বার ভাববে।আমি বনানী থানার লক-আপে ২ ঘন্টা ছিলাম এটা নিয়ে আমার কোন আফসোস নাই, অনেক অভিজ্ঞতা ই তো হইছে জীবনে, একটু মলম পার্টি সন্দেহে হাজতে থাকার অভিজ্ঞতা ও হলো।

একটু চিন্তা করে দেখেন তো, আমার কী ঠ্যাকা পড়ছিলো, ওই লোকের পিছনে দৌড়ানোর? আমি প্রায়ই ফেসবুকে কমপ্লেইনিং পোস্ট দেই, এইজন্য আমি অনেকের কাছে খুব অপ্রিয়, কিন্তু আমার কী ঠ্যাকা পড়ছে এভাবে করে মানুষকে শুধু নেগেটিভ কথা শুনায়ে সবার অপ্রিয় ঝগড়া টে হিসাবে পরিচিত হওয়ার? নাকি লাইক আর ফলোয়ার বাড়ায়ে সেলিব্রিটি হওয়ার জন্য? এই ফেম পেয়ে আমার কী হবে? আমার মরা বাপ জিন্দা হবে? আমার মায়ের ওষুধ এর খরচ আসবে? আমার ব্যাংক একাউন্ট এর ব্যালেন্স বাড়বে??

আমি এত কমপ্লেইন করি আপনার ভবিষ্যৎ সন্তান এবং তাদের সন্তানদের জন্য।চিৎকার করে, আপনাদের কান ঝালাপালা করে, রাস্তায় মারামারি করে, সেটা নিয়ে ফেসবুকে বিশাল পোস্ট দিয়ে আমি আপনাকে সচেতন করতে চাই।একটা সুন্দর, বাসযোগ্য সমাজ পাওয়ার জন্য ২-৪ টা তানজিম কোরবানি হয়ে গেলে ও কিছু আসে যায় না।কিন্তু দয়া করে আমার এই অপমান আর সহ্য হয় না , আর শুধু ছেলেদের কে বলছি, কাউকে মলম পার্টি সন্দেহ হলেই যে তাকে এভাবে শারীরিক ভাবে মোলেস্ট করতে হবে বা গণপিটুনি দিতে হবে এমন কোন ও কথা নাই।দেশে আইন

চুপিচুপি একটা সত্যি কথা বলি? লক-আপের মধ্যে আমার একটু ও ভয় লাগে নাই, কারণ আমি জানতাম যে এরা আমার কোন ক্ষতি করবেনা, ক্ষতি করতে চাইলে পুলিশ এর জীপে উঠায়েই করতে পারতো।আমি লক-আপে বসে কাঁদতে ছিলাম, একটু আগে আমার সাথে হয়ে যাওয়া নারকীয় ঘটনার কথা মনে করে।ঠিক সময়ে পুলিশ এসে লাঠি চার্জ করে ওইসবগুলা লোক কে না সরালে, ওই ৫০ জন মিলে আমাকে ওখানেই রেপ করে, ছিঁড়ে-খুঁড়ে খেয়ে ফেলতো।)

৫) সবাই যখন ওই লোক কে ধরেই ফেলছিলো, আমি আবার চোখে Pepper Spray করতে গেলাম কেন?

: সবাই ওই লোককে ধরে ফেলার পরে ও আমি কেন স্প্রে করলাম? কারণ, ওই ৮-১০ জন লোকটাকে ধরছিলো ছিনতাইকারি সন্দেহে, পরে যখন তারা শুনলো যে এই লোক ছিনতেইকারীরা, আমার গায়ে হাত দিছে, তখন তারা আদর করে তাকে ছেড়ে দিচ্ছিলো।যেন মোবাইল ছিনতাই অনেক বড় অপরাধ, কিন্তু একটা মেয়েকে শারীরিক ভাবে অপমান করা কোন ও ঘটনাইনা।রাস্তাঘাটে যেসব মেয়ে বের হয়, তারা তো রাস্তার পুরুষদের বাপের সম্পত্তি।তাদের কে পাছায় থাপ্পড় দেওয়া যায়, বুক চেপে ধরা যায়, ইচ্ছা করলে রেপ ও করা যায় (তাদের এই প্রমাণ তো একটু পরেই পেলাম)।এই সব আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষায় ছেলেপেলের দুষ্টুমী, এই সামান্য দুষ্টুমী করার জন্য কি আর তাকে আটকে রাখা যায়? মোবাইল নিলে বরং একটা কথা ছিলো, ইভটিজিং একটা বিষয় হলো? তখন আমি সেই ইভটিজারের চোখে মরিচের গুড়া স্প্রে করে দিলাম, এবং সাথে সাথে হয়ে গেলাম মলম পার্টি।

 

আমি জানি এখন আমাকে আপনারা সবাই মিলে কিছু স্বান্তনা দিবেন, কিছু উপদেশ দিবেন, কিছু বকা দিবেন, কেউ মনে মনে খুশি হবেন ভেবে যে “যাক, ঝগড়াটে মে য়েটার একটা শিক্ষা হইছে।”, আবার কেউ আমার এই মুহূর্তের ট্রমাকে কিছুটা হলেও অনুভব করতে পেরে ভীষণ হতাশায় ডুবে যাবেন।কিন্তু একটা অনুরোধ, কেউ আমাকে কল দিবেন না, আমি এই মুহুর্তে অসম্ভব শারীরিক এবং মানসিক ট্রমায় আছি, আমার কথা বলার অবস্থা নাই।আমার সারা গায়ে ব্যাথা, মাথার এক সাইড ফুলে ব্যাথায় টনটন করছে, হাতের কবজি মনে হচ্ছে খুলে যাবে, পায়ের ব্যাথায় দাঁড়াতে পারছিনা, অনেক কষ্টে এই লেখাটা লিখেছি।

আর একটা অনুরোধ, যদি কেউ “মলম পার্টির মহিলাকে হাতে-নাতে ধরা জনতা” এই শিরোনামে কোন ও ভিডিও দেখেন তাহলে দয়া করে ও ভিডিওটার লিংক আমার কাছে পাঠিয়ে, ভিডিও টা রিপোর্ট করবেন।তাহলে হয়ত বা আমিও ইপটেনশিয়াল রেপিস্টদের নাম-পরিচয় পুলিশের কাছে দিতে পারবো।

 

শেষে একটা পরামর্শ চাচ্ছি। গতকালের অভিজ্ঞতার পর, আমার কী এখন থেকে কাজকর্ম বন্ধ করে দিয়ে বাসায় বসে থাকা উচিত? নাকি বোরকা-হিজাব পড়ে মাটির দিকে চোখ নামায়ে বাইরে বের হওয়া উচিত? নাকি, টিউশনি বাদ দিয়ে, নিজের সারাজীবনে যা পড়াশোনা করছি, সব বৃথা যেতে দিয়ে কোন এক মুদির দোকানদারকে বিয়ে করে সংসারী হয়ে বাইরের জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া উচিৎ? নাকি রাস্তা –ঘাটে কেউ কোন বাজে মন্তব্য করলে, না শোনার ভান করে চুপচাপ চলে আসা উচিৎ? নাকি, এই পৃথিবীটা এরকমই, এখানে আমার মতন ভুল সময়ে-ভুল জায়গায় জন্মানো মেয়েদের জন্য কোনও নিরাপত্তা নাই, এটা ভেবে গলায় ফাঁস নেওয়া উচিৎ? অন্যের দ্বারা গ্যাংরেপড এবং খুন হওয়ার থেকে নিজেই নিজেকে মেরে ফেলা ভালো না?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।