”মেয়ে জামাইর বাড়ি থাকলে মাইনশে কি বলবো”

ঢাকা থেকে বাসে যাচ্ছি। বাস মাদারীপুরের মোস্তফাপুর স্টেশনে থামে।বাস থেকে নেমেই পাম্পের দিকে হাটলাম। হঠাৎ চোখ আটকে গেল।পাম্পের সামনে দিয়ে এক বুড়িমা চার হাত-পা দিয়ে হেটে যাচ্ছেন। আমি গিয়ে পাশে দাড়াঁতেই বসে হাত পাতলেন।

আমি তাকে বললাম আপনি বসুন আমি আসতেছি টাকা খুচরো  করে। তিনি বসে ছিলেন। আমি এসে তাকে কিছূ টাকা দিলাম।এরপর জিজ্ঞেস করলাম,

আপনার ছেলে মেয়ে নেই?

বললেন, চার ছেলে ও দুই মেয়ে মারা গেছে। আর দুই মেয়ে আছে বিয়ে দিয়েছি জামাইর বাড়ি থাকে।

আপনি কার সাথে থাকেন?

একাই থাকি। স্বামী মারা গেছে ৩৬ বছর হল। একাই থাকি। নিজে রান্না করি।নিজের কাপড় নিজেই ধুই।বছরে একবার বাগেরহাটে খানজাহান আলির মাজারে যাই।

বুড়িমার বাড়ি মাদারীপুরেই।বয়স হবে ৮৫ বছর বয়স। ছোট একটি ঘরে থাকেন। ৩৬ বছর হল তার স্বামী মারা গেছে। আগে কাজ করে খেতেন এখন আর কাজ করার শক্তি নেই। তাই সারাদিন ভিক্ষা করেন। চাল, টাকা পয়শা যে যা দেয়্। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে রান্না করে খান। কোনদিন কেউ হোটেলে খাবার দিলে সেদিন রান্না করেন না। নিজের ছয় ছেলে-মেয়ে মারা গেছে, স্বামী নেই । দুই মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন। নিজে গিয়ে মেয়ের বাড়ি থাকতে পারেন। কিন্তু থাকেন না। বললেন ”মেয়ের জামাই বাড়ি থাকলে মাইনশে কি বলবো?”

পচাঁশি বছর বয়সে এসেও নিজে একা থাকার সাহস পান। হাটতে পারেন না। তবুও অন্য জেলায় খানজাহান আলির মাজারে যান। মনের প্রশান্তির জন্য। মেয়ে বাড়ি থাকেন না নিজের আত্মসম্মানের ভয়ে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।