ময়লার ভাগাড় এখন বাবুল হোসেনের ফুলের নার্সারী

রাজধানীর ধানমণ্ডি লেকের কলাবাগান অংশে রাস্তার পাশ দিয়ে গড়ে উঠেছে ফুলের নার্সারী। বাহারি রঙ্গের ফুল শোভা পাচ্ছে নার্সারীগুলোতে। পথচারীরা একটু থেমে থেমে উপভোগ করে এ প্রাকৃতিক সৌন্দয্য। এক বছর আগেও এখানে ছিল ময়লার ভাগার, নাকে কাপর চেপে পথচারীদের পার হতে হতো এই অংশটুকু। কিন্তু বাবুলের নার্সারী পাল্টে দিয়েছে সেই পেক্ষাপট। এমনটাই জানালেন রাইসা নার্সারীর মালিক বাবুল হোসেন।
বাবুল হোসেন ২০১৫ সালের শেষের দিকে নড়াইল থেকে কাজের খোঁজে এসেছিলেন ঢাকায়। কোথাও কাজ না পেয়ে ধানমণ্ডি লেকের কলাবাগান অংশের রাস্তার পাশের ময়লার স্তুপ পরিস্কার করে শুরু করেন ফুল ও ফল গাছের চারা বিক্রি। এরপর নিজেই চারা তৈরি করা শুরু করেন। ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন নার্সারী। আগে একটি নার্সারীতে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকায় এখানে কাজ করতে তেমন বেগ পেতে হয় নি তার। প্রাথমিক পর্যায়ে খুব কম মূলধন নিয়ে শুরু করলেও এখন তার প্রায় দুই লাখ টাকার গাছ আছে বলে জানান তিনি।
প্রতিদিন এখানে প্রকৃতি-প্রিয় মানুষ আসে, নানা রকমের গাছ নেয়। ‍তার কাছে ১০ টাকা থেকে পাঁচ হাজার(৫০০০) টাকা দরের গাছ আছে। তবে তার এখানে ফুল গাছের চারাই বেশী বলে জানান। ফল গাছের মধ্যে কলমের চারাগুলো বেশি। এগুলো বাড়ির ছাদে লাগানোর উপযোগী। ফুল গাছের চারার মধ্যে আছে গোলাপ, বকুল, জবা, হাসনা হেনা, বেলি, শ্বেতকাঞ্চন, সন্ধ্যামালতী, কাঠ গোলাপ, স্বর্ণচাপা, রঙ্গন ইত্যাদি।
এখন তিনি ভাল আছেন, মাসে যে টাকা লাভ থাকে এতে তিনি খুশি।
স্থানীয় এক চায়ের দোকানদার তার এ নার্সারীর বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘যখন শুরু করেছিল তখন ছিল ছোট। এখন ছেলেটা অনেক বড় নার্সারী করে তুলেছে। আমরাও হাতে হাতে অনেক কাজ করে দিয়েছি। আগেতো এখান দিয়ে যাওয়ার উপায় ছিল না। এখন কতো সুন্দর হইছে, ম্যাম সাহেবরা গাড়ী নিয়ে আসে গাছ কিনতে।’

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের বৃক্ষের বাহারি চারার নার্সারী গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে দোয়েল চত্বর, নিউমার্কেট, আগারগাঁও, সাহাবাগ, বনানী, এয়ারপোর্ট, মোহাম্মাদপুর, ধানমন্ডী, গুলশান, খামারবাড়ি এলাকায় খুব বেশি চোখে পরে। এ ধরনের উদ্যোগ আমাদের দেশের বেকার সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে। এর জন্য চাই সরকারি বেসরকারি উদ্যোগ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।