যে জীবন হুইল চেয়ারে

হুইল চেয়ারে বসে আছে হৃদয়। বয়স ১৮ বছর। ও শুধু বসে বা শূয়েই থাকতে পারে। বলতে পারে না কোন কথা। চেয়ারের পাশে দাঁড়িয়ে আছে ওর মা। আঠার বছর পার করেছে এভাবে মায়ের উপর। হৃদয়ের শিশু বয়সে ওর বাবা-মা ঠিক করে পলিও দিতে পারে নি।যার জন্য ওর হাত-পাগুলো অকার্যকর। ওরা তিন ভাই। ছোট দুইজনের একজন অষ্টম শ্রেণীতে অন্যজন ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়াশুনা করে।

ওর বাবা রিক্সা চালায়। আর মা ওকে দেখাশুনা করে ও দিনের বেলায় বিভিন্ন জায়গায় ওকে নিয়ে ভিক্ষা করে। হৃদয় ওর অন্য ভাই দুটির মত সুস্থ হলে হয়তো এখন এসএসসি পাশ করতে পারতো।ওর মা কাজ করে পরিবারে সাহায্য করতে পারতো। কিন্তু একটি ভুল একটি পরিবারের জন্য সারা জীবনের দুঃখ।

হৃদয়কে খাবার খাইয়ে দিতে হয়। বিছানায় শুয়ে বাথরুম করে। কোন কথা বলা বা বুঝতে পারে না। শূধূ হৃদয় বলে ডাক দিলে একটু চেয়ে হাসি দেয়। যে হাসি আপনাকে শান্তনা দিবে কিন্তু এক জীবনের দুঃখ বোঝতে পারবে না। হৃদয়কে নিয়ে ওর বাবা-মা অনেক ডাক্তারের কাছে গিয়েছে কিন্তু কোন সুস্থতর লক্ষন হয়নি। সর্বশেষ সাভার সিআরপি তে নিয়ে গিয়েছে সেখানে কিছুদিন চিকিৎসার পর একটি হুইল চেয়ার দিয়েছে। কিন্তু রোগের কোন স্থায়ী সমাধান হয়নি। দীর্ঘ আঠার বছর যাবৎ ওর মা ওকে দেখাশুনা করছে। বাবাও মাঝে মাঝে এগিয়ে এসেছে। এভাবে বেঁচে থাকা ওর জন্য যেরকম কষ্ট তেমনি পরিবারের জন্য। একমাত্র মায়ের ভালোবাসাই ওকে আগলে রেখেছে। কিছু বছর পর ওর মাও বয়স্ক হয়ে যাবে তখন অনিশ্চিত অন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে হৃদয়ের জীবন।

হদয়দের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ। ওরা সাভারের ডগরমোড়ায় টিনসেটে ভাড়া থাকে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।