রাজধানীর ফুটপথে কবুতর পালন

আজ ধানমন্ডি ৩২ এর ফুটপথ ধরে কলাবাগানের দিকে যাচ্ছিলাম।হাতে কাজ থাকায় দ্রুতই হাঁটছি। এমন সময়ে চোখে পড়লো ফুটপাথের উপর কেউ একজন কবুতর পালন করছে। তিন তলা করে দুটি কাঠের ঘর।আশেপাশে কয়েক জোড়া কবুতর ওড়াউড়ি করছে। পাশে টিনের পাত্রে খাবার পানির ব্যবস্থা আছে।
আমি দাঁড়িয়ে গেলাম। হাতে ক্যামেরা ছিল, দুই তিনটা ছবি তুলে নিলাম। কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলাম, কিন্তু কবুতরগুলো ভয় পেল না। ফুটপাথ দিয়ে অনেকেই যাচ্ছে, কিন্তু কবুতরগুলোর মধ্যে স্বাভাবিকতা লক্ষ্যণীয়। বিষয়টা আমাকে কৌতুহলী করে তুললো।আমি এর মালিকের খোঁজ করলাম কিন্তু আশে পাশে মালিকের দেখা পেলাম না।
কিছুক্ষণ পর একজন বয়স্ক লোক এলেন মালিক পরিচয়ে। নাম নূরে আলম, বয়স ৫৮ বছর। জানতে চাইলাম এখানে কতদিন ধরে কবুতর পালছেন? তিনি জানালেন প্রায় এক বছরের কাছাকাছি হবে। বর্তমানে তার প্রায় ১১ জোড়া কবুতর আছে। প্রায় সবগুলোই দেশি জাতের। প্রতি মাসেই তিন চার জোড়া বাচ্চা কবুতর বিক্রি করেন। এখন তার ব্যাবসাটা বড় করার ইচ্ছা। জায়গার অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না।
এখানে তার কোন অসুবিধা হচ্ছে কী না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই যে রাস্তা ঘাট নষ্ট হচ্ছে। পাশেই বঙ্গবন্ধুর বাড়ি তাই মাঝে মাঝে পুলিশ এসে উঠায় দেয়, একটু দূরে গিয়ে বসাই আবার আসি এভাবেই যাচ্ছে। কবুতর পালায় তার কেমন লাভ হয় এমন পশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এতে তেমন লাভ হয় না। কোন মত হাতখরচ চলে। শখের বশেই পালি, তবে একটা জায়গা পেলে ভাল ভাবে শুরু করতাম তাতে ভাল লাভ হতো। তিনি কিছু কবুতরের নাম বল্লেন যেমন কিং, ব্লু কিং, লাল নিল ও সাদা স্ট্রেকচার, বুখারা, সারটিং বিভিন্ন রকমের মুক্ষী, নান, লহড়ী সিড়াজী, সুয়া চন্দ্রন, ডাবু বেল্ট ইত্যাদি কবুরের চাহিদা বাজারে অনেক। এগুলো পালতে পারলে লাভ হবেই। বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আসে এ জাতের কবুতর খুঁজতে।
তিনি ভাবছেন একটা জায়গা পেলেই তিনি এসব জাতের কবুতর তার খামারে তুলবেন। এতে তাকে বাজারে কবুতর বিক্রি করতে যেতে হবে না, খরিদ্দাররাই তাকে খুঁজে নেবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।