রাজশাহীতে হাজারো পরিবারের চুলকে ঘিরে আলোর হাতছানি

চুলের কাজে নিয়োজিত কাজলী , নিলুফা ইয়াসমিন, রুমা খাতুন, জাহানারা বেগম, মুজিদুল ইসলাম জানান, তারা চুল ক্রয় করেন ৪ হাজার ৩’শ টাকা কেজি। প্রক্রিয়াজাতের পর প্রতি কেজি ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। তবে ১২ ইঞ্চির বেশি লম্বা হলে তার দাম ১৮ হাজার টাকা। এতে করে তাদের পরিবারে সচ্ছলতা ফিরে এসেছে।

চুল মানুষের সৌন্দর্য বহুগুনে বৃদ্ধি করে। চুল কেউ মাথার থেকে ছেটে আরো সুন্দর্যমন্ডিত করে। কাটছাট চুল রাস্তায় পড়ে থাকে পরিত্যক্ত অবস্থায়। এই চুল যখন শিল্পে আলোকবর্তিকা ছড়ায় তাহলে তো জো নেই। তেমনি রাজশাহীতে ফেলে রাখা চুলকে ঘিরে জমজমাট হয়ে উঠেছে চুলের হাট। স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে হাজারো পরিবার। এমটিই ঘটে রাজশাহীর তানোর উপজেলার চৌবাড়িয়া হাটে। মঙ্গলবার বাদে সপ্তাহে  ৬ দিন চুল বাজার থাকে সরগরম। এ চুলের হাটকে ঘিরে গড়ে উঠেছে ১৫ টি প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরা পাচ্ছে স্বাবলম্বী হবার সমান সুযোগ। সব মিলিয়ে এখানে বেঁচা-কেনার পরিমান প্রায় ১ কোটি টাকা। এদিকে রাজশাহীর নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর ও মান্দা চুল প্রক্রিয়াজাত  কেন্দ্র থেকে চৌবাড়িয়ায় এলে এখানে রংপুর ও দিনাজপুর থেকে এ পণ্য কিনতে আসেন পাইকাররা। প্রতিদিন কমপক্ষে ২০ কেজি চুল বিক্রি হয় এবং মাসে অন্তত ১ কোটি টাকার চুল বিক্রি হয় এখানে। এ উপলক্ষে চৌবাড়িয়ায় ৪৬ জন ব্যবসায়ীকে ঘিরে গড়ে উঠেছে চুল ব্যবসায়ী সমিতি।

চুল ব্যবসায়ী সূত্রে জানা যায়, গ্রামে গ্রামে ঘুরে ফেরিওয়ালারা নারীদের চুল সংগ্রহ করে পরে বাজারে ভালো দামে বিক্রি করে দেয়। এ হাটে চুল বিক্রির জন্য রয়েছে ৪৬ টি আড়ৎ। সেখান থেকে চুল ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে আসেন নিজ কেন্দ্রে পরবর্তীতে কয়েকটি ধাপে তা প্রক্রিয়াজাত করা হয়।

চুলের কাজে নিয়োজিত কাজলী , নিলুফা ইয়াসমিন, রুমা খাতুন, জাহানারা বেগম, মুজিদুল ইসলাম  জানান, তারা চুল ক্রয় করেন ৪ হাজার ৩’শ টাকা কেজি। প্রক্রিয়াজাতের পর প্রতি কেজি ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।  তবে ১২ ইঞ্চির বেশি লম্বা হলে তার দাম ১৮ হাজার টাকা। এতে করে তাদের পরিবারে সচ্ছলতা ফিরে এসেছে।

চৌবাড়িয়া চুল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন বলেন, চুল ব্যবসাকে কেন্দ্র করেই  এলাকার হাজারো সুবিধাবঞ্চিত নারী, পুরুষ স্বাবলম্বী হচ্ছে। কিন্তু পরিশ্রমের তুলনায় পারিশ্রমিক খুব কমই পান। যদি সরকারী – বেসরকারী  প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা করা যায় তাহলে এ ব্যবসায় আরো সুফল বয়ে আনবে।

এ ব্যপারে রাজশাহীর তানোর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শওকাত আলী বলেন, তানোরে চুল ব্যবসা একটি সম্ভাবনাময় খাত। এতে যুক্ত হয়ে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নতি হচ্ছে। কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় এখনও চুল ব্যবসা আলাদা শিল্প হিসেবে গড়ে ওঠেনি। সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এ খাত অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ থেকে চুল রপ্তানি হয় ভারত, শ্রীলংকা, মায়ানমার, ভিয়েতনাম, চীন, জাপান,ও কোরিয়ায়। বটিচুল, পরচুলা ও অন্য সৌখিন জিনিস তৈরিতে ব্যবহৃত হয় এ চুল। আর্ন্তজাতিক বাজারে বাংলাদেশের চুলের চাহিদা দিনকে দিন বাড়ছে। বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ খাতে রপ্তানি বাবদ আয় করেছে ১ কোটি ৭৫ লাখ ডলার বা ১৪০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে (২০১৬-১৭)  রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার বা ১৫২ কোটি টাকা।

৩০/১১/১৭
আবু সাঈদ সজল,রাজশাহী

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।