রোমাঞ্চকর স্মৃতির খোঁজে

মনে আছেতো, শৈশবের সেই রোমাঞ্চকর অম্লান স্মৃতি গুলোর কথা? হ্যাঁ, একটু ভাবতেই দুচোখের সামনে ভাসছে সে স্মৃতির ডায়েরি। তাই চলুন না স্মৃতির ডায়েরিটা ঘেঁটে একটু পেছনে ফিরে যাই। সেই চিরচেনা গ্রাম, উচ্ছল শৈশব আর দুরন্ত কৈশোরে। বন্ধুদের সঙ্গে ঝড়ের সময় আম কুড়ানোর প্রতিযোগিতা, পুকুরের ঘোলা জলে ননস্টপ গোসল করে চোখ লাল করে ফেলা। গোল্লাছুট, কাঁনামাছি, বউচি, দাড়িয়াবান্ধা কিংবা ডাংগুলি খেলা। কতই না মজার ছিল সে দিনগুলো। অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলেও সেই স্বর্নালি স্মৃতিগুলো কিন্তু আজও মলিন হয়ে যায়নি। বরং মনে পড়লেই একটা প্রশান্তির মৃদু হাওয়া দোলা দিয়ে যায় মনে। সকালের নরম রোদের মতো এক চিলতে মৃদু হাসি খেলে যায় ঠোঁটের কোনায়।

শৈশব, কৈশোরের ফেলে আসা হাজারো মধুর স্মৃতির মধ্যে অন্যতম একটা স্থান দখল করে আছে পাড়ার বন্ধুরা মিলে ‘চড়–ইভাতি’ খেলা। স্থানভেদে যার, আরেক নাম ‘জোলাভাতি । এই চড়–ইভাতিতে চাঁদা হিসেবে সবাইকে যার যার বাড়ি থেকে নিয়ে আসতে হতো পরিমাণমতো চাল-ডাল। কারও কারও উপর দায়িত্ব থাকত তেল আর মসলাপাতি যোগাড় করার। আবার কয়েকজন মিলে বেড়িয়ে পড়ত জ¦ালানি সংগ্রহে। বনে-বাদাড়ে ঘুরে কুড়িয়ে আনা হতো গাছের নিচে পড়ে থাকা শুকনো পাতা আর চিকন ডাল। রান্না-বান্নার পর্বটা হতো সাধারণত খালের ধারে কিংবা খোলা প্রান্তরে, কিংবা ডালপালার বিশাল কোনো বটবৃক্ষের তলায়। বন্ধুদের মধ্যে বড় আপুরা যারা রান্না করার মতো শৈল্পিক দায়িত্বটা তারা নিজ দায়িত্বেই কাঁধে তুলে নিতেন। বাকিরা মেতে উঠত নানান খেলাধুলায়। রান্না হয়ে গেলে সবাই মিলে ঝাঁপিয়ে পড়ত খালের  স্বচ্ছপানিতে। অন্যদিন গোসল করতে দেরি হলেও তখন কার আগে কার গোসল শেষ হবে শুরু হয়ে যেত সেই প্রতিযোগিতা। গোসল শেষে শুকনো কাপড় পড়ে প্লেট হাতে কওে বৃত্তাকারে বসে যেত সবাই। বড় আপুরা একে একে ভাত তরকারি বেড়ে দিতেন। তারপর নিজেরা নিতেন। আপুরা যখন খাওয়া শুরুর ইঙ্গিত দিতেন তখন একসঙ্গে শুরু হতো খাওয়া। আহ! সে খাবারের কি স্বাদ। হলফ করে বলতে পারি এখনও সে স্বাদ মুখে লেগে আছে। কিন্তু এখন তো অনেক বড় হয়ে গেছি। ব্যাস্ততা ঘিরে ধরেছে চারদিক থেকে। কারণ পড়াশোনা করছি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশ্বমানের একটি সবুজ ক্যাম্পাসে। চাইলেই তো আর সেই আবেগ অনুভূতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তাই বলে কি আর বসে থাকা যায়? কথায় আছে ইচ্ছে থাকলে সবই সম্ভব।

 

আর তাই তো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘নরসিংদী জেলা সমিতি’র আয়োজনে বিভিন্ন ব্যাচের ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে করা হলো ক্যাম্পাসে চড়–ইভাতি। আনন্দঘন পরিবেশে মঙ্গলবার সবাই মিলিত হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়ামে। যদিও শৈশবের মত কারো কোন কিছু জোগাড় করতে হয়নি। সব জোগাড় করেছে জেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাহিদুর রাশেদ। তবে সবাই দিয়েছে নির্দিষ্ট পারিমান চাঁদা। সেই চাঁদা দিয়ে কেনাকাটা শেষে শুরু হলো রান্না-বান্নার কাজ। পাশাপাশি গল্প, একে অপরের সাথে পরিচয়ে রোমাঞ্চকর এক মূহুর্ত পার করছে সবাই। এ মিলনমেলা যেন ক্যাম্পাসে নিজ জেলার মাটির গন্ধ ফিরিয়ে এনেছে।  যেন নিজ পরিবারের বসে সবাই আড্ডা দিচ্ছে, গল্প করছে। সবার অনভূতি প্রকাশে উঠে এল এমন কথা। তারপর ‘ফানবক্সে’ সবার প্রতিভা মেলে ধরার এক ভিন্ন আয়োজনে। সে আয়োজনে অংশগ্রহণ করে অনেকেই জুগিয়েছেন হাসির খোড়াক। সব মিলিয়ে শৈশবের সেই রোমাঞ্চকর দিনগুলোতে যেন ফিরে গেল সবাই আরেকবার। এমনটাই জানালেন সকলে। এ বিষয়ে নরসিংদী জেলা সমতিরি সাধারণ সম্পাদক নাহিদুর রাশেদ বলেন, ‘অনেকদিন পর এ আয়োজন করতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত। এ জাতিয় আয়োজন আমরা পরবর্তী দিনগুলোতেও অব্যাহত রাখবো। আশা করি এর মাধ্যমে জেলা সমিতির কাজে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়বে।’

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।