লালনদর্শনে নরসিংদী মির্জাপুরে পালিত হলো তিনদিনব্যাপী বাউলমেলা

ঠিক গত বছর এই দিনে এই মঞ্চে উপস্হিত ছিলেন হুমায়ূণ সাধু। মঞ্চে দাড়িয়ে সিঙ্গা বাজিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করতেন তিনি।সেটি ছিল একরকম প্রার্থনা,ঠিক যেন আধ্যাতিকতার সাথে যোগাযোগ স্হাপণ ।এমনটিই বিশ্বাস ভক্তদের।আর সে বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত তাদের দর্শন। আজ তিনি শারিরীকভাবে অনুপস্হিত।আকড়ার উঠোনেই তাঁকে সমায়িত করা হয়।তবে ভক্তদের কাছে ভক্তদের মতে তিনি সেখানে উপস্হিত ছিলেন এবং ভাবজগতে তিনিও একাত্ব ছিলেন বিগত দিনগুলোর মতো।

নরসিংদী থেকে ফিরে
(মিল্কী রেজা)

 

নরসিংদী খানাবাড়ি মির্জানগরে বাউল হুমায়ূণ সাধুর আকড়ায় গত ২৪ নভেম্বর থেকে ২৬ নভেম্বর উদযাপিত হয়ে গেল বাউল মেলা।সহস্রাধিক লোকের উপস্হিতিতে এ মেলা তিনদিন যাবৎ স্হায়ী ছিলো।সারাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে লালন অনুসারী দর্শক এবং বাউল শিল্পীরা উপস্হিত ছিলেন এ আয়োজনে।দেশ খ্যাত টুনটুন বাউল সহ কুষ্টিয়া থেকে আগত বিভিন্ন মহিলা ও পুরুষ শিল্পীরা আসরকে আলোকিত করেছেন।প্রতি বছরই এই দিনে হুমায়ূণ সাধুর আকড়ায় এই আয়োজন হয়ে থাকে।লালন তিরোধানের চল্লিশা দিবস হিসেবে এই দিনটিকে আড়ম্বরভাবে পালন করে আসছিলেন হুমায়ূন সাধু ।এ বছরও তার কোন ব্যতিক্রম হয়নি।এবং সারাদেশ থেকে শত সহস্র দর্শক এবং গুরুভক্ত সাধুজন এসে উপস্হিত হন সেখানে।
ঠিক গত বছর এই দিনে এই মঞ্চে উপস্হিত ছিলেন হুমায়ূণ সাধু। মঞ্চে দাড়িয়ে সিঙ্গা বাজিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করতেন তিনি।সেটি ছিল একরকম প্রার্থনা,ঠিক যেন আধ্যাতিকতার সাথে যোগাযোগ স্হাপণ ।এমনটিই বিশ্বাস ভক্তদের।আর সে বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত তাদের দর্শন। আজ তিনি শারিরীকভাবে অনুপস্হিত।আকড়ার উঠোনেই তাঁকে সমায়িত করা হয়।তবে ভক্তদের কাছে ভক্তদের মতে তিনি সেখানে উপস্হিত ছিলেন এবং ভাবজগতে তিনিও একাত্ব ছিলেন বিগত দিনগুলোর মতো।
গুরুভক্তি যেন সেখানে উপস্হিতিদের মধ্যে এক স্নিদ্ধতা বয়ে নিয়ে এসেছিলো।
বিনয়,শ্রদ্ধা এবং আন্তরিকতা এসব ভক্তকূলের পাথেয়।জানা যায় হূমায়ূণ সাধু ছিলেন কিশোর মুক্তিযোদ্ধা। তাঁর মানবতার পরিচয় পাওয়া যায় এবং পরবর্তীকালে তার বোধ,ভাব,আধ্যাত্মিক যাত্রা বা আত্মিক যাত্রা তাঁকে গুরুর আসনে বসিয়েছে।আর সে কারণেই আয়োজনের স্বার্থকতা লক্ষ করা যায় প্রতি পদে।কারণ সকল আয়োজক এবং উপস্হিতির ভালোবাসা মিশ্রিত ছিল প্রতিটি স্তরে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেছেন অত্র এলাকার স্হানীয় চেয়ারম্যান কাজী হুমায়ূণ সরদার।আরো উপস্হিত ছিলেন কুষ্টিয়া থেকে আগত সাধক আলাউদ্দীণ,ভূটণ সাধু,ঢাকা থেকে আগত দৈনিক যুগান্তরের বিশিষ্ট সিনিয়র সাংবাদিক এবং সম্পাদক তরিক রহমান,প্রথম আলো সংবাদ প্রতিনিধি রাসেল মাহমুদ সহ আরো গন্যমান্য অসংখ্য ব্যক্তিত্ব।
টুনটুন বাউলের সঙ্গীত দর্শক চিত্তকে ভাব জগতের যাত্রায় নিয়ে যায়।আরো ছিলেন বিভিন্ন গুণী বাউল শিল্পী যাদের পরিবেশনায় গোটা আসর তিনদিন ডুবে ছিল সুরের ভূবনে।বাউল যন্ত্রে তাঁদের বাজনা পুরো পরিবেশকে নিয়ে গেছিলো এক ভিন্ন জগতে।অনুষ্ঠানে যেসব সঙ্গীত পরিবেশিত হয় তার মধ্যে কিছু ছিল শ্রষ্ঠার উদ্দেশ্যে সার্বজনিন এবং কিছু সাধু গুরুকে উৎসর্গ করে বা লালন দর্শণসমৃদ্ধ যেমন-
অযতনে ডুবলো ভারা, তরাও গুরুর নিজগুনে।
আর আমার কেউ নাই গুরু তুমি বিনে,
আমি ঐ চরণে দাসের যোগ্য নই,
আমার চরণছাড়া করোনা হে দয়াল হরি,
সর্ব সাধণ সিদ্ধ হয় তার মানুষ গুরু নিষ্ঠাচার,নবীর নূরে সাজাবো সংসার।
টুনটুন বাউল ছাড়াও সেখানে সঙ্গীত পরিতবশন করেন আনু শাহ,বলাই শাহ,সিদ্দীক ওস্তাদ,শেলী বাউল,সোহেল ক্ষ্যাপা,জনি বাউল,এসেছিলেন ফকির লোকমান ,ইমন ভেড়ো আরো অনেকেই।সবমিলিয়ে পরবর্তী বছর আবার আয়োজনের আশা নিয়ে তিনদিনের এ বিশাল আয়োজন শুরু হলো প্রার্থনা দিয়ে এবং শেষ হলো প্রার্থনা দিয়ে।সঙ্গীতের মাধ্যমেই যে প্রার্থনা।

২৭/১১/১৭
মিল্কী রেজা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।