সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল এবং কিছু কথা

বাংলাদেশের গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখনও একটা নির্দিষ্ট পরিমান শিশু আসে অসুবিধাগ্রস্ত পরিবার থেকে। যে পরিবারগুলোতে প্রায় প্রতিদিনই একবার রান্না হয়, যা দুইবার কোনরকমে পেট ঠাণ্ডা হলেও তিনবেলার আহার তো হয়ই না উপরন্ত দেহের প্রয়োজনীয় পুষ্টিও পূরণ হয় না। এমতাবস্থায় সরকার স্কুলে মিড ডে মিল চালু করার তাগিদ অনুভব করলেও সেটা সারাদেশে চালু করা সম্ভব মনে করছে না কিন্তু তাগিদ দিচ্ছে স্থানীয় জনগণকে। স্কুলে মিড ডে মিলের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করায় মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার গাঁড়াডোব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালু করা হয়েছে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে। কিন্তু এতদিন সেটা প্রধান শিক্ষকের ফেসবুক ফ্রেণ্ডসদের আর্থিক সাহায্যে চলে আসছে। কিন্তু এটা ধরে রাখার জন্য কোন স্থায়ী ব্যবস্থা হতে পারে না। তাই এটা কীভাবে ধরে রাখা যায় এবং কীভাবে এই সমস্যার স্থায়ীভাবে সমাধান করা যায় সেই ভাবনা থেকে একটা উদ্ভাবনী চিন্তা করা হয়, যাতে এই অসুবিধাগ্রস্ত পরিবারের মায়েদের সাবলম্বী করা হবে এবং স্কুলেরও একটা আয়মূলক ব্যবস্থা করা যাবে। চিন্তা করা হয় মায়েদের অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে কিছু আয়মূলক কাজ করতে হবে যাতে মায়েদের হাতে কিছু টাকা আসবে যা শিশুর শিক্ষা উপকরণ কিনতে সাহায্য করবে এবং স্কুলের মিড ডে মিলের জমানো টাকাও বাড়বে, বাইরে থেকে আর কোন সাহায্য প্রয়োজন হবে না। এখন মায়েরা কি কাজ করতে পারবেন? গ্রামের মায়েরা সাধারণত প্রয়োজনের তাগিদে হাতে সেলাইয়ের কাজটা করে থাকেন, যেমন, কাঁথার কিছু সাধারণ সেলাইয়ের কাজ। আর সেটা মাথায় রেখেই কিছু কাজ শুরু করা হয়েছে। কাঁথা, শাড়ি, ফতুয়া, কামিজে নকশার কাজ। এখন মায়েরা এগুলো সেলাই করছেন, এবং সেগুলো অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছে, মায়েদের হাতে কিছু টাকা আসছে এবং স্কুলের মিড ডে মিলের তহবিলও বাড়ছে।
এটা একটা উপায়। কিন্তু আমার মনে হয় এই মায়েদের দিয়ে আরো অনেক কাজ করা যায় যা একটা স্কুল ক্যাচমেন্ট এলাকার মায়েদের সাবলম্বী করতে সাহায্য করতে পারে এবং স্কুলেরও উন্নয়নে কেবল সরকারের উপর নির্ভর করতে হয় না। যেমন ফুড প্রোসেসিং, প্রাকৃতিক কৃষি, কেঁচো সারের মত বিভিন্ন কাজের মধ্য দিয়ে কাজগুলো করা যায়। সেক্ষেত্রে অবশ্যই প্রধান শিক্ষককে স্কুলের বাইরে প্রতিদিন দু এক ঘন্টা বাড়তি সময় শ্রম দিতে হবে। এবং বর্তমানে সরকারের দাপ্তরিক এলোমেলো কাজগুলোকে সুশৃঙ্খল করে প্রধান শিক্ষকের উপর কাজের চাপ কমাতে হবে। প্রধান শিক্ষকের দাপ্তরিক কাজে সহযোগিতার জন্য একজন সহকারী দিতে হবে। তাহলে প্রতিটা গ্রামের সরকারি প্রাইমারি স্কুল ক্যাচমেন্ট এরিয়াকে কেন্দ্র করে এমন পদক্ষেপ নিলে সারা বাংলাদেশেই উন্নয়নে প্রভাব ফেলা যেতে পারে। এক্ষেত্রে এলাকা বিশেষে কাজের ধরণ ভিন্ন ভিন্ন হবে। গাঁড়াডোব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই কাজ শুরু হয়েছে মায়েদের হাত দিয়ে তাই নাম দেওয়া হয়েছে, “মায়ের হাত”। আশা করি “মায়ের হাত” একদিন সাফল্যের মুখ দেখবে এবং একটা উদাহরণ হয়ে থাকবে। মায়ের হাতের জয় হোক!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।