সর্বনাশা আত্মহত্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর, নেপথ্যে প্রেম

এক বুক স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হয়েছিল দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে। বিশ্বমানের জ্ঞান অর্জন করে দেশ গড়ার কারিগর হবে তারা। কিন্তু প্রেমের বন্ধন যেন জীবনকে হতাশায় নিমজ্জিত করে। পরিণামে বেচেঁ নেয় আত্মহননের পথ। গত আট বছরে যে পথে চলে গেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চার মেধাবী শিক্ষার্থী।

এক বুক স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হয়েছিল দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে। বিশ্বমানের জ্ঞান অর্জন করে দেশ গড়ার কারিগর হবে তারা। কিন্তু প্রেমের বন্ধন যেন জীবনকে হতাশায় নিমজ্জিত করে। পরিণামে বেচেঁ নেয় আত্মহননের পথ। গত আট বছরে যে পথে চলে গেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চার মেধাবী শিক্ষার্থী।

সর্বশেষ গত ১৪ তারিখ বৃহস্পতিবার রাতে প্রেমে ব্যার্থ হয়ে মো. আদনান নামের এক শিক্ষার্থী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হয়। তবে আদনান মাদকাসক্ত ছিল বলেও জানা যায়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ৪১ তম আবর্তন ও মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন।

এর আগে ২০১১ সালের ২৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ৩৫তম ব্যাচের ছাত্রী মারজিয়া জান্নাত সুমি আত্মহত্যা করে। তিনি তার বিভাগের রেজাল্টে ‘প্রথম স্থান’ অধিকারী ছাত্রী ছিলেন।

এছাড়া ২০১০ সালের ২৭ জুলাই সোহানুল হাসান নামের আরেক শিক্ষার্থী প্রেমে ব্যার্থ হয়ে আত্মহত্যা করে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ৩৩তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। একই বছরের ১২ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থনীতি বিভাগের ৩৮তম ব্যাচের ফারাহ নাজ রুহি নামের এক ছাত্রী আত্মহত্যা করে। তখন তার এ আত্মহত্যায় প্ররোচনা দানের অভিযোগে তার ছেলেবন্ধু কল্যাণপুর থেকে আটক করে পুলিশ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কেন এ আত্মহত্যার পথ বেঁচে নিচ্ছে? বিশিষ্ট নৃবিজ্ঞানী ও জাবির ভিসি অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অবস্থায় কিছু শিক্ষার্থী অধিক আবেগ প্রবণ হয়। যার কারণে তারা প্রিয়জনের সাথে হঠাৎ অভিমান করে এ পথ বেচেঁ নেয়। এছাড়াও এসময় শিক্ষার্থীরা ব্যাথিত, দুঃখিত হয়ে তারা প্রত্যাশা করে মনোযোগ আকর্ষণের। যখন সে কারো মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারেনা, তার মনের লকুাইতো কথাগুলো বলতে পারেনা। তখনই সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। নির্জনতাকে পছন্দ করতে থকে। এসময় যদি তাকে ভালভাবে পর্যবেক্ষণ না করা হয় বা সঙ্গ দেওয়া না হয় (অর্থাৎ মনের কথা যদি খুলে বলতে না পারে) তবে সে আত্মহত্যার দিকে ধাবিত হয়।’
এ নৃবিজ্ঞানী আরো বলেন, ‘অভিবাবকদেরকে শাসনের সাথে সাথে সোহাগের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, হলের প্রভোস্ট, ওর্ডেন, সিক বয় ও সংশ্লিষ্ট সকলকে সবসময় শিক্ষার্থীদের প্রতি আরো বেশি ছাত্র বান্ধব হয়ে খোঁজ খবর নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।’

এ জাতিয় আত্মহত্যা থেকে উত্তরণের জন্য কি করণীয় এমন প্রশ্নে জাবির ছাত্র-কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের মনোবিজ্ঞানী শুভাশীষ কুমার চ্যাটার্জী বলেন, ‘পিতামাতাকে সন্তানের চলাফেরা সম্পর্কে বেশি বেশি খোঁজ খবর নিতে হবে। যদি কখন তার কোন আচরণের পরিবর্তন দেখা যায়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তার মনের কথা গুলো শোনার চেষ্টা করা। নতুবা কোন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে হতাশা গ্রস্থ শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুবই কম। কারণ যারা ভর্তি হয় তারা সবাই প্রাপ্ত বয়স্ক। তারা সব কিছু বুঝে। শিক্ষার্থীদের আমরা স্বাস্থ্য সেবার পাশাপাশি মানসিক সেবা দেওয়ার জন্য আমাদের মনোবিজ্ঞানী আছে। তারা যদি মনে করে তাদের মানসিক ভাবে অসস্তি বোধ করছে, তাহলে মনোবিজ্ঞানীদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।’

১৮/১১/১৭
মাহবুব আলম, জাবি থেকে

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।