সর্বনাশা মাদক ধ্বংস করে দিচ্ছে রাবি শিক্ষার্থীদের জীবণ

‘আমি প্রথমে বন্ধুদের সাথে আড্ডার ছলে একটু-আধটু মাদক সেবন করতাম। পরে এর ছোবল থেকে আর ফিরে আসতে পারি নি।’

মাদক। শব্দটি শুনলেই যে কারো আতকিয়ে ওঠার কথা। এ নেশা থেকে নিস্তার পাওয়া মৃত্যু ছাড়া বিকল্প পথ খুব কম সংখ্যক লোকই খুঁজে পেয়েছে। এর ছোবল থেকে রেহাই পেতে গড়ে উঠেছে মাদক নিরাময় কেন্দ্র। কিন্তু কজনই বা নিরাময়ে সুস্থ হয়, বেশির ভাগ মাদকাসক্তের শেষ পরিনতি মৃত্যু। বাংলাদেশের মতো একটি ক্ষুদ্র অর্থনীতির দেশে এটা সত্যিই দু:খজনক। দেশের অন্যতম বিভাগ রাজশাহী অঞ্চলে মাদকব্যবসা পূর্বে  ফেনসিডিল ও গাঁজার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে ভারত থেকে সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অবাধে আসছে হেরোইন ও ইয়াবা। ফলে অন্যান্য নেশার থেকে ইয়াবাসেবীর সংখ্যা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। এর ভায়াবহতা থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পিছিয়ে নেই। এ নেশা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের।  বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে গড়ে উঠেছে রমরমা মাদক ব্যবসা। হাত বাড়ালেই মিলছে মাদকদ্রব্য। এতে করে ক্যাম্পাসে মাদকাসক্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ও পাশ্ববর্তী এলাকায় এখন হাত বাড়ালে গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইনসহ সব ধরনের মাদকদ্রব্য পাওয়া যাচ্ছে। আর এগুলো ক্যাম্পাসে সরবরাহ করে থাকে স্থানীয় কিছু অসাধুলোক।

রাত গভীর হলে মাদকের আড্ডা মেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর চত্বর, রবীন্দ্রভবন ও সিরাজী ভবনের ছাদ, শহিদুল্লাহ কলাভবন, পূর্বপাড়া, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের পুকুর পাড়, বুধপাড়া ও স্টেশন বাজার এলাকায়।

এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুরে চা বিক্রির সাইনবোর্ডের আড়ালে মাদকদ্রব্য বিক্রি করা হয়ে থাকে। শিক্ষার্থীরা চা খাওয়ার নাম করে ওই দোকানে বসে বিশেষ সঙ্কেতের মাধ্যমে মাদকের নাম ও পরিমাণ জানিয়ে টাকা দেন। কিছুক্ষণ পর দোকানী বিশেষ পদ্ধতিতে খরিদ্দার শিক্ষার্থীর হাতে চাহিদামত মাদকদ্রব্য তুলে দেয়।

সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আবু বকর অন্তু বলেন, ‘কেউ নিজেকে অতিরিক্ত স্মার্ট দেখাতে আবার কেউবা বন্ধুদের পাল্ল­ায় পড়ে মাদকদ্রব্য সেবন করছেন। আবার অনেকে প্রেমে ব্যর্থ হয়েও মাদকে আসক্ত হচ্ছেন। আর এই মাদকদ্রব্যের টাকা জোগান দিতে চুরি-ছিনতাই করতেও তারা দ্বিধাবোধ করছেন না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মনোবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি প্রথমে বন্ধুদের সাথে আড্ডার ছলে একটু-আধটু মাদক সেবন করতাম। পরে এর ছোবল থেকে আর ফিরে আসতে পারি নি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘ক্যাম্পাসে এ ধরনের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। স্থানীয়দের সহযোগিতায় মাদক ব্যবসায়ীরা ক্যাম্পাসে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক বিক্রি করছে। অনেকে শখের বসে মাদক গ্রহণ করতে গিয়ে একেবারে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এ থেকে বাঁচতে হলে সবাইকে সচেতন হতে হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর  ড. লুৎফর রহমান বলেন, ‘পূর্বের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের তৎপরতা অনেক কম। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে মাদক ব্যবসা নির্মূলে কাজ করে যাচ্ছে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ‘ক্যাম্পাসে মাদকের ব্যবসা বন্ধে আমরা বদ্ধপরিকর। এ ব্যাপারে আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে শীঘ্রই পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, এদিকে মাদক ব্যবসায় জড়িতের বিষয়ে একটি প্রতিবেদনে রাবির ৬ শিক্ষক, ৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী, ১৪ জন শিক্ষার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়।

২৮/১১/১৭

আবু সাঈদ সজল, রাবি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।