স্বপ্ন, সততা ও সত্যবাদিতা

জীবনকে সুন্দর, সফল ও সার্থক করে তুলতে হলে ভালো স্বপ্ন দেখার পাশাপশি সৎ থাকার অভ্যাস অর্জন করতে হয়। সৎ গুণ সম্পন্ন মানুষ কখনও অসৎ কিংবা মন্দ কাজে লিপ্ত থাকতে পারে না। সৎ লোক মাত্রই চরিত্রবান ও মহৎ হয়ে থাকে। সৎ লোক সমাজে সবার বিশ্বাসভাজন হয়ে থাকেন। সততা মানুষকে নৈতিক শক্তিতে বলীয়ান করে থাকে। সৎ ব্যক্তি কখনও অন্যায় ও অসত্যের কাছে মাথা নত করে না। দুনিয়ার জীবনে তাই সততার গুরুত্ব অপরিসীম। সৎ লোকের সততার প্রভাবে প্রভাবান্বিত হয়ে অসৎ-মন্দলোকও জীবনের গতি পরিবর্তন করতে পারে।

মানুষের ছোট ছোট ভাবনা, ছোট ছোট স্বপ্ন আর ছোট ছোট কাজের সমষ্টিই জীবন। প্রতিটি চিন্তা, প্রতিটি স্বপ্ন প্রভাবিত করে জীবনকে। এই জীবনের চলার পথে মানুষ মাত্রই স্বপ্ন দেখে। আসলে স্বপ্ন ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না। স্বপ্ন মুলত দুই রকমের হয়ে থাকে। যার একটি হলো স্বাভাবিক স্বপ্ন, যা আমরা ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখি, এই স্বপ্নের কোন মানেই থাকে না। আরেক ধরনের স্বপ্ন আছে, যা আমরা বলতে পারি ‘জীবন ছবি’। আর এটা হলো বড় হওয়ার স্বপ্ন, জীবনে একটা কিছু করার স্বপ্ন। এই স্বপ্নই আমাদের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে। আর এই স্বপ্ন নিয়ে কথা বলেছেন উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালাম।

তিনি শুধু রাষ্ট্রপতিই নন এক গভীর চিন্তাবিদ, বিশ্লেষক দার্শনিক, শিক্ষক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী। ভারতসহ বিশ্বের লাখো লাখো তরুণের কাছে তাঁর পরিচয় একজন স্বপ্নবাজ মানুষ। স্বপ্নের ফেরিওয়ালা যিনি। নিজেও যেমন স্বপ্ন দেখে জীবনকে এগিয়ে নিয়েছেন শুধুই সামনের দিকে, তেমনি অন্যদেরও তিনি স্বপ্ন  দেখিয়েছেন জীবনভর। এক স্বপ্ন সফল হলে শুরু হতো আরেক স্বপ্নের জাল বোনা।
স্বপ্নের ফেরিওয়ালা এপিজে আবদুল কালামের একটি সুন্দর উক্তি রয়েছে। তাঁর মতে, ‘মানুষ ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে যা দেখে তা স্বপ্ন নয়, স্বপ্ন হলো সেটাই-যা মানুষকে ঘুমাতে দেয় না।’ তিনি সব সময় স্বপ্নের পক্ষে ছিলেন। কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন, স্বপ্ন ও স্বপ্নবাজরা সব সময় সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারেন। তাই তিনি সব সময় সবাইকে স্বপ্ন  দেখতে এবং স্বপ্নের পেছনে তাড়া করতে উদ্বুদ্ধ করতেন। কারণ স্বপ্ন না দেখলে তো তা সত্যি হবে না। তাঁর মতে, ‘স্বপ্ন দেখতে হবে। কারণ স্বপ্নটা চিন্তায় পরিণত হয়। আর চিন্তা মানুষকে কর্মে অনুপ্রাণিত করে।’
কিন্তু বর্তমান সময়ে পুঁজিবাদী চিন্তা আমাদেরকে ভালো স্বপ্ন দেখার পরিবর্তে অর্থের পিছু ছুটতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। যার কারণে আমাদের মধ্যে সততা আস্তে আস্তে দূরিভূত হয়ে যাচ্ছে। অথচ আমদের চরিত্রকে মহিমান্বিত করার জন্য, জীবনকে সফলতায় ভরে দেয়ার জন্য সততার চর্চা অপরিহার্য। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের সততার পরিচয় দেয়া একান্ত দরকার।
আর এই জন্য ছেলেবেলা থেকেই  আমাদের স্বপ্ন দেখার পাশাপাশি সৎ থাকার অভ্যাস গঠন করতে হবে। সততার অনুশীলন করতে হবে। এ জন্য বলা হয়, মানবচরিত্রের অন্যতম একটি মহৎ গুণ হলো সততা। এই গুণ অর্জনের চেষ্টা ও চর্চা একজন মানুষকে পৌঁছে দিতে পারে মর্যাদা ও গৌরবের শ্রেষ্ঠতম স্থানে। যিনি এই মহৎ গুণ অর্জন করতে পারেন তিনিই সমাজে আদর্শ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে থাকেন। সততাকে তাই মানব চরিত্রের অলঙ্কার বলা হয়ে থাকে। সততা বলতে সৎ থাকার গুণকে বুঝানো হয়। সত্যের অনুসারী মানুষের সৎ থাকার প্রবণতার মধ্য দিয়ে সততার প্রকাশ ঘটে। অন্যায়, অবৈধ কাজ না করে ন্যায় ও সত্যের পথে জীবন পরিচালনা করাই সততার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। জীবনকে সফল ও সার্থক করে তোলার  প্রধান উপায় হলো সততা। সৎ চিন্তা ও সৎ কাজের মধ্য দিয়েই বিকাশ ঘটে সততার মতো মহৎ গুণ। তাই আদিকাল থেকে মানুষ সততার চর্চা করে সমাজে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করে আসছে। সততার গুণ সমৃদ্ধ মানুষ সমাজের আদর্শ মানুষ। সততার সুফল শত ধারায় বিকশিত।
জীবনকে সুন্দর, সফল ও সার্থক করে তুলতে হলে ভালো স্বপ্ন দেখার পাশাপশি সৎ থাকার অভ্যাস অর্জন করতে হয়। সৎ গুণ সম্পন্ন মানুষ কখনও অসৎ কিংবা মন্দ কাজে লিপ্ত থাকতে পারে না। সৎ লোক মাত্রই চরিত্রবান ও মহৎ হয়ে থাকে। সৎ লোক সমাজে সবার বিশ্বাসভাজন হয়ে থাকেন। সততা মানুষকে নৈতিক শক্তিতে বলীয়ান করে থাকে। সৎ ব্যক্তি কখনও অন্যায় ও অসত্যের কাছে মাথা নত করে না। দুনিয়ার জীবনে তাই সততার গুরুত্ব অপরিসীম। সৎ লোকের সততার প্রভাবে প্রভাবান্বিত হয়ে অসৎ-মন্দলোকও জীবনের গতি পরিবর্তন করতে পারে।
বড় পীর হযরত আবদুল কাদির জ্বিলানী (রহ:) বাল্যকাল থেকেই সততা ও সত্যবাদিতার জন্য সকলের প্রিয় পাত্র ছিলেন। ডাকাত দলের হাতে ধরা পড়েও তিনি মিথ্যার আশ্রয় নেননি। ফলে বালক আবদুল কাদের জ্বিলানীর সততায় মুগ্ধ হয়ে ডাকাত দল ডাকাতি ছেড়ে দিয়ে ভালো মানুষ হয়ে যায়। কাজেই সুখী, সমৃদ্ধ ও সুন্দর জীবনযাপনের জন্য আমাদেরও সততা অর্জনে ব্রতী হতে হবে। সবশেষে মহাত্মা গান্ধীর একটি উক্তি দিয়ে শেষ করবো  আর তা হলো- আমার জীবনের অভিজ্ঞতায় উপলব্ধি করতে পেরেছি যে, একমাত্র সততা ও ভালোবাসা দ্বারা পৃথিবীকে জয় করা যায়।

১৯/১১/১৭
বেলাল এইচ রাহাত, জাবি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।