হিজড়াদের চাঁদাবাজি, অতিষ্ঠ মিরপুরবাসি

মিরপুর ১০ নম্বর ট্রাফিক জ্যামে আকিক পরিবহনের একটি বাস এসে থামতেই হাতে তালি দিতে দিতে উঠে পড়লেন দুজন হিজড়া। তারা যাত্রী হয়ে গন্তব্যে যাওয়ার জন্য বাসে ওঠেননি। তাদের উদ্দেশ্য চাঁদা তোলা। বাসে উঠেই দুজন দুই দিক দিয়ে যাত্রীদের বিভিন্ন সম্বোধন করে চাঁদা চাইতে লাগলেন। চাঁদার সর্বনিম্ন পরিমাণ ৫ টাকা। বেশ মার্জিত তাদের ভাষা। তবে কেউ দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলেই সেই ভাষা বদলে যেতে সময় লাগে না।
মিরপুর ১০ নম্বরে এটি নিত্য দিনের ঘটনা হিজড়াদের গ্রুপে সাধারণত দুজন করে থাকে। মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর হয়ে যেসব বাসযাত্রীরা নিয়মিত যাতায়াত করেন তাদেরকে প্রায় প্রতিদিনই এই দৃশ্যের মুখোমুখি হতে হয়। সাধারণত হিজড়াদের নিয়ে কেউ ঘাঁটাতে চায় না। প্রথমে অনুরোধ; তারপর জবরদস্তি করে হলেও টাকা আদায় করে ছাড়ে। যদি কোনো যাত্রী কোনো কারণে টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে তখন তাকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল বাক্যবর্ষণ শুরু হয়। বাধ্য হয়েই তাই বেচারা যাত্রীকে টাকা দিতে হয়।
কিন্তু কেন এই চাঁদাবাজি? একজন হিজড়াকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, “ছেলে-মেয়েদের খাওয়াব, আমরা খাব। তাই টাকা তুলছি। বাস থেকে নামার সময় একজন বলে উঠেন, “আপনারা ভদ্রলোকরা তো আমাগো চাকরি দেন না, আমাগো খাওয়াবো কে?”
এ সময় বাসযাত্রীরাও বিষয়টি বিভিন্ন অভিযোগ করেন। ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্র সামি প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করেন তিনি বলেন, “আমাকে প্রতিদিন এই পথ হয়ে ইউনিভার্সিটি যেতে হয়। এর ফলে দিনে একাধিকবার ওদের খপ্পরে পড়তে হয়। আর টাকা না দিয়ে কোনো উপায় নেই।একদিকে ভিক্ষুকদের উপদ্রব, অন্যদিকে এই হিজড়া। ভিক্ষুকদের তাড়ানো যায় কিন্তু ওদের সুন্দর করে না বললেও সমস্যা। আজে বাজে কথা বলা শুরু করে। ”
হিজড়াদের অবহেলার দায় এড়াতে পারে না সমাজ ও রাষ্ট্র। বেঁচে থাকার ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধাও তাদের নেই। নেই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। তাই অনেক হিজড়া বাধ্য হয়ে নানা অপ্রীতিকর কাজে জড়ান।

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।