বিভাগ: পরিবেশ ও প্রকৃতি

যেখানে গাছের কদমছাট দেয় হরিণ সুন্দরবন

খুলনা জেলার সুন্দরবন , যার সাথে কোন এলাকার বনের তুলনা হয় না। হবেই বা কেন , কারণ সে যে বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।সেখানে যতদূর চোখ যাবে দেখা যাবে নদীর কোল ঘেষে গড়ে উঠা সবুজের সমারোহ।তাছাড়া আরও দেখা মিলবে জলচর ও উভচর প্রাণীর দেখা।সাথে আরো থাকবে গা ছম ছম করা রোমাঞ্চকর অনুভূতি ও বনের মাঝে লুকিয়ে থাকা অজানা রহস্যর টান।ঘুরে বেড়ানোর জন্য সুন্দরবনের সকল এলাকাই আকর্ষণীয় তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে সর্বত্র ঘুরে বেড়ানো সম্ভব নয়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই রাজ্যকে ঘুরে দেখার জন্য সেখানকার জাহাজগুলোতে ভেসে বেড়াতে হয় চার থেকে পাঁচ দিন।তবে বনের নির্দিষ্ঠ কিছু এলাকা দেখে ভ্রমণ এক বা দুই দিনে শেষ করা ও সম্ভব।জাহাজে ভেসে বেড়ানোর সময় আমরা দেখতে পাই নদীর তীরে গাছগুলোর পাতা খেয়ে সমান করে রেখেছে সেখানকার […]

ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না

প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্যকে কে না ভালবাসে ? ইট -পাথরের শহর থেকে নাগরিক ব্যস্ততার অবসরে মানুষ ছুটে যায় প্রকৃতিরই কাছে । প্রকৃতি যদি ফুলের সমাহারে পরিবেষ্টিত হয় তবে তো কথাই নেই । যেন ফুলের গন্ধে ঘুম আসবে না ।এমন  এক সৌন্দর্যমন্ডিত নানা রঙের রংধনুর মত চাদর বিছানো মাঠের নাম গদখালির পানিসারা গ্রাম। যা ফুলের রাজধানি বা ফুলের স্বর্গরাজ্য  হিসেবেই পরিচিত।তবে তা সখের বসে তৈরি করা বাসা বাড়ির আঙ্গিনার ফুলের বাগান নয়। না অন্য কোন দেশে নয়(কাশ্মীরের টিঊলিইপ বাগান নয়) আমাদের এই ছোট দেশেই অবস্থিত।যশোর শহর থেকে প্রায় ২৫-৩০কিঃমিঃ দুরে অবস্থিত দক্ষিণ-পশ্চিমে্র দুটি থানা ঝিকরগাছা ও শার্শা। এ দুটি থানার ৬টি ইউনিওনের ৯০টি গ্রামের প্রায় ৪হাজার বিঘা জমিতে এই ফুলের চাষ।মাঠের পর মাঠ যতদুর চোখ যাবে দিগন্তের সাথে মিশে যাবে ফুলের সমারোহ।লাল,নীল,হলুদ্‌,গোলাপী,কমলা […]

গাছে পেরেক ঠোকা সাইনবোর্ড এবং কয়েক মিনিট বাতচিত

দুইটা রুটি, একটা কলা আর সিগারেট খেয়ে পকেট ফক্কা। মানে গড়ের মাঠ। প্রাথমিক কৌতুহল তৈরী হয়েছিল একই সাইনবোর্ড ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কয়েকবার দেখে। তিতাস পাড়ের ব্রাক্ষণবাড়িয়া কিংবা আলাউদ্দিন খাঁর ব্রাক্ষণবাড়িয়াতে কি কাজে যাওয়া হয়েছিল তার বৃত্তান্ত অন্য কোন সময়ে বলা যাবে। কিন্তু যে কৌতুহল তৈরী হয়েছিল একই সাইনবোর্ডের কয়েকবার দর্শণে তা বিরক্তি এবং রাগসহ চরমে ওঠে সেই সাইনবোর্ড গাছে পেরেক ঠোকা অবস্থায় দেখে। এ জিনিসটা আমি একদমই নিতে পারিনা। ব্রাক্ষণবাড়িয়া রেলসেটশন থেকে ফিরব ডাউন ট্রেনে। ভৈরববাজার। ফোনে ফ্লেক্সি করার টাকা নাই। শেষে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স নিয়েই কল করি। রহস্যময় সেই সাইনবোর্ডে দেওয়া নম্বরে।  কেননা আমার মনে হয়েছে, একটা জিজ্ঞাসাবাদ না করে হজম করা যায়না ব্যাপারটা। সাইনবোর্ডে নাম লেখা ন্যাচারাল আর্টিস্ট। সাথে ফোন নাম্বার ০১৯২০১৪৬৬৪৮। নম্বরের পেছনের মানুষটি বাঘা কোন চিত্রশিল্পীও হতে পারেন! সেই […]

মরে নদী..কান্দে নদী এবং প্রীতিলতার অস্তিত্ব

‘রুপালি নদীর মত ছড়ানো সিথি/ আর বাতাসে ভাসাইয়া দিলাম কালেরও চিঠি/ আর কইলজা ধইরা টান যে মারে আজব রঙ্গিলায়/  হায় কোন সে রঙ্গিলায়।’ প্রথমে গুণগুণ করে গাইতে গাইতে সর্বগ্রাসী দখলে দূষণে মৃতপ্রায় নদীর করুণ দশা দেখে খোলা গলায় গেয়ে ওঠে সুলতান- ‘মরে নদী কান্দে নদী দেখলোনাতো কেউ/ চোখের মধ্যে ছলাৎ ছলাৎ করে লোনা ঢেউ।’ দশ বছরের কন্যা প্রীতিলতার হাত ধরে চলতে চলতে সুলতান ভেবে দিশেহারা হয় এই ভেবে যে, মানুষের লোভের কাছে একটি খরস্রোতা নদীও কেমন অসহায়! ২৯ বছরের ব্যবধানে প্রেমের নদীটার আদি চ্যানেল মরে যায়। আর পুরো বুড়িগংগা হয় দখল দূষণে একাকার। আত্মজাকে নদী দেখাতে না পারার কষ্ট কুড়ে খায় সুলতানের মন। ম্লান হেঁসে ওঠে সুলতান। কন্যাকে বুকের মাঝে আরো আপন করে টেনে নেয় সে। বিড়বিড় করে বলে ওঠে, […]

ময়লার ভাগাড় এখন বাবুল হোসেনের ফুলের নার্সারী

রাজধানীর ধানমণ্ডি লেকের কলাবাগান অংশে রাস্তার পাশ দিয়ে গড়ে উঠেছে ফুলের নার্সারী। বাহারি রঙ্গের ফুল শোভা পাচ্ছে নার্সারীগুলোতে। পথচারীরা একটু থেমে থেমে উপভোগ করে এ প্রাকৃতিক সৌন্দয্য। এক বছর আগেও এখানে ছিল ময়লার ভাগার, নাকে কাপর চেপে পথচারীদের পার হতে হতো এই অংশটুকু। কিন্তু বাবুলের নার্সারী পাল্টে দিয়েছে সেই পেক্ষাপট। এমনটাই জানালেন রাইসা নার্সারীর মালিক বাবুল হোসেন। বাবুল হোসেন ২০১৫ সালের শেষের দিকে নড়াইল থেকে কাজের খোঁজে এসেছিলেন ঢাকায়। কোথাও কাজ না পেয়ে ধানমণ্ডি লেকের কলাবাগান অংশের রাস্তার পাশের ময়লার স্তুপ পরিস্কার করে শুরু করেন ফুল ও ফল গাছের চারা বিক্রি। এরপর নিজেই চারা তৈরি করা শুরু করেন। ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন নার্সারী। আগে একটি নার্সারীতে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকায় এখানে কাজ করতে তেমন বেগ পেতে হয় নি তার। প্রাথমিক […]

দায়মুল কবিরাজের কথা : হারিয়ে যাচ্ছে ভেষজ গাছগাছড়া

গাংনী উপজেলার গাঁড়াডোব গ্রামের ইসলামপুর পাড়ায় বাস দায়মুল কবিরাজের। নামে কবিরাজ হলেও আসলে তিনি কবিরাজি করেন না। তার কাছে আমাদের গ্রামগঞ্জে পাওয়া ভেষজ গুণ সম্পন্ন গাছের বই আছে। আর সেই বই দেখে ভেষজ গাছ চিনে তা সংগ্রহ করে সেগুলোকে রোদে শুকিয়ে তিনি বিভিন্ন আয়ুর্বেদ কোম্পানির কাছে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে সংসার চালান। যখন আমি তার বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম তখন তার ঘরের পিছনে এবং উঠোনে অনেক পূনর্ণভা গাছ দেখলাম। কিছু সদ্য তুলে এনে রাখা হয়েছে। আর কিছু গাছ কেটে টুকরো করে শুকোতে দেওয়া হয়েছে। এর  সাথে আছে কালোমেঘ, তুলসি, বাসক সহ আরো অনেক ভেষজ গাছ। আমি আশাবাদী হয়ে উঠেছিলাম এটা ভেবে যে হয়ত এই সব ভেষজের চাষ হচ্ছে। কিন্তু জানা গেল এগুলো তিনি লেবার দিয়ে নানা গ্রামের ঝোড় জংগল থেকে […]

গণপরিবহণ যেন আয়না

আগে বাসে বা যানবাহনে লেখা থাকত, ‘ব্যবহারে বংশের পরিচয়’, ‘সদা সত্য কথা বলিবে’, ‘মিথ্যা বলা মহাপাপ’, ‘সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি’, ‘লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু’। এখন আর এগুলো নেই। এখন দেখি, ‘হাফ পাশ নাই’, ‘১০০০ ও ৫০০ টাকার নোট ভাংতি নাই’, ‘ইহা ছয়জনের সিট’। প্রতিদিন বাসে বা লেগুনায় ভার্সিটিতে যাই। মাঝেমাঝে রেসলিংয়ের রেফারির ভূমিকা পালন করতে হয়। এমন একটা দিন নেই, কন্ডাক্টরের সঙ্গে যাত্রীদের ঝগড়া হয় না। যাত্রী বলে, ‘আমি স্টুডেন্ট। হাফ ভাড়া।’ কন্ডাক্টর বলে, ‘স্টুডেন্ট তো তাইলে পড়তে পারেন। পড়েন না, কী লেখা আছে?’ আগ বাড়িয়ে মাঝে মাঝে সমাধান করি। কিন্তু হাল আমলে সিটিং সার্ভিস বন্ধের অভিযান শুরুর পর ঝগড়া বেড়েছে। যাত্রীরা এখন কিলোমিটার হিসেবে টাকা দিতে চায়। কন্ডাক্টর চায় আগের ভাড়া। হায়রে কী ঝগড়া! আমি প্রতিদিন বাসে […]