বিভাগ: বৈষম্য

মেঘের মতো ভাসমান ওরা

ওরা সাত-আটজন বন্ধু। একজন শুধু মেয়ে।ওরা মেঘের মতো যেন ভাসমান । মহা সড়কের পাশে যাত্রী-ছাউনিতে, কখনো রস্তার পাশে ওদের বসবাস। রাস্তার পাশেই থাকা, রাতের ঘুমও এখানেই।ওরা বিভিন্ন দরিদ্র পরিবার থেকে এখানে এসেছে। বাবা-মার কোন খোঁজ নেই।নেই কোন পরিবারের সন্ধান। সারাদিন এদিক ওদিক ঘুরেফিরে মানুষের কাছে হাত পাতে। কখনো কেউ একটু খাবার দিলে তা ভাগ করে খেয়ে নেয়।মাঝে মাঝে ভাঙ্গা প্লাস্টিক বা পুরনো জিনিস সংগ্রহ করে কিন্তু নিয়মিত নয়। হোটেলের সামনে গিয়ে দাড়িয়ে থাকে। আর কউকে কিছু খেতে দেখলে বলে মামা একটু খাবার দেন। পাঁচটা টাকা দেন কিছু খাব। কোন সময় কেউ একটা খাবারের প্যাকেট দিলে ওরা ভাগ করে খায়। যে প্রথমে খাবারটি পায় ও নিজে মাখায়ে অন্যদের এক লোকমা-দুলোকমা করে মুখে তুলে দেয়।কখনো বেশি খিদে পেলে খাবারের প্যাকেট নিয়ে  মারামারি […]

নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হিজড়া সম্প্রদায়

আমিঃ কত বছরে আপনারটা জানতে পারলেন? তিনিঃ ১২ বছরে আমিঃ এর আগে কি ছিলেন? ছেলে না মেয়ে? তিনিঃ  জানাডা কি খুবই জরুরী? আমিঃ  না লাগবে না। বাদদেন। আপনের একটা ইন্টার্ভিউ নিমু। রেকর্ড করি? তিনিঃ  নাহ, সর্দারনী জানতে পারলে খবর আছে। আমিঃ  তাইলে লেইখা লই? তিনিঃ  আমার নাম দিয়া ছাপাইবেন,না? আমিঃ  না চাইলে নাম দিমু না। সর্দারনী থাকে কই? তিনিঃ   (উপড়ে দেখিয়ে বলল) অনেক বড় নেটওয়ার্ক…… আমিঃ  নেটওয়ার্ক এর অফিস কই? তিনিঃ   আমাগোডা বাঁধনে, বিশ্বরোড, কুরিল চৌরাস্তা। আমিঃ আপনারা মাইনশের বাসায় গিয়া চাঁদাবাজি করেন কেন? তিনিঃ আপনাগো ঈদ আইলে পোলাপাইন বড় মাইনশের কাছে চাঁদাবাজি করে কেন? আমিঃ অইডাতো বকশিস চায়, অইডা চাঁদাবাজি না। তিনিঃ আমগো বাচ্চা হইবো না, উপরওয়ালায় আমাগোরে এমনে বানাইসে। আমগোর ও তো শখ হয় বাচ্চাগো কুলে […]

পথশিশুদের ঈদ ঈদের দিন তারা বড়োলোকদের দরজায় দরজায় ঘুরে বেড়ায় থালা হাতে । কেউ দেয় । কেউ দেয়না

এই ছোট্ট ফুটফুটে শিশুটির নাম লিমা। বয়স ১২ বছর। লিমা সাভারের একটি ব্রাক স্কুলে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে । লিমার বাবা ভাঙারির দোকানে কাজ করে সংসার চালান আর মা কয়েক বছর যাবৎ অসুস্থ । তিন ভাইবোনের মধ্যে লিমা মেঝো। সংসারে আর্থিক অনটন লেগেই থাকে তাই লিমাকে পথে বের হতে হয় আর্থিক সাহায্যের জন্য । স্কুল ছুটি হলেই লিমা বেরিয়ে পড়ে কিছু টাকার সন্ধানে । রমজান মাসে লিমা প্রতিদিনই ইফতারের আগ মুহুর্তে জাবি ক্যাম্পাসে আসে । কেউ কিছু টাকা দেয় আবার কেউ কিছু খাবার তুলে দেয় ওর হাতে । এভাবেই পুরো রমজান মাসে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ টাকা আয় করে এবং তা থেকেই একটু একটু করে সে টাকা জমায় ঈদের জন্য । দরিদ্র ঘরের মেয়ে লিমাকে ঈদের কাপড় কিনে দেয়ার সামর্থ নেই […]

গরিবের জীবন ঋণেই পার প্রতি মাসে প্রায় বার হাজার চলে যায় ঋণের কিস্তি দিতে

খালা আমড়াঁ কত টাকা? মামা ৪০ টাকা কেজি। পেয়াজ কত? ৩৫ টাকা। এভাবে প্রতিদিনই খালার সাথে কথা হয়। আজ আপনাদের তার জীবনের গল্প শোনাবো। খালার নাম ফাতেমা। বয়স ৬৫ বা তার বেশি। চার মেয়ে আর এক ছেলে। সবাইকে বিয়ে দিয়ে একেবারে ছোট মেয়ে আর  স্বামী নিয়ে তার সংসার।গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ। ঢাকায় এসেছে বিশ বছরের বেশি। প্রথম কয়েক বছর বিভিন্ন কাজ করলেও বিগত পনের বছর ধরে কাঁচামাল বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছে। দু-বছর হলো একটা বড় দোকান হয়েছে। আগে রাস্তার পাশে বসে বিক্রি করতো। প্রতিদিন ভালোই বেঁচা-বিক্রি হয় । কিন্তু ভালো থাকা আর হয় না। দোকান ভাড়া আর বাসা ভাড়া মিলে আট হাজার খরচ হলেও প্রতি মাসে প্রায় বার হাজার চলে যায় ঋণের কিস্তি দিতে। দীর্ঘ দশ বছর ঋণের বোঝা বইছে তারপরও […]

ঢাকার বাসে “দীপাবলী”

মহাখালী থেকে যাবো উত্তরা। পাবলিক বাসে উঠেছি । কন্ডাক্টটর সিট আছে বলে যদিও তুলেছেন দেখি সিট ফাঁকা নেই । আরও দুজন নারী বাসের হ্যাণ্ডেল ধরে দাড়িয়ে আছেন । একজনের পরণে জিনস ও ফতুয়া। অন্যজন সালোয়ার কামিজ । আনুমানিক বয়স ২৫/২৬ ।জিনস পরা মেয়েটির হাতে ছোট একটা পার্স ও বই । বইয়ের নাম “সাতকাহন” । লেখক সমরেশ মজুমদার । এ বইটি আমি পড়েছি বেশ আগে । বইয়ের একটি প্রধান নারী চরিত্রের নাম দীপাবলী । ভীষণ স্বাধীনচেতা । সেই বইয়ের একটি জায়গায় এমন বর্ণনা আছে দীপাবলী পাবলিক বাসে উঠেছে । বাসে সিট নেই । এক যাত্রী দীপাবলীকে দাড়িয়ে নিজের সিট ছেড়ে দিয়ে বসতে বললে দীপাবলী বলেছিল , “নারীদের এত অবলা ভাবছেন কেন ? পুরুষরা দাড়িয়ে যেতে পারলে আমি দাড়িয়ে যেতে পারব না […]

রেলের টিকিট বিড়ম্বনা, অনলাইনের টিকিট কালোবাজারে!!

বর্তমানে কোনরকম ঝক্কি-ঝামেলা ছাড়াই চলাচলের সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হচ্ছে রেলওয়ে। ঈদের সময় তো রেলের গুরুত্ব বহুলাংশে বেড়ে যায় । ঈদের টিকেট পাওয়া মানেই যেন সোনার হরিণ পাওয়া। এক্ষেত্রেও সবার প্রথম পছন্দ রেলওয়েই। কিন্তু নির্দিষ্ট দিনে স্টেশনে গিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে টিকেট কেনার ঝামেলাও কম নয়। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের অনেকেই আবার দালালের খপ্পরে পড়ে বেশি টাকা দিয়ে টিকেট কেটে বাড়ি ফেরেন। এই সমস্যা সমাধানের লক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ে ২০১৫ সাল থেকে অনলাইন সেবা চালু করে। এটি সময়োপযোগী হলেও এটিই বর্তমান সময়ের যেন প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনলাইনের টিকেটগুলো যেন ভূতের মত মুহূর্তের মধ্যেই উধাও হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ৮ টায় মোবাইল-অনলাইনে টিকিট ছাড়া হয়। কিন্তু ঘড়ির কাঁটায় ঠিক সেকেন্ডে সেকেন্ড যখন ৮ টা হয় তখনই শেষ হয়ে যায় […]

শ্রম শোষণের চিত্র: মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভদের কথা

ঔষধ শিল্প এখন দেশের একটি অন্যতম সম্ভাবনাময় শিল্প। দেশে এখন ১৬৯টি অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের কারখানা রয়েছে, যাদের আভ্যন্তরীণ বাজার ১৩ হাজার কোটি টাকার। বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধ। সেই বাজারটি ৬০০ কোটি টাকার। গার্মেন্টস শিল্পের পরেই ঔষধ শিল্পকে একটি অন্যতম রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ সবই আমাদের জানা কথা। অবশ্যই গর্বেরও বিষয়। কিন্তু, এই বিপুল পরিমাণ আয় যারা সৃষ্টি করছে, ঔষধ শিল্পে নিয়োজিত সেই বিপণন কর্মীদের হাল-হকিকতের খবর কেউ তেমন রাখে কী? এদের সংখ্যা সঠিকভাবে নিরুপণ করা দুষ্কর। আনুমানিক এক লক্ষ মানুষ এই কাজে নিয়োজিত। বেশিরভাগই তরুণ। ক্লিন শেভড, সুদর্শন, পরিপাটি এইসব তরুণদের জীবনের অজানা গল্প অনুসন্ধান করতে আড্ডাচ্ছলে কথা বলছিলাম কয়েকজনের সাথে। প্রথমেই একজন হাসতে হাসতে বললেন, “যা খুশি লেখেন ভাই, কোনো সমস্যা নেই। আমাদের কথা কেউ বলে […]

রাজু বন নেহি জেন্টলম্যান সর্বসাধারণ

শ্রীমঙ্গলের পাশেই বুড়বুড়িয়া চা বাগান । এ বাগানের চা শ্রমিক সিধু গোয়ালা । একসময় শ্রীমঙ্গলের নানা বাড়িতে গরুর দুধ বিক্রি করতেন । কিন্তু এমন একটা সময় এলো যখন কর্পোরেট কম্পোনীগুলো প্যাকেটজাত তরল দুধ বাজারজাত করল তখন লোকজন সিধুর কাছে থেকে দুধ নেওয়া বাদ দিল । সিধুর বাবা চাকরি করতেন চা শ্রমিক হিসেবে । চা-বাগানগুলোতে চা শ্রমিকের কাজ পাওয়া যায় উত্তরাধিকার ভিত্তিতে ।সিধুর বাবার পর সিধু চা শ্রমিক হিসেবে কাজে যোগ দিল । সেই সকাল বেলা ছয়টার সময়  চা-কারখানার সামনে গিয়ে লাইনে দাড়াতে হয় ।সেখানে টি-ম্যানেজার , টিলাসাহেব , কুলি সর্দার উপস্থিত থাকেন । টিলা সাহেব শ্রমিকদের নাম ধরে ডাকেন । অনেকটা স্কুলে ছাত্র উপস্থিতির হার যেভাবে জানেন টিচাররা । এরপর কুলি সর্দার চা-বাগানের কে কোন স্থানে কাজ করবে এলাকা ভাগ […]

আম্মার কাপড় বিক্রি করি সর্বসাধারণ

নাম তার রহিমুদ্দি । বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ।  ঢাকায় বসবাস । বছর তিনেক ধরে । নির্দিষ্ট কোন পেশা নেই । কখনো নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করেন । কখনো রিকশা চালান । কখনো পাখি বিক্রি করেন। কখনোবা পত্রিকা ফেরি করেন । কিন্তু  যে কাজটি প্রতিদিন করেন বছরের পর বছর সেটি হোল জাতীয় পতাকা বিক্রি । এ কাজটি করেন সকাল আটটা থেকে দশটা । মুলত এ কাজটি করেন নেশা হিসেবে । লাভের জন্য নয় । অদ্ভুত তার খেয়াল । থাকেন বাড্ডা এলাকাতেই । ওখানেই তার সাথে পরিচয় । জুন মাসের এক সকালে । রমজান মাস । কালো কাপড় ঘেরা একটা ছোট চায়ের দোকানে তার দেখা পাই । জানতে চাই , : জাতীয় পতাকা বারোমাস বিক্রির সাধ জাগল ক্যান ? তিনি বলেন , ছিলাম […]

“বর্ষা হলি কানতি কানতি ভিজতে ভিজতে একা পথ হাটি । ” ওয়াসিম পাগলা সর্বসাধারণ

সাভার থেকে বাসে উঠেছি । ঢাকা ফিরছি । পাশের সিটে যিনি বসা তার বেশভুষা একটু অন্যরকম । মাথায় শাদা পাগড়ি । চোখে সানগ্লাস ।বাঁ হাতে অন্তত ছয় সাতটা ব্রেসলেট। একটিতে লেখা , ” হু কেয়ার্স” । পরণে জিনস প্যান্ট ও ফতোয়া । স্বভাবতই আগ্রহ জাগল । নাম জানতে চাইলাম , বললেন ওয়াসিম পাগলা । আমি > নামের শেষে পাগলা কেন ? ওয়াসিম >কেন কোন সমস্যা ? আমি > না সমস্যা নাই । জাস্ট আগ্রহ । ওয়াসিম >জগতে কিডা না পাগলা ? আমি > বাড়ি কি খুলনা অঞ্চলে ? ওয়াসিম >বুঝিছেন ক্যামনে ? আমি > “কিডা” বলায় । ওয়াসিম >ওহ । যশোরে । এহন থাকি সাভারের হেমায়েত পুরে । আমি > কি করেন ? ওয়াসিম > গান বান্ধি । আগে সেনাবাহিনীতে […]